নিজস্ব প্রতিবেদক, কসবা | Black Lens 2.0
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: দালালের খপ্পরে পড়ে ৮ লক্ষ টাকা হারিয়ে উল্টো পুলিশের রোষানলে পড়ার এক চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা থানায়। টাকা ফেরত চাইতে গিয়ে মিথ্যা ধর্ষণ মামলার হুমকির মুখে পড়া, থানায় জিম্মি করে টাকা আদায় এবং দালাল চক্রকে প্রশ্রয় দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে খোদ কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের ও দুই উপ-পরিদর্শকের (এসআই) বিরুদ্ধে।
ঘটনার সূত্রপাত
অনুসন্ধানে জানা যায়, বিদেশ যাওয়ার উদ্দেশ্যে কসবা উপজেলার জাকির হোসেন নামক এক ব্যক্তি স্থানীয় বশির নামক এক দালালের হাতে ৮ লক্ষ টাকা তুলে দেন। দীর্ঘদিন পার হলেও বশির তাকে বিদেশে পাঠাতে ব্যর্থ হয়। পরবর্তীতে জাকির হোসেন তার পাওনা টাকা ও পাসপোর্ট ফেরত চাইলে শুরু হয় বিপত্তি। টাকা ফেরত না দিয়ে উল্টো জাকিরকে ঘায়েল করতে মরিয়া হয়ে ওঠে দালাল বশির ও তার চক্র।
পুলিশের ভূমিকা ও মিথ্যা মামলার ভয়
ভুক্তভোগী জাকির হোসেনের অভিযোগ, পাওনা টাকা চাওয়ায় দালাল চক্র তাকে একটি মিথ্যা ধর্ষণ মামলায় ফাঁসানোর হুমকি দেয়। এই ষড়যন্ত্রে সরাসরি সম্পৃক্ত হওয়ার অভিযোগ উঠেছে কসবা থানার এসআই মনির হোসেনের বিরুদ্ধে। ভুক্তভোগী যখন বশির এর বাড়ি যায় তখন বশিরের পাতানো ফাঁদে পড়ে জাকির হোসেন নিজেই নিজেদের জামা কাপড় ছিঁড়ে 999 ফোন করে পুলিশ নিয়ে যায় ঘটনাস্থলে। সেখান থেকে জাকির হোসেন ও তার শ্যালক কে পুলিশ থানায় নিয়ে যায়।
জাকির হোসেন জানান, থানায় থাকাকালীন তাকে শারীরিক ও মানসিকভাবে হেনস্তা করা হয়। পাওনা টাকার দাবি ছেড়ে দেওয়ার জন্য তার ওপর চাপ সৃষ্টি করা হয় বিভিন্নভাবে।
ঘুষ ও জিম্মি করে অর্থ আদায়
সবচেয়ে ভয়াবহ অভিযোগটি উঠেছে কসবা থানার ওসি আব্দুল কাদের এবং দুই সাব-ইন্সপেক্টরের বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, হাজত থেকে মুক্তি দেওয়ার বিনিময়ে এবং ধর্ষণ মামলা থেকে বাঁচানোর প্রলোভন দেখিয়ে জাকির হোসেনের কাছ থেকে ২৫,০০০ টাকা হাতিয়ে নেয় পুলিশ এস আই শামীম।
শুধু তাই নয়, পাওনা ৮ লক্ষ টাকার বিষয়ে এসআই মনির হোসেন নিজেই ‘জিম্মাদার’ সেজে বশিরের পক্ষ নিয়ে ৪ মাসের সময় বেঁধে দেন। একজন পুলিশ কর্মকর্তা কীভাবে দেনা-পাওনার সালিশি করেন এবং সময় নির্ধারণ করে দেন, তা নিয়ে জনমনে তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
এলাকায় চাঞ্চল্য
একজন সাধারণ মানুষ সর্বস্ব হারিয়ে পুলিশের কাছে বিচার চাইতে গিয়ে উল্টো পুলিশের মাধ্যমেই শোষিত হওয়ার এই ঘটনায় কসবা জুড়ে তোলপাড় চলছে। স্থানীয়দের মতে, পুলিশ ও দালাল চক্রের এই ‘মধুর সম্পর্ক’ সাধারণ মানুষের নিরাপত্তা ও ন্যায়বিচার পাওয়ার পথকে রুদ্ধ করে দিচ্ছে।
এই বিষয়ে কসবা থানার অভিযুক্ত কর্মকর্তাদের বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা করা হলেও তাদের পক্ষ থেকে কোনো সদুত্তর পাওয়া যায়নি।