আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসে কসবা উপজেলা জাতীয় তথ্য বাতায়ন (kasba.brahmanbaria.gov.bd)-এর ওপর বিশেষ অনুসন্ধানী ও ফ্যাক্ট-চেক অডিট প্রতিবেদন। তথ্য অধিকার আইনের ধারা ৬ লঙ্ঘনের চিত্র, এক যুগ আগের স্থবির প্রকল্প তালিকা, বাতিলকৃত রাজনৈতিক পদ বহাল, শূন্য টেন্ডার কর্নার এবং অনুসন্ধানী প্রশ্নে প্রাতিষ্ঠানিক নীরবতার নেপথ্য তথ্য।

অডিট সারাংশ ও মেথডোলজি
- অডিটের আওতাভুক্ত পোর্টাল: কসবা উপজেলা জাতীয় তথ্য বাতায়ন (kasba.brahmanbaria.gov.bd)
- আইনি মানদণ্ড: তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ (ধারা ৬, ৯, ১০ ও ২০); পাবলিক প্রকিউরমেন্ট আইন ও বিধিমালা (PPR ২০০৮); সিটিজেন চার্টার নির্দেশিকা।
- অনুসন্ধান পদ্ধতি: ওয়েব স্ক্র্যাপিং, ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট বিশ্লেষণ, রিভার্স মেটাডাটা স্ক্যানিং, ড্রাইভ অডিট ও সরেজমিন তথ্য ক্রস-ম্যাচিং।
- অনুসন্ধানী পর্যবেক্ষণ মেয়াদ: ২০২৩–২০২৬ (আইসিটি সেল-১) ব্যাকএন্ড ও লাইভ অডিট | সেপ্টেম্বর ২০২৬
অডিট সূচিপত্র (ট্যাপ করে সরাসরি পড়ুন)
অডিট সূচক: এক নজরে কসবা উপজেলা তথ্য বাতায়নের চালচিত্র
১. অডিটের প্রেক্ষাপট
গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ সরকারের তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ৬ অনুসারে প্রত্যেক সরকারি কর্তৃপক্ষের তাদের গৃহীত যাবতীয় সিদ্ধান্ত, প্রস্তাবিত ও চলমান কার্যক্রম, নাগরিক সেবা, সম্পদ ও ক্রয় সংক্রান্ত তথ্য স্বপ্রণোদিতভাবে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা আইনত বাধ্যতামূলক। সরকারের ডিজিটাল রূপকল্প বাস্তবায়নে মাঠপর্যায়ের সরকারি দপ্তরগুলোর সাথে সাধারণ নাগরিকদের সরাসরি সেতুবন্ধন তৈরিতে “জাতীয় তথ্য বাতায়ন” (National Web Portal) একটি প্রধান ডিজিটাল মাধ্যম হিসেবে বিবেচিত।
প্রতি বছর ২৮ সেপ্টেম্বর আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস পালন করা হলেও মাঠপর্যায়ে তথ্যের অবাধ প্রবাহের বাস্তব চিত্র অনেক ক্ষেত্রেই প্রাতিষ্ঠানিক স্থবিরতার কবলে নিমজ্জিত। এ দিবসকে সামনে রেখে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার কসবা উপজেলা জাতীয় তথ্য বাতায়ন (kasba.brahmanbaria.gov.bd)-এর সার্বিক তথ্য উন্মুক্তকরণ, সেবা প্রদান প্রতিশ্রুতি এবং তথ্যের হালনাগাদ পরিস্থিতির ওপর একটি গভীর অডিট ও তথ্য-যাচাই (Fact-Check) পরিচালনা করেছে ‘ব্ল্যাক লেন্স’।
অনুসন্ধানী অডিটে দেখা যায়, বাতায়নটিতে আধুনিক ফ্রেমওয়ার্ক ও বহুবিধ মেনু দৃশ্যমান থাকলেও নাগরিকদের জন্য উন্মুক্ত থাকা বাধ্যতামূলক এমন সিংহভাগ তথ্যই হয় সম্পূর্ণ ফাঁকা, নয়তো বছরের পর বছর ধরে অকার্যকর অবস্থায় ফেলে রাখা হয়েছে। পাশাপাশি মাঠপর্যায়ে অনুসন্ধানী কাজের স্বার্থে দাপ্তরিক তথ্য চেয়ে পাঠানো আনুষ্ঠানিক পত্রের ক্ষেত্রেও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের নীরব থাকার প্রবণতা লক্ষণীয়, যা তথ্যের অবাধ অধিকার ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতাকে সরাসরি চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলে।

