স্পেশাল লিগ্যাল ডসিয়ার | কেস ফাইল BL-2026-LGL-KASBA-NI138: দীর্ঘ এক দশক ধরে পাওনা ৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালতের সাজা ওয়ারেন্ট (CDMS কোড 18XN7) থাকা সত্ত্বেও কসবায় প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন আসামি আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া। অন্যদিকে পাওনা অর্থ না পেয়ে বিনা চিকিৎসায় ধুঁকে ধুঁকে মারা গেছেন বাদী ছিদ্দিকুর রহমান। সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে গ্রেফতারে আইজিপির কাছে সন্তানের আকুতি ও ব্ল্যাক লেন্স ২.০-এর বিশেষ অনুসন্ধানী অডিট।
স্পেশাল কেস ডসিয়ার | প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও আইনি অসামঞ্জস্য অডিট
কসবায় ৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ ও আদালতের সাজা ওয়ারেন্ট মাথায় নিয়েও প্রকাশ্যে আসামি: অর্থাভাবে ধুঁকে ধুঁকে বাদীর মৃত্যু, আইজিপির কাছে সন্তানের আকুতি
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজ্ঞ যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালত কর্তৃক এনআই অ্যাক্ট ১৩৮ ধারায় সাজা গ্রেফতারি পরোয়ানা (CDMS কোড 18XN7, প্রসেস নং ১২৭/২৫) জারির ১১ মাস পার হলেও পুলিশি ধরাছোঁয়ার বাইরে আসামি আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া। অন্যদিকে আত্মসাৎকৃত টাকা উদ্ধার না হওয়ায় চিকিৎসার অভাবে হাসপাতালে মারা গেছেন বৃদ্ধ বাদী মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান। সাজাপ্রাপ্ত আসামিকে দ্রুত গ্রেফতারের দাবিতে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (IGP) বরাবরে নিহতের সন্তানের আনুষ্ঠানিক আবেদন ও ব্ল্যাক লেন্স ২.০-এর বিশেষ আইনি অনুসন্ধান।
⚡ ৩০-সেকেন্ড এক্সিকিউটিভ ব্রিফ (30-Second Executive Brief)
- মূল ঘটনা: দীর্ঘ এক দশক ধরে পাওনা ৯ লাখ টাকা আত্মসাৎ এবং আদালতের এনআই অ্যাক্টের মামলায় গ্রেফতারি পরোয়ানা (সাজা ওয়ারেন্ট) থাকা সত্ত্বেও প্রকাশ্যে বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন কসবার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বিশ্বউড়ী গ্রামের মোঃ আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া।
- আদালতের নথি ও ওয়ারেন্ট: ব্রাহ্মণবাড়িয়ার যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালত কর্তৃক এনআই অ্যাক্ট-১৩৮ ধারার মামলায় (দায়রা মামলা নং-১৪০৪/২৪, সি.আর মামলা নং-২৭/২৪) গত ১৫/১১/২০২৫ইং তারিখে আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি করা হয় (সিডিএমএস এন্ট্রি কোড: 18XN7, প্রসেস নং: ১২৭/২৫)।
- মানবিক ট্র্যাজেডি: নিজের চিকিৎসার টাকা জোগাড় করতে না পেরে এবং পাওনা অর্থ উদ্ধার না হওয়ায় অর্থাভাবে বিনা চিকিৎসায় গত ৭ এপ্রিল ২০২৬ তারিখে ঢাকার কল্যাণপুর ইবনে সিনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মামলার মূল বাদী মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান।
- প্রশাসনিক পদক্ষেপ: স্থানীয় পুলিশের রহস্যজনক নিষ্ক্রিয়তায় ক্ষুব্ধ ও শঙ্কিত হয়ে আদালতের সাজা পরোয়ানা কার্যকর করতে গত ০৪/১০/২০২৬ইং তারিখে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বরাবর সরাসরি লিখিত আবেদন ও অভিযোগ দাখিল করেছেন প্রয়াত বাদীর সন্তান মোঃ সাইফুল ইসলাম।

