জিয়ার আদর্শ বনাম বর্তমানের আপসকামিতা: শহীদ ওসমান হাদীর উত্তরসূরিরা আজ কোন পথে?
শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের জাতীয়তাবাদী দর্শনের একনিষ্ঠ সৈনিক ছিলেন শহীদ ওসমান হাদী। তাঁর রক্তে মিশে ছিল দেশপ্রেম আর অন্যায়ের বিরুদ্ধে আপসহীন বিদ্রোহ। কিন্তু সময়ের বিবর্তনে আজ বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে—যাঁরা নিজেদের ওসমান হাদীর উত্তরসূরি দাবি করেন, সেই দলের বর্তমান নেতা বা প্রার্থীরা আসলে কতটা ‘জিয়াপন্থী’ রাজনৈতিক চর্চা ধরে রেখেছেন?
আদর্শের দাবি বনাম নোংরা রাজনীতির বাস্তবতা
বিগত কয়েকদিন ধরে বৃহত্তর সেই দলটির (বিএনপি) নেতা-কর্মীরা দ্রোহের প্রতীক শহীদ ওসমান হাদীকে নিজেদের বলে দাবি করছেন এবং তাঁকে ‘ওউন’ করার জোরালো চেষ্টা চালাচ্ছেন। কিন্তু বৈপরীত্যটা ঠিক এখানেই—যেই দলের নেতা-কর্মীরা হাদীর আত্মত্যাগের দোহাই দিচ্ছেন, সেই দলেরই একজন প্রার্থী এখন লিপ্ত হয়েছেন নোংরা রাজনীতিতে।
দেশের সমসাময়িক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম সাহসী মুখ এবং জুলাই বিপ্লবের সম্মুখ সারির যোদ্ধা হাসনাত আবদুল্লাহর বিরুদ্ধে সেই প্রার্থীর অবস্থান আজ জনমনে নানা প্রশ্নের জন্ম দিচ্ছে। একজন সত্যিকারের দেশপ্রেমিক লড়াকু যোদ্ধাকে রাজনৈতিকভাবে প্রতিহত করার এই অপচেষ্টা কি শহীদ ওসমান হাদীর আদর্শের সঙ্গে যায়?
আওয়ামী পুনর্বাসনের ছায়া ও তরুণ প্রজন্মের ক্ষোভ
দীর্ঘদিন ধরেই গুঞ্জন ছিল যে, এই বৃহত্তর দলটির ভেতর একটি অংশ পতিত স্বৈরাচার আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসিত করার প্রক্রিয়ায় লিপ্ত। ইতিপূর্বে বিভিন্ন সময়ে এই নিয়ে প্রশ্ন উঠলেও, বর্তমানে বিষয়টি আর গোপন নেই। হাসনাত আবদুল্লাহর মতো একজন ‘কমরেড’-কে রুখে দিয়ে আওয়ামী দোসরদের স্পেস করে দেওয়ার এই রাজনীতিকে দেশের সচেতন তরুণ প্রজন্ম অত্যন্ত নেতিবাচকভাবে দেখছে।
তরুণদের ভাষ্য স্পষ্ট: “যাঁরা জুলাইয়ের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আবার পুরনো খুনিদের পুনর্বাসনের স্বপ্ন দেখছেন, তারা আর যাই হোক দেশের মঙ্গলকামী হতে পারেন না।”
জোটের রাজনীতি ও বাংলাদেশপন্থী চেতনা
নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগ এবং বৃহত্তর দল হিসেবে বিএনপির মধ্যে কোনো ধরণের গোপন আঁতাত বা জোট গড়ার প্রচেষ্টাকে এদেশের সাধারণ জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না। বিশেষ করে যারা ‘বাংলাদেশপন্থী’ চেতনার ধারক ও বাহক, তাদের কাছে এই ধরণের রাজনৈতিক সমীকরণ চরম বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।
ব্ল্যাক লেন্স-এর পর্যবেক্ষণ:
রাজনীতিতে আদর্শের লড়াই থাকতে পারে, কিন্তু তা যেন কোনোভাবেই বিপ্লবের চেতনাকে ধূলিসাৎ না করে। শহীদ ওসমান হাদীর মতো বীরেরা রক্ত দিয়েছিলেন দেশের স্বাধীনতার সার্বভৌমত্ব রক্ষার জন্য, কোনো বিশেষ গোষ্ঠীর পুনর্বাসনের জন্য নয়। নেতৃত্বকে এখনই ভাবতে হবে—তারা কি শহীদ হাদীর আদর্শ ধারণ করবেন, নাকি ব্যক্তিস্বার্থের নোংরা রাজনীতিতে নিজেদের বিলীন করবেন?
“বিপ্লব পরবর্তী বাংলাদেশে আপসের কোনো স্থান নেই। যারা স্বৈরাচারের অবশিষ্টাংশ নিয়ে রাজনীতি করতে চান, ইতিহাস তাদের ক্ষমা করবে না।”