২. অনুসন্ধানী প্রশ্নের বিপরীতে প্রাতিষ্ঠানিক নীরবতা ও তথ্যের সংকট
তথ্য অধিকার আইনের মূল দর্শন হলো জনসাধারণের কাছে প্রশাসনের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা। তবে অনুসন্ধানী সাংবাদিকতার ক্ষেত্রে মাঠপর্যায়ে তথ্য প্রাপ্তির বাস্তব অভিজ্ঞতা একেবারেই ভিন্ন।
🔍
অনুসন্ধানী কেস-স্টাডি: কসবায় পরিবেশ বিপর্যয় ও প্রশাসনিক তথ্যের অস্বচ্ছতা
কসবা উপজেলার পরিবেশ ও অবৈধ ড্রেজিং সংক্রান্ত একটি তথ্যভিত্তিক অনুসন্ধানের (“Black Lens 2.0 – Advanced Satellite Forensics & Volumetric Investigation Report”) ওপর প্রাতিষ্ঠানিক বক্তব্য চেয়ে কসবা উপজেলা প্রশাসন ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার (ইউএনও) সরকারি ইমেইলে (unokasba@mopa.gov.bd) আনুষ্ঠানিকভাবে যোগাযোগ করা হয়। উক্ত আনুষ্ঠানিক চিঠিতে ২০১৯ থেকে ২০২৬ সালের মধ্যে উপজেলার প্রায় ১৪.৯৬% ভূমির রূপান্তর এবং বিপুল পরিমাণ কৃষিজমি ও নদী অববাহিকা ধ্বংসের স্যাটেলাইট মেজারমেন্ট ডাটা সংযুক্ত করে নিম্নলিখিত তিনটি মৌলিক প্রশ্ন উত্থাপন করা হয়:
- পরিবেশ ও কৃষি সুরক্ষায় কসবা উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিগত ৫ বছরে কী কী প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে?
- বালুমহাল ও মাটি ব্যবস্থাপনা আইন অনুযায়ী অবৈধ ড্রেজিংয়ের বিরুদ্ধে কোনো অর্থদণ্ড বা আইনি পদক্ষেপের আনুষ্ঠানিক নথি সংরক্ষিত আছে কি না?
- কসবায় কৃষিজমি সুরক্ষায় প্রশাসনের কোনো পরিবেশগত মনিটরিং ডাটাবেস বা অ্যাকশন প্ল্যান রয়েছে কি না?
কিন্তু অত্যন্ত পরিতাপের বিষয়, তথ্য অধিকার আইনের মৌলিক চেতনাকে উপেক্ষা করে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই আনুষ্ঠানিক অনুসন্ধানের কোনো আনুষ্ঠানিক উত্তর বা ব্যাখ্যা প্রদান করা হয়নি। সাংবাদিকতার স্বাভাবিক প্রক্রিয়ায় প্রশাসনের বক্তব্য না পেয়ে ব্ল্যাক লেন্স কসবা উপজেলা তথ্য বাতায়নে এই সংশ্লিষ্ট তথ্যের অনুসন্ধান চালায়। কিন্তু বাতায়নে গিয়ে দেখা যায় আরও ভয়াবহ চিত্র—স্বপ্রণোদিতভাবে নাগরিকদের জন্য কোনো পরিবেশগত সমীক্ষা, নদীর তথ্য বা উন্নয়নমূলক কাজের স্বচ্ছ নথি সেখানে সংরক্ষিতই নেই।
৩. কসবা উপজেলা তথ্য বাতায়ন অডিটের মূল পর্যবেক্ষণ ও দালিলিক প্রমাণ
পর্যবেক্ষণ ১: তথ্য প্রদানকারী কর্মকর্তা ও আপিল কর্তৃপক্ষ সংক্রান্ত বিভ্রান্তি (আইনের ৯ ও ১০ ধারার ব্যত্যয়)
তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯-এর ধারা ৯ অনুসারে প্রতিটি দপ্তরে দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা থাকা বাধ্যতামূলক হলেও কসবা উপজেলার তথ্য কর্মকর্তা পাতায় এখনো সাবেক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মুহাম্মদ শাহরিয়ার মুক্তার-এর নাম ও ব্যক্তিগত যোগাযোগ নম্বর বহাল রয়েছে। অথচ তিনি বহু আগে বদলি হয়েছেন এবং বর্তমান কর্মকর্তা হলেন মোঃ ছামিউল ইসলাম।