🔍 ছবিতে ক্লিক করে পূর্ণাঙ্গ রেজল্যুশনে দেখুন
ঘটনার নেপথ্য ও এক দশকের আর্থিক প্রতারণা
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া) প্রতিনিধি ও অনুসন্ধানী সেল: 'ব্ল্যাক লেন্স ২.০' (Black Lens 2.0)-এর বিশেষ অনুসন্ধানে প্রাপ্ত নথিপত্র ও অভিযোগ পর্যালোচনা করে জানা যায়, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার পৌর এলাকার ৮নং ওয়ার্ডের শান্তিপাড়ার বাসিন্দা মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান-এর কাছ থেকে ব্যবসায়িক ও ব্যক্তিগত প্রয়োজনে ৯,০০,০০০/- (নয় লাখ) টাকা ধার নেন উপজেলার গোপীনাথপুর ইউনিয়নের বিশ্বউড়ী গ্রামের মৃত আবু তাহের ভূঁইয়া (রঙ্গু মাস্টার)-এর ছেলে মোঃ আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া (৫৫) (মোবাইল নম্বর: ০১৭১১-৮৪৪৪৪৯)।
টাকা নেওয়ার পর থেকেই আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়া পাওনা অর্থ পরিশোধ না করে একের পর এক সময়ক্ষেপণ ও তালবাহানা শুরু করেন। বছরের পর বছর ঘুরিয়ে প্রায় এক দশক (১০ বছর) ধরে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ আটকে রেখে ভুক্তভোগী পরিবারটিকে চরম আর্থিক সংকটে নিমজ্জিত করেন তিনি। পাওনা টাকা ফেরত চাওয়ায় বিভিন্ন সময় নানারূপ হুমকি-ধমকি এবং সামাজিক প্রভাবের অপব্যবহারের অভিযোগও রয়েছে তার বিরুদ্ধে।
🔍 ছবিতে ক্লিক করে পূর্ণাঙ্গ রেজল্যুশনে দেখুন
লিগ্যাল ডসিয়ার ও আদালতের সাজা পরোয়ানা অডিট
দীর্ঘদিন পাওনা টাকা উদ্ধারে ব্যর্থ হয়ে নিরুপায় অবস্থায় ভুক্তভোগী মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান বিজ্ঞ আদালতের দ্বারস্থ হন। ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিজ্ঞ আদালতে ১৮৮১ সালের দ্য নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস অ্যাক্টের (The Negotiable Instruments Act, 1881) ১৩৮ ধারায় মামলা দায়ের করা হয়। মামলার বিচারিক কার্যধারা শেষে আসামির অপরাধ প্রমাণিত হওয়ায় বিজ্ঞ আদালত সাজা ও গ্রেফতারি পরোয়ানা জারি করেন।
আদালতের নথিতে স্পষ্ট উল্লেখ রয়েছে, মোঃ শাহজাহান মিঞা (বেঞ্চ সহকারী, যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ১ম আদালত) এবং কোর্ট পুলিশ পরিদর্শকের কার্যালয়, ব্রাহ্মণবাড়িয়া কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও সিলমোহরকৃত সাজা গ্রেফতারি পরোয়ানাটি কসবা থানায় কার্যকর (তামিল) করার জন্য প্রেরণ করা হয় গত ১৫ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে।
🔍 নথিতে ক্লিক করে পূর্ণাঙ্গ রেজল্যুশনে দেখুন
বিনা চিকিৎসায় বাদীর মৃত্যু: একটি পরিবারের নীরব কান্না
আদালতে বিচার চলার সময়ই মারাত্মক শারীরিক অসুস্থতায় পড়েন অসহায় বৃদ্ধ পিতা মোঃ ছিদ্দিকুর রহমান। পরিবারের একমাত্র সঞ্চিত অর্থ আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়ার কাছে আটকে থাকায় চিকিৎসার ন্যূনতম খরচ জোগাড় করা পরিবারের পক্ষে অসম্ভব হয়ে পড়ে। চরম অর্থাভাবে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও আধুনিক চিকিৎসা নিশ্চিত করা যায়নি।
আইন বনাম দাপট: সাজাপ্রাপ্ত আসামি কীভাবে প্রকাশ্যে?
