অপরাধ ও আইনি অডিট কেস রেফারেন্স: BL-KASBA-2026-LND-014
কসবায় বসতভিটা দখল, গাছ কর্তন ও প্রবীণ বৃদ্ধার ওপর হামলা: ৫ জনের বিরুদ্ধে থানায় এজাহার
📍 ঘটনাস্থল: জগন্নাথপুর মৌজা, ৩নং ওয়ার্ড, গোপীনাথপুর, কসবা 📅 তারিখ: ৭ অক্টোবর ২০২৬ ⚖️ আইনি স্থিতি: কসবা থানায় এজাহার দাখিল

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় বসতভিটার জমি জবরদখল, মূল্যবান ফলদ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা এবং বাধা দেওয়ায় এক প্রবীণ বৃদ্ধাসহ পরিবারের সদস্যদের ওপর হামলার গুরুতর অভিযোগ পাওয়া গেছে। এ ঘটনায় ভুক্তভোগী জমির মালিক মোঃ সাদেকুল ইসলাম বাদী হয়ে কসবা থানায় পাঁচজনের নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে একটি লিখিত এজাহার দায়ের করেছেন।

কসবায় বিরোধপূর্ণ ভূমির পরিমাপ ও স্থানীয়ভাবে নথিপত্র পর্যালোচনা
সরেজমিন অনুসন্ধান: কসবার জগন্নাথপুরে বিরোধপূর্ণ ভূমির পরিমাপ ও স্থানীয় গণ্যমান্যদের উপস্থিতিতে নথিপত্র পর্যালোচনার দৃশ্য।

ঘটনার বিবরণ ও আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি

অভিযোগপত্র অনুযায়ী, গত ৭ অক্টোবর ২০২৬ তারিখে কসবা থানাধীন গোপীনাথপুর ইউনিয়নের জগন্নাথপুর মৌজার ১৬২ নম্বর দাগের ৪ শতক ৮৩ পয়েন্ট জমিতে অভিযুক্তরা রামদা, লাঠি ও লোহার রডসহ দেশীয় অস্ত্রে সজ্জিত হয়ে অনধিকার প্রবেশ করে। এ সময় তারা জমিতে থাকা ৪টি পিচু গাছ এবং ১১টি কাঠ গাছ জোরপূর্বক কেটে ফেলে। এতে আনুমানিক দুই লাখ টাকার আর্থিক ক্ষয়ক্ষতি সাধিত হয়। নালিশি সম্পত্তিটি জগন্নাথপুর মৌজার ১২১৩ নম্বর খতিয়ানের অধীন ‘মুড়া’ শ্রেণির জমি হিসেবে তফসিলে উল্লেখ রয়েছে।

📋 নালিশি সম্পত্তির তফসিল ও ফরেনসিক বিবরণী
মৌজা ও জে.এল নং জগন্নাথপুর, জে.এল নং- ৫০
খতিয়ান ও দাগ নং খতিয়ান নং- ১২১৩, দাগ নং- ১৬২
জমির পরিমাণ ও শ্রেণি ০৪ শতক ৮৩ পয়েন্ট (মুড়া শ্রেণি)
চৌহদ্দি বিবরণ উত্তরে মোছলেম মিয়া, দক্ষিণে মসজিদ, পূর্বে সরকারি রাস্তা, পশ্চিমে বাদী নিজ
ক্ষয়ক্ষতির বিবরণ ৪টি পিচু গাছ ও ১১টি মূল্যবান কাঠ গাছ কর্তন (আনুমানিক ২ লাখ টাকা ক্ষতি)

হামলা, শ্লীলতাহানি ও ছিনতাই

গাছ কাটায় বাধা দিলে হামলাকারীরা বাদী সাদেকুল ইসলাম ও তাঁর সত্তর বছর বয়সী মা মোছাঃ আছিয়ার ওপর চড়াও হয়। এজাহারে বর্ণিত বিবরণ অনুযায়ী, ১ ও ২ নম্বর অভিযুক্ত শ্বাসরোধ করে হত্যার চেষ্টা চালায় এবং লাঠি দিয়ে পিটিয়ে শরীরের বিভিন্ন স্থানে নীলাফুলা জখম করে। এ সময় প্রবীণ নারীর গলা থেকে আনুমানিক এক লাখ টাকা মূল্যের এক ভরি ওজনের স্বর্ণের চেইন ছিনিয়ে নেওয়া হয় এবং ৩ নম্বর অভিযুক্ত কাপড় টেনে তাঁর শ্লীলতাহানি ঘটায়। পরবর্তীতে ৫ নম্বর অভিযুক্ত তলপেটে সজোরে লাথি মারলে গুরুতর আহত হন বৃদ্ধা আছিয়া। স্থানীয় লোকজন এগিয়ে এসে তাঁদের উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য আখাউড়া উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে যান।