একইভাবে আপিল কর্তৃপক্ষ হিসেবে এখনো সাবেক জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ হাবিবুর রহমান-এর নাম প্রদর্শিত হচ্ছে, যেখানে বর্তমান জেলা প্রশাসক হলেন মোঃ আবু সাঈদ। আপিল কর্তৃপক্ষের দাপ্তরিক ঠিকানার ঘরে জেলা সদরের পরিবর্তে লেখা রয়েছে “কসবা উপজেলা”। বিধিমালার বাধ্যবাধকতা সত্ত্বেও কোনো বিকল্প তথ্য কর্মকর্তার (Alternative RTI Officer) নাম নেই এবং বাতায়নে নিষ্পত্তিকৃত আবেদনের কোনো পরিসংখ্যান নেই।

পর্যবেক্ষণ ২: সিটিজেন চার্টারে তথ্যের শূন্যতা (“ফাইল ১” বিভ্রান্তি ও অ্যাক্সেসিবিলিটি সংকট)
পোর্টালের সিটিজেন চার্টার পাতায় মূল বডিতে কোনো সুনির্দিষ্ট ডিজিটাল তালিকা বা মেশিন-রিডেবল টেক্সট নেই; কেবল “ফাইল ১” লিখে পাতাটি ফেলে রাখা হয়েছে। এর ব্যাকএন্ডে একটি লো-রেজোলিউশন স্ক্যান করা ছবি সংযুক্ত রয়েছে, যা কোনো সার্চ ইঞ্জিনে ইনডেক্স হয় না কিংবা দৃষ্টিপ্রতিবন্ধীদের স্ক্রিন রিডারের উপযোগী নয়।
এই ছবিতে কেবল উপজেলা পরিষদের পুরনো ২২টি সেবার তালিকা রয়েছে; উপজেলা প্রশাসন, সহকারী কমিশনার (ভূমি), এলজিইডি, সমাজসেবা বা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের কোনো নাগরিক সেবা সনদ সেখানে নেই। অধিকন্তু, চার্টারের নিচে যোগাযোগের জন্য “চেয়ারম্যান, উপজেলা পরিষদ”-এর নাম ও ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর (০১৭১৪-৬১১৯০২) দেওয়া আছে, অথচ অন্তর্বর্তীকালীন সরকার কর্তৃক পদটি স্থগিত করে প্রশাসক নিয়োগ দেওয়ায় এই নম্বরটি বর্তমানে সম্পূর্ণ অপ্রাসঙ্গিক। বাতায়নে থাকা কি সেবা কিভাবে পাবেন এবং সেবা পাবার ধাপ পাতা দুটিও সম্পূর্ণ ফাঁকা।
http://kasba.brahmanbaria.gov.bd/pages/static-pages/69913e0c516a96d4de410cfd

পর্যবেক্ষণ ৩: দরপত্র ও সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়ায় চরম অস্বচ্ছতা (পিপিআর ২০০৮-এর ব্যত্যয়)
কসবা উপজেলার হোমপেজের টেন্ডার উইজেট এবং অভ্যন্তরীণ দরপত্র পাতা (/pages/tenders)—উভয় স্থানেই দীর্ঘদিন ধরে প্রদর্শিত হচ্ছে: “কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি”। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (LGED), জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল বা উপজেলা পরিষদের বার্ষিক উন্নয়ন স্কিমের উন্মুক্ত দরপত্র, কোটেশন বা ই-জিপি (e-GP) সংক্রান্ত কোনো তথ্য বাতায়নে প্রকাশিত নেই। ফলে সরকারি ক্রয়ে জনগণের সামাজিক নজরদারি সম্পূর্ণ রুদ্ধ।
পর্যবেক্ষণ ৪: উন্নয়ন প্রকল্প ও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (ADP) এক যুগের স্থবিরতা
পোর্টালের প্রধান মেনুর “বিভিন্ন প্রকল্প” পাতাটি সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছিল রবিবার, ১৬ মার্চ ২০১৪ তারিখে দুপুর ০১:১১ টায়। এক যুগ ধরে ফেলে রাখা এই পাতায় ২০১৪ সালের কায়েমপুর ইউনিয়নের চেয়ারম্যানের পুরনো ফোন নম্বর ও সোনালী ব্যাংকের চলতি হিসাব নম্বর প্রদর্শিত হচ্ছে! একইভাবে “কার্যবিবরণী ও গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত” পাতাটি সর্বশেষ আপডেট হয়েছে ১২ মার্চ ২০১৪-এ, যাতে ২৬ নভেম্বর ২০১৩ তারিখের সাধারণ সভার সিদ্ধান্ত ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
