জোটের স্বার্থে সরে দাঁড়ালেন এনসিপি প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আমিন চৌধুরী, কসবা-আখাউড়ায় জামায়াত প্রার্থীকে সমর্থন
নিজস্ব প্রতিবেদক, কসবা
আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে নির্বাচনী সমীকরণে বড় পরিবর্তন এসেছে। ১০ দলীয় জোটের সিদ্ধান্তের প্রতি সম্মান জানিয়ে এই আসন থেকে নিজেদের প্রার্থিতা প্রত্যাহারের ঘোষণা দিয়েছে ন্যাশনালিস্ট সিভিক পার্টি (এনসিপি)। দলটির মনোনীত প্রার্থী এবং ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলা এনসিপির সদস্য সচিব ইঞ্জিনিয়ার আমিন চৌধুরী নির্বাচনী লড়াই থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।তিনি এই আসনে জোটের একক প্রার্থী হিসেবে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর মনোনীত প্রার্থী মো: আতাউর রহমান সরকারকে পূর্ণ সমর্থন দিয়েছেন।


জোটের ঐক্যের জন্য ত্যাগ
কসবা-আখাউড়া আসনে জোটের প্রার্থী নিয়ে রাজনৈতিক মহলে বেশ কিছুদিন ধরেই আলোচনা চলছিল। এনসিপির প্রার্থী ইঞ্জিনিয়ার আমিন চৌধুরী এলাকায় একজন শিক্ষিত ও যোগ্য প্রার্থী হিসেবে ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা তৈরি করেছিলেন। তবে কেন্দ্র ঘোষিত ১০ দলীয় জোটের আসন সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াত নেতা আতাউর রহমান সরকারকে এই আসনে জোটের চূড়ান্ত প্রার্থী হিসেবে সমর্থন দেওয়া হয়েছে।নিজের ফেসবুক হ্যান্ডেলে এক আবেগঘন বার্তায় আমিন চৌধুরী জানান:”জোট না হলে নিশ্চিত আমি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করতাম। আপনারা জানেন যে, এনসিপি জামায়াতের সাথে জোটে গিয়েছে এবং জামায়াত থেকে এ আসনে জোটের প্রার্থী ঘোষণা করেছে। আমি জানি আপনারা এতে অনেকে মর্মাহত। কেউ মন খারাপ করবেন না, আল্লাহ যা করেন ভালোর জন্য করেন।”
তৃণমূলের অবস্থান ও সাংগঠনিক শক্তি:
আখাউড়া ও কসবায় এনসিপির সাংগঠনিক শক্তি সাম্প্রতিক সময়ে বেশ বৃদ্ধি পেয়েছে। আখাউড়া উপজেলা এনসিপির প্রধান সমন্বয়কারী এবং জেলা এনসিপির যুগ্ম সাংগঠনিক সম্পাদক এমডি ইয়াকুব আলী (MD Eyakub Ali)-এর নেতৃত্বে দলটির রাজনীতি এখানে বেশ শক্তিশালী অবস্থানে রয়েছে।নেতাকর্মীরা জানান, প্রিয় নেতার নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানোর সিদ্ধান্ত তাদের জন্য কষ্টের হলেও, কঠিন সময়েই প্রকৃত কর্মীর পরিচয় পাওয়া যায়। নিজেদের আসন ছাড়ার সেই কষ্টকে শক্তিতে রূপান্তর করে তারা এখন জোটের প্রার্থী আতাউর রহমান সরকারের পক্ষে মাঠে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষন:
স্থানীয় রাজনীতি বিশ্লেষকদের মতে, ইঞ্জিনিয়ার আমিন চৌধুরীর মতো প্রার্থীর সমর্থন জামায়াত প্রার্থীর পাল্লাকে বেশ ভারী করেছে। এনসিপি ও জামায়াতের এই সম্মিলিত ভোটব্যাংক কসবা-আখাউড়া আসনের নির্বাচনী ফলাফল নির্ধারণে বড় ভূমিকা রাখতে পারে।