অভিযুক্তদের পরিচয় ও রাজনৈতিক প্রভাব

এজাহারে নামীয় অভিযুক্ত ব্যক্তিরা হলেন—আখাউড়ার নোয়ামুড়া এলাকার নুরুল ইসলাম (৪৫), বায়েজিদ (২৩), কালু মিয়া (৫০), নাজমুল (২৫) এবং কসবার জগন্নাথপুর (বাবনা মুড়া) এলাকার রূপ মিয়া (৫০)।

স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, অভিযুক্ত বায়েজিদের পিতা মোঃ শরীফ স্থানীয় আওয়ামী যুবলীগের রাজনীতির সাথে সক্রিয়ভাবে যুক্ত এবং তাঁর বিরুদ্ধে রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে ও ভুয়া নথিপত্র উপস্থাপন করে জমি জবরদখলের অভিযোগ উঠেছে। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির রাজনৈতিক তৎপরতা ও প্রচারণার নথিপত্র রয়েছে। এছাড়া বিরোধপূর্ণ ভূমির পরিমাপ ও নথিপত্র পর্যালোচনা নিয়ে স্থানীয়ভাবে নানা তৎপরতার দৃশ্যও পরিলক্ষিত হয়েছে।

অভিযুক্ত বায়েজিদের পিতা মোঃ শরীফের রাজনৈতিক সংশ্লিষ্টতা
নথিপত্র ১: অভিযুক্তের পিতা মোঃ শরীফের রাজনৈতিক প্রচারণা ও স্লোগানযুক্ত সামাজিক মাধ্যমের পোস্ট।
রাজনৈতিক তৎপরতার ডিজিটাল প্রমাণ
নথিপত্র ২: স্থানীয় প্রভাব বিস্তারে ব্যবহৃত রাজনৈতিক তৎপরতার ডিজিটাল আর্কাইভ।

বর্তমান পরিস্থিতি ও ভুক্তভোগীদের শঙ্কা

ঘটনার পর থেকে অভিযুক্তরা দেশীয় অস্ত্র নিয়ে এলাকায় মহড়া দিচ্ছে এবং মামলা মোকদ্দমা করলে বাদী ও তাঁর পরিবারকে হত্যা করার হুমকি অব্যাহত রেখেছে বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়। ভুক্তভোগী পরিবার বর্তমানে চরম নিরাপত্তাহীনতায় দিনাতিপাত করছে এবং বিরোধপূর্ণ জমিতে পুনরায় রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষ ও বড় ধরনের অঘটনের আশঙ্কা প্রকাশ করে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের জরুরি আইনি হস্তক্ষেপ কামনা করেছে।

কসবা থানায় দাখিলকৃত এজাহারের অনুলিপি

কসবা থানায় দায়েরকৃত লিখিত এজাহারের অনুলিপি
দালিলিক প্রমাণ: কসবা থানার অফিসার ইনচার্জ বরাবর জমির মালিক মোঃ সাদেকুল ইসলামের দায়েরকৃত লিখিত এজাহারের কপি।
পূর্ণাঙ্গ এজাহার কপি দেখুন (HD Resolution)
⚠️ বিশেষ দ্রষ্টব্য ও সম্পাদকীয় নজরদারি

উক্ত প্রতিবেদনটি কসবা থানায় ভুক্তভোগীর দায়েরকৃত লিখিত অভিযোগপত্র (এজাহার) ও স্থানীয় প্রত্যক্ষদর্শীদের বক্তব্যের ভিত্তিতে তৈরি করা হয়েছে। যেকোনো পক্ষ আইনি বা দালিলিক ব্যাখ্যা প্রদান করলে তা পরবর্তী হালনাগাদে অন্তর্ভুক্ত করা হবে।