এডিপি বিভাগে ১ ডিসেম্বর ২০২৫-এ ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জন্য ১৯ পৃষ্ঠার একটি ক্যামস্ক্যানার ফাইল আপলোড থাকলেও চলমান ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের কোনো এডিপি স্কিম, বরাদ্দ বা কাজের অগ্রগতির তথ্য নেই। গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর জন্য বরাদ্দকৃত টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাজের বিনিময়ে খাদ্য (কাবিখা) বা বিশেষ বরাদ্দের কোনো তালিকা বাতায়নে নেই।
http://kasba.brahmanbaria.gov.bd/pages/static-pages/69913e0c516a96d4de410d11

পর্যবেক্ষণ ৫: বাজেট, আর্থিক বিবরণী ও সম্পদ রেজিস্টারের অপ্রকাশ্য বাস্তবতা
বাতায়নের “সম্পদ রেজিষ্টার” পাতাটি শতভাগ শূন্য (BLANK)। “বার্ষিক আর্থিক বিবরণী” পাতায় অর্থবছরগুলো শুধুমাত্র সাধারণ টেক্সট হিসেবে ফেলে রাখা হয়েছে; কোনো ক্লিকেবল লিংক বা ডাউনলোড ফাইল নেই। “বার্ষিক বাজেট” পাতায় ২০২৪-২৫ ও ২০২৫-২৬ অর্থবছরের যে খসড়া বাজেট সার-সংক্ষেপ আপলোড করা হয়েছে, তা মূলত একটি সম্ভাব্য রাজস্ব প্রাক্কলন। কিন্তু অর্থবছর শেষে প্রকৃতপক্ষে কত টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে, কোন খাতে কত ব্যয় হয়েছে, তার কোনো অডিট রিপোর্ট (Audit Report), ব্যালেন্স শিট বা প্রকৃত ভাউচারভিত্তিক খতিয়ান জনসাধারণের উন্মুক্ত পরীক্ষার জন্য রাখা হয়নি।
পর্যবেক্ষণ ৬: নোটিশ বোর্ড ও জরুরি প্রশাসনিক বিজ্ঞপ্তির অচলাবস্থা
কসবা উপজেলার নোটিশ বোর্ডে (/pages/notices) মাত্র ১টি নোটিশ প্রদর্শিত হচ্ছে, যার তারিখ ২৫ জানুয়ারি ২০২৩ (ডিজিটাল সেন্টারের কম্পিউটার প্রশিক্ষণ সংক্রান্ত)। বিগত সাড়ে তিন বছরের বেশি সময় ধরে উপজেলা প্রশাসনের কোনো গণবিজ্ঞপ্তি, সতর্কতা বা আদেশ এখানে প্রকাশ করা হয়নি। হোমপেজের অফিস আদেশ, চাকরির খবর এবং সংবাদ বিভাগ সম্পূর্ণ খালি।

পর্যবেক্ষণ ৭: প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অসম্পূর্ণ তালিকা ও যোগাযোগের প্রতিবন্ধকতা
কসবা উপজেলায় হস্তান্তরিত ও নন-হস্তান্তরিত মিলিয়ে ২০টির বেশি সরকারি দপ্তর রয়েছে। অথচ “কর্মকর্তাবৃন্দ” পাতায় (/pages/officers) সমগ্র উপজেলার জন্য অন্তর্ভুক্ত আছেন মাত্র ২ জন কর্মকর্তা: উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তা। সহকারী কমিশনার (ভূমি), উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা, উপজেলা কৃষি অফিসার, এলজিইডি প্রকৌশলী, মৎস্য কর্মকর্তা, প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা বা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা (PIO)-র কারো নাম, সরকারি ফোন নম্বর বা রুম নম্বর মূল তালিকায় নেই। এমনকি “পূর্বতন উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাগণ” পাতাটিও ২০১২ সালের পর আর হালনাগাদ করা হয়নি।