আদালত কর্তৃক আসামির বিরুদ্ধে সাজা পরোয়ানা জারি হওয়ার পর দীর্ঘ ১১ মাস অতিক্রান্ত হয়েছে। পুলিশের ডিজিটাল অপরাধ তথ্য ব্যবস্থাপনা সিস্টেমে (CDMS) ওয়ারেন্ট কোড অন্তর্ভুক্ত থাকা সত্ত্বেও সাজাপ্রাপ্ত আসামী আনোয়ার হোসেন ভূঁইয়াকে গ্রেফতার করা হয়নি।
অভিযোগ রয়েছে, কসবা থানার নাকের ডগায় নিজ এলাকা গোপীনাথপুরের বিশ্বউড়ী এবং কসবা পৌরসভার বিভিন্ন প্রকাশ্য স্থানে নিয়মিত বুক ফুলিয়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন এই আসামি। প্রকাশ্য হাট-বাজার ও জনসম্মুখে তার নিয়মিত আনাগোনা থাকলেও স্থানীয় পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে তাকে 'খুঁজে না পাওয়ার' যে চিরাচরিত অজুহাত তৈরি হয়, তা পুরো বিচার ব্যবস্থার কার্যকারিতাকে প্রশ্নের মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয়দের প্রশ্ন—যেখানে সাধারণ অপরাধীদের গ্রেফতারে পুলিশ তড়িৎ তৎপরতা দেখায়, সেখানে একজন সাজাপ্রাপ্ত আর্থিক অপরাধী কীভাবে দীর্ঘ দিন পুলিশের ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে?
আইজিপি সদর দপ্তরে বাদীর সন্তানের লিখিত আকুতি
পিতার মৃত্যুর পর এবং স্থানীয় পর্যায়ে বিচার না পেয়ে গত ০৪ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে বাংলাদেশ পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি), পুলিশ সদর দপ্তর, ঢাকা বরাবরে একটি আনুষ্ঠানিক অভিযোগপত্র দাখিল করেন প্রয়াত বাদীর সন্তান মোঃ সাইফুল ইসলাম (৪০)।
🔍 আবেদনে ক্লিক করে পূর্ণাঙ্গ রেজল্যুশনে দেখুন
উক্ত অভিযোগপত্রের অনুলিপি একই সাথে আইন প্রয়োগকারী ও প্রশাসনিক গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরগুলোতে প্রেরণ করা হয়েছে:
- উপ-পুলিশ মহাপরিদর্শক (ডিআইজি), চট্টগ্রাম রেঞ্জ।
- পুলিশ সুপার (এসপি), ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
- মাননীয় সংসদ সদস্য (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪), আলহাজ্ব মুশফিকুর রহমান।
- সহকারী পুলিশ সুপার (কসবা সার্কেল), ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
- উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও), কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া।
- অফিসার ইনচার্জ (ওসি), কসবা থানা।
প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা ও ব্ল্যাক লেন্সের অনুসন্ধানী পর্যবেক্ষণ
১. সিডিএমএস এন্ট্রির কার্যকারিতা কোথায়?
পুলিশের ডিজিটাল ডাটাবেজে 18XN7 কোডে ওয়ারেন্ট তালিকাভুক্ত থাকার পরও কসবা থানা পুলিশ কেন আসামীকে গ্রেফতার করেনি? এটি কি মাঠপর্যায়ের চরম দায়িত্বহীনতা নাকি কোনো গোপন প্রভাবশালী মহলের অদৃশ্য সুবিধা?
২. আইনের শাসন বনাম প্রভাবশালীদের দায়মুক্তি
আদালত যেখানে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করে সাজা পরোয়ানা দিয়েছে, সেখানে মাঠপর্যায়ে তা ঝুলিয়ে রেখে একজন বৃদ্ধ ভুক্তভোগীকে মৃত্যুর কোলে ঠেলে দেওয়ার দায় কে নেবে?
৩. জরুরি হস্তক্ষেপের দাবি
পুলিশ সদর দপ্তর ও আইজিপির কাছে পেশ করা এই আবেদন যদি দ্রুত কার্যকর না হয়, তবে আইনের প্রতি সাধারণ ভুক্তভোগী মানুষের আস্থা তলানিতে গিয়ে ঠেকবে।
ব্ল্যাক লেন্স ২.০ এই মামলার পরবর্তী আইনি গতিপ্রকৃতি এবং কসবা থানা পুলিশের গৃহীত পদক্ষেপ গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ করছে।
অফিসিয়াল ইনভেস্টিগেটিভ ডসিয়ার ও প্রমাণক সংগ্রহ
আদালতের সাজা গ্রেফতারি পরোয়ানা, পুলিশ সদর দপ্তরের অভিযোগপত্র এবং পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধানী প্রতিবেদন ডাউনলোড করুন।



