স্পেশাল ইনভেস্টিগেটিভ ডসিয়ার | পাবলিক ফিন্যান্স অডিট কসবা উপজেলা এডিপি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অপ্রকাশিত উন্নয়ন খতিয়ান ২০২৬ সরকারি তথ্য বাতায়ন ও ক্লাউড সার্ভার হতে উধাও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) হিসাব। তদন্ত চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট ৩ দফা প্রশ্নমালা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি। 📥 মূল তদন্ত প্রতিবেদন (PDF) ডাউনলোড করুন কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): বর্ষা নামলেই […]
কসবা উপজেলা এডিপি প্রকল্প বাস্তবায়ন ও অপ্রকাশিত উন্নয়ন খতিয়ান ২০২৬
সরকারি তথ্য বাতায়ন ও ক্লাউড সার্ভার হতে উধাও বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচির (এডিপি) হিসাব। তদন্ত চলাকালে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার নিকট ৩ দফা প্রশ্নমালা পাঠানো হলেও কোনো সাড়া মেলেনি।
📥 মূল তদন্ত প্রতিবেদন (PDF) ডাউনলোড করুনকসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): বর্ষা নামলেই কসবা উপজেলার কুটি ও মেহারী ইউনিয়নের সংযোগ সড়কটি রূপ নেয় এক হাঁটু কাদায়। ভ্যানচালক জামাল মিয়া প্রতিদিন এই সড়ক দিয়ে সবজি নিয়ে সদরের বাজারে যান। ভাঙা কালভার্টের মুখে ভ্যান উল্টে দুদিন আগেই নষ্ট হয়েছে তাঁর কয়েক হাজার টাকার কাঁচামাল। ক্ষোভ নিয়ে জামাল মিয়া বলছিলেন—“শুনি প্রতি বছরই কোটি কোটি টেকা আহে সরকারের থেইকা। কিন্তু আমগো রাস্তার কাদা কোনোদিন শুকায় না। টেকা কোন খালের জলে যায়, আমরা পাবলিক তো কিছুই জানি না।”
জামাল মিয়ার এই প্রশ্নের উত্তর সরকারি নথিতে স্বচ্ছভাবে থাকার কথা ছিল। দেশের আইন অনুযায়ী, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) ও উপজেলা পরিষদ প্রতি বছর যে কোটি কোটি টাকার ‘বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি’ (এডিপি) থোক বরাদ্দ ও রাজস্ব তহবিল খরচ করে, তার প্রতিটি স্কিমের নাম, অবস্থান, বরাদ্দ ও ঠিকাদারের হিসাব নাগরিকদের কাছে উন্মুক্ত রাখা বাধ্যতামূলক। কিন্তু ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সীমান্তবর্তী কসবা উপজেলায় সেই স্বচ্ছতার জানালাটি বহু আগেই বন্ধ হয়ে গেছে।
বাতায়নে এক যুগের অন্ধকার: ২০১৪ সালের পাতায় থমকে আছে কসবা
সরকারি জাতীয় তথ্য বাতায়নের কসবা উপজেলা পোর্টালে (kasba.brahmanbaria.gov.bd) “বিভিন্ন প্রকল্প” মেনুটি সর্বশেষ হালনাগাদ করা হয়েছিল ১৬ মার্চ ২০১৪ তারিখে দুপুর ০১:১১ টায়—অর্থাৎ বিগত ১২ বছরেও সেখানে নতুন কোনো প্রকল্পের তথ্য যুক্ত করা হয়নি। এমনকি ২০১৪ সালের ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানদের পুরনো ফোন নম্বর ও অচল ব্যাংক হিসাবের তথ্য এখনো ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে।
সবচেয়ে বড় রহস্য তৈরি হয়েছে ‘বার্ষিক প্রতিবেদন (এডিপি)’ সেকশনটিতে। সেখানে ২০২০ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত পুরনো কিছু ক্যামস্ক্যানার ফাইলের লিঙ্ক থাকলেও ২০২৫–২০২৬ কিংবা চলমান ২০২৬–২০২৭ অর্থবছরের অনুমোদিত কোনো স্কিম তালিকা, বরাদ্দপত্র বা বাস্তবায়ন অগ্রগতি প্রতিবেদন আপলোড করা হয়নি। সরকারের ক্লাউড সার্ভার (ওরাকল ক্লাউড অবজেক্ট স্টোরেজ) ঘেঁটেও দেখা গেছে, এই দুই অর্থবছরের কোনো সমাপ্তি বা অগ্রগতি প্রতিবেদন সাধারণের জন্য উন্মুক্ত করা হয়নি।