পর্যবেক্ষণ ৮: আন্তর্জাতিক প্রতিপাদ্য বনাম পরিবেশগত তথ্যের অনুপস্থিতি (HTTP 404 Error)
কসবা উপজেলার প্রাকৃতিক পরিচয়ের অন্যতম অনুষঙ্গ নদ-নদী হলেও পোর্টালের মেনুতে থাকা “নদ-নদী” পাতায় ক্লিক করলে ব্রাউজারে সরাসরি “HTTP Error 404: Not Found” ও ফাঁকা পাতা প্রদর্শিত হয়। আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবসের প্রতিপাদ্য অনুযায়ী পরিবেশ সংক্রান্ত তথ্যের উন্মুক্ততা নিশ্চিত করার কথা থাকলেও তিতাস, সালদা, সোনাই ও ঘুংঘুর নদী রক্ষা, অবৈধ ড্রেজিং ও ইটভাটার পরিবেশগত ছাড়পত্র বা আকস্মিক বন্যা ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কোনো উন্মুক্ত তথ্য বা ডেটা পোর্টালে নেই।
http://kasba.brahmanbaria.gov.bd/pages/static-pages/6990cf6d35ce18e1c071bb35

৪. আইনি ব্যত্যয়ের তুলনামূলক ছক
তথ্য অধিকার আইন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা এবং জাতীয় পোর্টাল নির্দেশিকার সাথে কসবা উপজেলা বাতায়নের বাস্তবতার তুলনামূলক বিশ্লেষণ নিচে তুলে ধরা হলো:
| আইনের ধারা / বিধিমালা | বিধিবদ্ধ আইনি বাধ্যবাধকতা | কসবা উপজেলা বাতায়নে পরিলক্ষিত বাস্তবতা |
|---|---|---|
| তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ (ধারা ৬) | সকল কার্যক্রম, প্রস্তাবিত প্রকল্প ও সেবা স্বপ্রণোদিতভাবে প্রকাশ করা। | সিংহভাগ পাতা ফাঁকা; প্রকল্প তালিকা ২০১৪ সালের পর স্থবির। |
| তথ্য অধিকার আইন, ২০০৯ (ধারা ৯ ও ১০) | দায়িত্বপ্রাপ্ত তথ্য কর্মকর্তা ও আপিল কর্তৃপক্ষের সঠিক পরিচিতি ও বিকল্প কর্মকর্তা নিয়োগ। | সাবেক বদলিকৃত ইউএনও ও জেলা প্রশাসকের নাম বহাল; বিকল্প কর্মকর্তার নাম অনুপস্থিত। আপিল কর্তৃপক্ষের ঠিকানায় জেলা সদরের বদলে কসবা লেখা। |
| পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা (PPR), ২০০৮ | উন্মুক্ত দরপত্র ও সরকারি ক্রয়ের বিস্তারিত তথ্য ওয়েবসাইটে নোটিশ আকারে প্রকাশ। | টেন্ডার কর্নার শতভাগ তথ্যহীন (“কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি”)। ই-জিপি বা উন্মুক্ত কোটেশন শূন্য। |
| সিটিজেন চার্টার নির্দেশিকা | প্রতিটি সেবার নাম, ফি, সময়সীমা ও দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তার বিবরণ প্রকাশ। | মূল বডিতে কেবল “ফাইল ১”; ভেতরে একটি অনুন্নত স্ক্যান করা ছবি ঝুলিয়ে রাখা। উপজেলা প্রশাসনের সেবা বাদ। |
| জাতীয় তথ্য বাতায়ন নীতিমালা | দাপ্তরিক নোটিশ, কর্মকর্তা তালিকা ও আদেশ নিয়মিত হালনাগাদ রাখা। | ২০২৩ সালের পর নোটিশ নেই; ২০টির বেশি দপ্তরের মধ্যে মাত্র ২ জনের নাম। পূর্বতন ইউএনও তালিকা ২০১২-তে বন্ধ। |
৫. তথ্য অধিকার প্রতিষ্ঠায় বস্তুনিষ্ঠ সুপারিশমালা
কসবা উপজেলা তথ্য বাতায়নকে একটি স্বচ্ছ, কার্যকর ও জনবান্ধব সেবামূলক মাধ্যমে রূপান্তরের লক্ষ্যে ব্ল্যাক লেন্স-এর পক্ষ থেকে নিম্নলিখিত জরুরি সুপারিশমালা তুলে ধরা হলো:
