নিজস্ব প্রতিবেদক | ব্ল্যাক লেন্স ২.০ ঢাকা
ইনকিলাব মঞ্চের অন্যতম নেতা শরিফ ওসমান বিন হাদি হত্যাকাণ্ডের নেপথ্যে চাঞ্চল্যকর ও ‘রহস্যময়’ তথ্য সামনে এনেছেন ইনকিলাব মঞ্চের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার মুখপাত্র ফাতিমা তাসনিম জুমা। তার দাবি, ওসমান হাদিকে পরিকল্পিতভাবে খুন করার লক্ষ্যেই মূল অভিযুক্ত ফয়সালকে জামিনে মুক্ত করা হয়েছিল।
শনিবার (৩ জানুয়ারি) বিকেলে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে এক দীর্ঘ পোস্টে তিনি এই বিচার বিভাগীয় ও রাজনৈতিক যোগসাজশের ইঙ্গিত দেন।
জামিনের নেপথ্যে কারা? জুমার প্রশ্ন
ফাতিমা তাসনিম জুমা তার পোস্টে এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্রের ইঙ্গিত দিয়ে বেশ কিছু কঠিন প্রশ্ন তুলে ধরেছেন। তিনি জানতে চান:
হত্যাকাণ্ডের ঠিক আগেই ফয়সালকে জামিনে বের করার জন্য সরকারের ভেতর থেকে কে তদবির করেছিল?
কোন বিচারক এই জামিন মঞ্জুর করেছিলেন এবং সেই বিচারকের নিয়োগ প্রক্রিয়া কেমন ছিল?
কোন আইনজীবীর মাধ্যমে এই জামিন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে এবং কার মাধ্যমে ফয়সাল ইনকিলাব মঞ্চে যুক্ত হয়েছিল?
তদন্তের স্থবিরতা নিয়ে উদ্বেগ
জুমা অভিযোগ করেন যে, এই মামলার অন্যতম গ্রেপ্তারকৃত আসামি কবির প্রথম থেকেই ফয়সালের সাথে সম্পৃক্ত ছিল। এমনকি সেন্টারে প্রথম হামলার চেষ্টার দিনও সে ফয়সালের সাথে উপস্থিত ছিল। কবিরের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য থাকার প্রবল সম্ভাবনা থাকলেও কেন তদন্তের কোনো দৃশ্যমান অগ্রগতি নেই, তা নিয়ে তিনি ক্ষোভ প্রকাশ করেন। তিনি মনে করেন, অনুসন্ধানী সাংবাদিকরা এই প্রশ্নগুলোর উত্তর খুঁজলে হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত জট খুলে যাবে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
উল্লেখ্য, গত ১২ ডিসেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোটের তপশিল ঘোষণার পরদিন দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনের বক্স কালভার্ট রোডে ওসমান হাদিকে লক্ষ্য করে মাথায় গুলি করে দুর্বৃত্তরা। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে প্রথমে ঢাকা মেডিকেল এবং পরবর্তীতে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলেও শেষ রক্ষা হয়নি। গত ১৯ ডিসেম্বর তার মরদেহ দেশে আনা হয় এবং ২০ ডিসেম্বর সংসদ ভবনের দক্ষিণ প্লাজায় জানাজা শেষে তাকে জাতীয় কবির সমাধিস্থলে দাফন করা হয়।

