ব্ল্যাক লেন্স ২.০
কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া

স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) কসবা উপজেলা কার্যালয়ের ওয়েব পোর্টালে চরম ডিজিটাল স্থবিরতা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার ঘাটতি পরিলক্ষিত হয়েছে। সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী ডিজিটাল সেবা ও তথ্য হালনাগাদ করার কথা থাকলেও, দৃশ্যত তা মানা হচ্ছে না। সম্প্রতি এলজিইডি সদর দপ্তর থেকে জারি করা অফিস আদেশের ডেডলাইন এক মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও কসবা এলজিইডি’র পোর্টালে বাধ্যতামূলক তথ্যগুলো হালনাগাদ করা হয়নি, যা প্রাতিষ্ঠানিক স্বচ্ছতাকে মারাত্মকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

ওপেন সোর্স ইন্টেলিজেন্স (OSINT) এবং ডিজিটাল অডিটের মাধ্যমে কসবা এলজিইডি’র অফিশিয়াল ওয়েব পোর্টালের (lged.kasba.brahmanbaria.gov.bd) বর্তমান ডেটাবেস বিশ্লেষণ করে এই প্রশাসনিক অবহেলার চিত্র উঠে এসেছে।

সরকারি নির্দেশনার দৃশ্যত লঙ্ঘন
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এলজিইডি সদর দপ্তর গত ১ জুন ২০২৬ তারিখে একটি অফিস আদেশ জারি করে, যেখানে ২০ জুন ২০২৬-এর মধ্যে প্রতিটি উপজেলা পোর্টাল হালনাগাদ করার সুনির্দিষ্ট নির্দেশনা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু জুলাই মাসের শেষার্ধে এসেও কসবা এলজিইডি পোর্টালে এই নির্দেশনার কোনো প্রতিফলন দেখা যায়নি। পোর্টালের ‘এক নজরে’, ‘ভিশন ও মিশন’ এবং ‘সাংগঠনিক কাঠামো’ সর্বশেষ ২০২১ সালের মে মাসে আপডেট করা হয়েছে।

অডিটে প্রাপ্ত মূল অসঙ্গতিসমূহ

বক্তব্য প্রদানে নীরবতা
পোর্টালে পরিলক্ষিত এই তথ্যগত স্থবিরতা এবং ডিজিটাল নির্দেশিকা লঙ্ঘনের অভিযোগের বিষয়ে প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য জানতে কসবা উপজেলা প্রকৌশলী মো. মাজহারুল হক আকন্দের অফিশিয়াল ইমেইলে (ue.kasba@lged.gov.bd) ‘ব্ল্যাক লেন্স ২.০’-এর পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হয়।

সাংবাদিকতার রীতিনীতি ও স্বচ্ছতার স্বার্থে তাঁকে আনুষ্ঠানিক বক্তব্য প্রদানের জন্য ৪৮ ঘণ্টার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু নির্ধারিত সময় অতিবাহিত হওয়ার পরও তাঁর বা তাঁর দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত কোনো কর্মকর্তার কাছ থেকে কোনো ধরনের মন্তব্য বা ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের এই নীরবতা প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতার ক্ষেত্রে অনীহার বিষয়টিকেই আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।

তথ্য অধিকার আইন এবং স্মার্ট বাংলাদেশ বিনির্মাণের সরকারি নির্দেশিকা অনুযায়ী, প্রতিটি সরকারি দপ্তরের ওয়েব পোর্টাল নিয়মিত হালনাগাদ রাখা বাধ্যতামূলক। কসবা এলজিইডি দপ্তরের এই ডিজিটাল অবহেলা তথ্যের অবাধ প্রবাহকে যেমন বাধাগ্রস্ত করছে, তেমনি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে সাধারণ নাগরিকদের সম্পৃক্ত হওয়ার অধিকারকেও ক্ষুণ্ন করছে বলে মনে করছেন সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা। ঊর্ধ্বর্তন কর্তৃপক্ষের উচিত দ্রুত এই বিষয়ে প্রশাসনিক নজরদারি বৃদ্ধি করা।

#LGED