কসবা সিমান্ত

কসবায় বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় পণ্য জব্দ: কথিত চোরাকারবারি ‘মালু’ ও ‘মনির’ গ্রেফতার, অন্যান্য মূল হোতারা অধরা

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্ত দিয়ে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে অবৈধভাবে আনা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় পণ্যসহ দুই কথিত চোরাকারবারিকে গ্রেফতার করেছে পুলিশ। তবে এই চোরাচালান চক্রের মূল নিয়ন্ত্রক বা ‘গডফাদার’ হিসেবে পরিচিত ব্যক্তিরা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে রয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে।
পুলিশের অভিযান ও জব্দকৃত মালামাল

কসবা থানা পুলিশের একটি বিশেষ দল গত ১০ মে ২০২৬ তারিখ দিবাগত রাত ১২.৩০ (১১ মে ২০২৬) মিনিটে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে একটি অভিযান পরিচালনা করে। কসবা থানার সাব-ইন্সপেক্টর ফারুক হোসেন সঙ্গীয় ফোর্সসহ এই অভিযানে নেতৃত্ব দিয়ে তাদের আটক করেন। অত্র থানাধীন গোপীনাথপুর ইউনিয়নের নোয়াগাঁও এলাকা থেকে শুল্ক ফাঁকি দিয়ে আনা এসব পণ্য উদ্ধার করা হয়।

জব্দকৃত পণ্যের মধ্যে রয়েছে:

১৫০ কেজি বাসমতি চাল
৪৮ পিস রেড বুল (Red Bull) ক্যান
৯০ কেজি জিরা
২১৫ পিস বিভিন্ন ধরনের চশমা
গ্রেফতারকৃতদের পরিচয়

ঘটনাস্থল থেকে পুলিশ সন্দেহভাজন দুইজনকে গ্রেফতার করে। তারা হলেন:

১. মোঃ মোখলেছুর রহমান প্রকাশ মালু প্রকাশ কানা মালু
পিতা- মৃত আবুল জামাল ভূইয়া, সাং- নোয়াগাঁও পূর্বপাড়া, কসবা।

২. মোঃ রবিউল প্রকাশ মনির
পিতা- মৃত খোকন মিয়া, সাং- কাশিপুর, কসবা।

উদ্ধারকৃত মালামাল বিধি মোতাবেক জব্দ তালিকা মূলে জব্দ করা হয়েছে এবং এ ঘটনায় কসবা থানায় একটি নিয়মিত মামলা রুজু করা হয়েছে।

অনুসন্ধানী প্রেক্ষিত ও প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা
স্থানীয় একাধিক সূত্রের অভিযোগ, গ্রেফতারকৃত মোখলেছুর রহমান ওরফে মালু প্রকাশ কানা মালু এবং রবিউল মূলত এই সিন্ডিকেটের একটি লাইন পরিচালনা করেন। এই চোরাচালান চক্রের আরো বড় লাইন বা নেটওয়ার্ক রয়েছে, যেখানে স্থানীয় আনোয়ার চেয়ারম্যান এবং তার ভাই আকরামের নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তাদের ছত্রছায়াতেই দীর্ঘদিন ধরে এই সীমান্তে অবৈধ পণ্যের সিন্ডিকেট পরিচালিত হয়ে আসছে।

সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায় কসবায় শুল্ক ফাঁকি দিয়ে পণ্য প্রবেশের এই ঘটনা স্থানীয় অর্থনীতি ও রাষ্ট্রীয় রাজস্বের জন্য বড় ধরনের হুমকি। এ ধরনের অপরাধ দমনে কেবল বহনকারীদের গ্রেফতারই যথেষ্ট নয়; বরং সীমান্তরক্ষী বাহিনী এবং আইনশৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর নজরদারি আরও জোরদার করা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা জরুরি। মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা না গেলে এই ধরনের শুল্ক ফাঁকি ও চোরাচালান স্থায়ীভাবে বন্ধ করা কঠিন বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।