- আরটিআই ডেস্ক পুনর্গঠন ও হালনাগাদকরণ: তথ্য কর্মকর্তা পাতা থেকে সাবেক কর্মকর্তার তথ্য অপসারণ করে বর্তমান উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার তথ্য সংযোজন করা এবং বিধিমালা অনুযায়ী একজন বিকল্প তথ্য কর্মকর্তা (যেমন: সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা)-এর নাম ও যোগাযোগ নম্বর অবিলম্বে প্রকাশ করা। আপিল কর্তৃপক্ষের ঘরে বর্তমান জেলা প্রশাসকের নাম ও জেলা সদর ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সঠিক ঠিকানা সংশোধন করা।
- অনুসন্ধানী ও দাপ্তরিক প্রশ্নের প্রাতিষ্ঠানিক সাড়া প্রদান: স্থানীয় গণমাধ্যমকর্মী, অনুসন্ধানী গবেষক ও নাগরিকদের পাঠানো তথ্য অনুসন্ধান ও ব্যাখ্যা চেয়ে করা আবেদনের ক্ষেত্রে আইনের সময়সীমা মেনে উত্তর দেওয়ার একটি সমন্বিত প্রাতিষ্ঠানিক মেকানিজম চালু করা। সরকারি ইমেইলে আসা চিঠিপত্র নিয়মিত মনিটরিং ও নিষ্পত্তির বাধ্যবাধকতা তৈরি করা।
- মেশিন-রিডেবল পূর্ণাঙ্গ সিটিজেন চার্টার: অস্পষ্ট স্ক্যান করা ছবির পরিবর্তে সকল সরকারি দপ্তরের সেবার নাম, প্রয়োজনীয় কাগজপত্র, সরকারি ফি ও সময়সীমা উল্লেখ করে একটি পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল এইচটিএমএল চার্টার প্রকাশ করা এবং বাতিলকৃত রাজনৈতিক পদের যোগাযোগের তথ্য অপসারণ করা।
- উন্নয়ন ও ক্রয়ের স্বচ্ছতা (টেন্ডার ও এডিপি): ২০১৪ সালের স্থবির পাতাগুলো অপসারণ করে চলমান অর্থবছরের সকল উন্নয়ন প্রকল্প, এডিপি স্কিম, টেস্ট রিলিফ (টিআর), কাবিখা এবং উন্মুক্ত দরপত্রের নোটিশ ও ই-জিপি লিংক উন্মুক্ত করা।
- আর্থিক খতিয়ান ও সম্পদ রেজিস্টার প্রকাশ: শূন্য থাকা “সম্পদ রেজিষ্টার” পাতায় সরকারি খাস ও অর্পিত সম্পত্তির তথ্য এবং “বার্ষিক আর্থিক বিবরণী” পাতায় প্রকৃত রাজস্ব আয় ও ব্যয়ের নিরীক্ষিত খতিয়ান (Audited Financial Statements) জনসাধারণের পর্যালোচনার জন্য আপলোড করা।
- পরিবেশ ও নদ-নদী পাতার ত্রুটি নিরসন: ৪-০-৪ ত্রুটিপূর্ণ “নদ-নদী” পাতাটি সংস্কার করে তিতাস ও সালদাসহ আন্তঃসীমান্ত নদী রক্ষা, ভূমির বাস্তুসংস্থান, অবৈধ ড্রেজিং প্রতিরোধ এবং স্থানীয় পরিবেশ ছাড়পত্রের উন্মুক্ত তথ্য নিশ্চিত করা।
- উপজেলা বাতায়ন মনিটরিং সেল গঠন: সহকারী প্রোগ্রামার (আইসিটি) ও সহকারী প্রশাসনিক কর্মকর্তার সমন্বয়ে একটি সার্বক্ষণিক মনিটরিং টিম গঠন করা, যারা প্রতি মাসে পোর্টালের প্রতিটি পাতার ডেটা ও নোটিশ হালনাগাদ রাখবেন।
দালিলিক সূত্র ও তথ্যভাণ্ডার: কসবা উপজেলা জাতীয় তথ্য বাতায়ন (kasba.brahmanbaria.gov.bd), ওরাকল ক্লাউড অবজেক্ট স্টোরেজ (AP-DCC-Gazipur-1), তথ্য অধিকার আইন ২০০৯ ও বিধিমালা, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট বিধিমালা ২০০৮, এবং অনুসন্ধানী স্যাটেলাইট ফরেনসিক্স রিপোর্ট (Black Lens 2.0)।
জনস্বার্থে প্রতিবেদন প্রকাশ: আন্তর্জাতিক তথ্য অধিকার দিবস, ২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ব্ল্যাক লেন্স ইনভেস্টিগেটিভ সেল

