নিজস্ব প্রতিবেদক, কসবা | Black Lens 2.0

কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া:

আইনের রক্ষক যখন ভক্ষকের ভূমিকায় অবতীর্ণ হয়, তখন সাধারণ মানুষের আর যাওয়ার জায়গা থাকে না। কসবা থানায় কর্মরত বর্তমানন এসআই শামীম হোসেনের সহকর্মীর সাম্প্রতিক কিছু স্বীকারোক্তি পুলিশের পেশাদারিত্বকে চরমভাবে প্রশ্নবিদ্ধ করেছে। ভুক্তভোগী জাকির হোসেনের কাছ থেকে টাকা আদায়ের জন্য তাকে যে অমানবিক নির্যাতনের শিকার হতে হয়েছে, তা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়।

ঘটনার সূত্রপাত:

অনুসন্ধানে জানা যায়, বছর খানেক আগে কসবা উপজেলার বায়েক ইউনিয়নের বশির মিয়া নামক এক দালালের খপ্পরে পড়ে বিদেশে যাওয়ার উদ্দেশ্যে ৮ লক্ষ টাকা তুলে দেন জাকির হোসেন। দীর্ঘ সময় পার হলেও বশির তাকে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হয় এবং টাকা ফেরত দিতে তালবাহানা শুরু করে। পাওনা টাকা দাবি করায় বশির পরিকল্পিতভাবে নিজের ১৪ বছরের নাবালিকা কন্যাকে ব্যবহার করে জাকির ও তার শ্যালকের ওপর ধর্ষণের মিথ্যা অপবাদ দেওয়ার ছক আঁকে।

থানা হাজতে ‘আবু জাহেলী’ নির্যাতন:

তখন ৯৯৯-এ কল করে জাকির ও তার শ্যালককে পুলিশের হাতে তুলে দেয় দালাল বশির,অভিযোগ তুলেন ধর্ষনের। তৎকালীন অফিসার ইনচার্জ (ওসি) আব্দুল কাদের ঘটনার সত্যতা যাচাই না করেই এসআই শামীমকে নির্দেশ দেন জাকির প তার শ্যালক কে হাজতে বেঁধে পিটাতে। ভুক্তভোগী জাকিরের বর্ণনা অনুযায়ী, এসআই শামীম হাজতখানায় তাকে যমদূতের মতো ভয় দেখান। জাকির অভিযোগ করেন, ২ লক্ষ টাকা না দিলে তাকে ধর্ষণ মামলায় ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিয়েছিল এস আই শামীম।

টাকা ভাগাভাগির চাঞ্চল্যকর স্বীকারোক্তি:মান-সম্মান ও কারাবাসের ভয়ে নিরুপায় হয়ে জাকির ২৫ হাজার টাকা দিয়ে সেই যাত্রায় মুক্তি পান। সম্প্রতি এই বিষয়ে এসআই শামীমের এক সহকর্মী নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, জাকিরের এই অভিযোগের সত্যতা নিশ্চিত করেন।শামীমের সাথে আমাদের প্রতিনিধির যোগাযোগ হলে তিনি এক বিস্ফোরক তথ্য দেন। তিনি অকপটে স্বীকার করেন যে, তৎকালীন ওসি আব্দুল কাদেরের নির্দেশেই সব হয়েছে। আদায়কৃত ২৫ হাজার টাকার মধ্যে ওসি কাদের ২০ হাজার টাকা পকেটে পুরেন এবং শামীমকে বখশিস হিসেবে দেন মাত্র ৫ হাজার টাকা।

জনমনে প্রশ্ন:একজন পুলিশ অফিসার কিভাবে নির্দ্বিধায় স্বীকার করেন যে তিনি ঘুষের টাকা ভাগাভাগি করেছেন? ওসির নির্দেশ কি তবে ন্যায়-অন্যায় বিচারের ঊর্ধ্বে? একজন নিরীহ মানুষকে মিথ্যা মামলায় ফাঁসানোর ভয় দেখিয়ে টাকা আদায় করা কি পুলিশের রুটিন কাজে পরিণত হয়েছে?

By Blens25

One thought on “কসবা থানা পুলিশের সেই ‘আবু জাহেলী’ রূপ: ওসির নির্দেশে এসআই শামীমের জানোয়ার-সদৃশ চাঁদাবাজি!”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *