কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় স্থানীয় একটি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পঞ্চম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে (১০) ধর্ষণের অভিযোগ উঠেছে। গুরুতর অবস্থায় শিশুটিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত ফার্নিচার দোকান মালিকের বিরুদ্ধে কসবা থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে মামলা দায়ের করেছেন শিশুটির মা।
মামলার বিবরণ ও হাসপাতালে ভর্তি
মামলার এজাহার ও পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, গত শুক্রবার সকালে বাড়ি থেকে স্থানীয় গ্রামের বাজারে তেল কিনতে যায় ওই শিক্ষার্থী। কেনাকাটা শেষে বাড়ি ফেরার পথে সড়কের পাশে অবস্থিত ফার্নিচার দোকানের মালিক ইয়াসিন মিয়া শিশুটিকে কৌশলে দোকানের ভেতর নিয়ে যায় এবং জোরপূর্বক ধর্ষণ করে বলে অভিযোগ করা হয়। ঘটনাটি কাউকে না জানানোর জন্য অভিযুক্ত ইয়াসিন শিশুটিকে প্রাণনাশের হুমকি দেয় এবং ২০ টাকার একটি নোট ধরিয়ে দিয়ে বাড়ি পাঠিয়ে দেয়। বাড়ি ফিরে শিশুটি কান্নাকাটি শুরু করলে স্বজনরা রক্তাক্ত অবস্থায় তাকে উদ্ধার করে তাৎক্ষণিকভাবে ব্রাহ্মণবাড়িয়া সদর হাসপাতালে ভর্তি করান।
ধামাচাপা দেওয়ার অপচেষ্টা ও সালিশ পণ্ড
এদিকে ঘটনাটি ধামাচাপা দিতে স্থানীয় একটি প্রভাবশালী মহল সালিশি বৈঠকের মাধ্যমে মীমাংসার অপচেষ্টা চালায় বলে অভিযোগ উঠেছে। পার্শ্ববর্তী গ্রামের সমাজকর্মী জয়নাল আবেদীন জানান, কতিপয় ব্যক্তি বিষয়টি গোপনে রফাদফার চেষ্টা করেছিল। তবে গ্রামের সচেতন যুবসমাজ তাৎক্ষণিকভাবে এর তীব্র প্রতিবাদ জানায় এবং আইনি ব্যবস্থার দাবি তোলায় কথিত সালিশটি পণ্ড হয়ে যায়।
কসবা থানা পুলিশের বক্তব্য ও অভিযান
মামলার বিষয়টি নিশ্চিত করে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদ জানান, রোববার সকালে ভুক্তভোগী শিশুর মা বাদী হয়ে থানায় একটি নিয়মিত মামলা দায়ের করেছেন। অভিযুক্ত ইয়াসিন মিয়াকে দ্রুত আইনের আওতায় আনতে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
আইন অনুযায়ী শিশু ও নারী নির্যাতন কিংবা ধর্ষণের মতো ফৌজদারি অপরাধ কোনো প্রকার গ্রাম্য সালিশ বা সামাজিক মীমাংসার আওতাভুক্ত নয়। কসবায় স্থানীয় তরুণদের সচেতন ভূমিকায় সালিশের অপচেষ্টা প্রতিহত হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে আইনি কাঠামোয় মামলা দায়ের হওয়াকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন আইন ও মানবাধিকার বিশ্লেষকরা। প্রশাসন ও কসবা থানা পুলিশের পরবর্তী পদক্ষেপের ওপর গভীর দৃষ্টি রাখছে ব্ল্যাক লেন্স।