অথচ গত ২৯ জুন ২০২৬ তারিখে কসবা পৌরসভার জন্য ৩৯ কোটি ৭৬ লাখ টাকার বাজেট ঘটা করে ঘোষণা করা হয়েছে। পৌর এলাকায় “খাল খনন” খাতে সাড়ে ৪ কোটি টাকা এবং সড়ক খাতে সাড়ে ১২ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কিন্তু একই উপজেলার অধীনে থাকা ১০টি গ্রামীণ ইউনিয়নের জন্য এডিপির কোটি কোটি টাকার থোক বরাদ্দ কোন কোন প্রকল্পে দেওয়া হলো, কারা সেই কাজের পিআইসি (প্রকল্প বাস্তবায়ন কমিটি) সভাপতি—তা সম্পূর্ণ অপ্রকাশ্য রাখা হয়েছে।
একক স্বাক্ষরে দ্বৈত প্রশাসনিক কর্তৃত্বের ঝুঁকি
নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি অপসারণের পর কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. ছামিউল ইসলাম একই সাথে কসবা পৌরসভার প্রশাসকের দায়িত্বে আছেন। ফলে উপজেলা এডিপির গ্রামীণ তহবিল এবং পৌরসভার উন্নয়ন বরাদ্দ—দুটি বড় আর্থিক খাতের ওপরই একক প্রশাসনিক কর্তৃত্ব তৈরি হয়েছে। মেজারমেন্ট বুক (এমবি) এবং পিআইসির তালিকা ইন্টারনেটে প্রকাশ না করায় একই খালের খনন বা সড়কের কাজে দ্বৈত বিলিংয়ের গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।

⚖️ প্রশাসনের নীরবতা ও পেশাদার সম্পাদকীয় অঙ্গীকার (Right of Reply)
এডিপি স্কিম বাস্তবায়ন তালিকা প্রকাশ না করার কারণ এবং তথ্য অধিকার আইন ২০০৯-এর ধারা ৬ অনুযায়ী স্বপ্রণোদিত তথ্য প্রকাশের আইনি বাধ্যবাধকতা লঙ্ঘনের বিষয়ে জানতে কসবা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও উপজেলা পরিষদ প্রশাসক মো. ছামিউল ইসলাম-এর সাথে একাধিক মাধ্যমে যোগাযোগের চেষ্টা করা হয়।
তাঁর সরকারি মুঠোফোন নম্বরে একাধিকবার ফোন দেওয়া হলেও তিনি কল রিসিভ করেননি। পরবর্তীতে তাঁর হোয়াটসঅ্যাপে এবং সরকারি ইমেইলে (unokasba@mopa.gov.bd) সুনির্দিষ্ট তিনটি বিষয়ে লিখিত বক্তব্য চাওয়া হয়: (১) ২০২৫–২৬ ও ২০২৬–২৭ অর্থবছরের এডিপি স্কিম তালিকা কেন বাতায়নে অপ্রকাশ্য রাখা হয়েছে? (২) তথ্য অধিকার আইনের ৬ ধারা পরিপালনে প্রশাসনের পদক্ষেপ কী? এবং (৩) পৌরসভা ও এডিপি খাতের মধ্যে ডাবল-বিলিং রোধে কী অডিট ব্যবস্থা চালু রয়েছে?
প্রতিবেদনটি প্রকাশের সময় পর্যন্ত উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার পক্ষ থেকে কোনো উত্তর বা আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। এ বিষয়ে পরবর্তীতে তাঁর কোনো বক্তব্য, ব্যাখ্যা বা প্রাতিষ্ঠানিক জবাব পাওয়া গেলে তা গুরুত্ব সহকারে এই প্রতিবেদনে সংযোজন করা হবে।
নাগরিকদের দাবি: পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ
কসবার সচেতন নাগরিক ও উন্নয়ন বিশ্লেষকদের দাবি, অবিলম্বে উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকে ২০২৫–২৬ ও ২০২৬–২৭ অর্থবছরের এডিপি স্কিমের পূর্ণাঙ্গ তালিকা, বরাদ্দকৃত টাকার পরিমাণ, কার্যাদেশের তারিখ এবং সংশ্লিষ্ট পিআইসি সভাপতি ও ঠিকাদারদের নামসহ একটি উন্মুক্ত শ্বেতপত্র বাতায়নে প্রকাশ করা হোক। কৃষক জামাল মিয়ার মতো লাখো প্রান্তিক মানুষের একটাই চাওয়া—উন্নয়ন যেন শুধু ফাইলের ভেতর বন্দি না থাকে, উন্নয়নের হিসাব যেন খোলা চোখে দেখতে পান সাধারণ নাগরিক।
English Investigative Abstract: The Missing Development Ledger
While rural residents navigate washed-out roads and encroached canals, the official breakdown of where millions in Annual Development Programme (ADP) funds actually go remains locked away in Kasba Upazila. Multiple phone calls and formal queries sent to Upazila Nirbahi Officer (UNO) Md. Samiul Islam (unokasba@mopa.gov.bd) regarding compliance with Section 6 of the Right to Information Act 2009 remained unanswered. His official response will be appended immediately upon receipt.
