ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪: শাপলা কলি কি ফুটছে অন্যের বাগানে? আতাউল্লাহর ‘স্বার্থের তীরে’ কি বিদ্ধ আমিনুল ইসলাম?
বিশেষ প্রতিবেদন | ব্ল্যাক লেন্স
কসবা-আখাউড়া: রাজনীতিতে কৌশলের মারপ্যাঁচ নতুন কিছু নয়, কিন্তু নিজের ঘর ফেলে অন্যের আঙ্গিনা পরিষ্কার করাটা যখন অভ্যাসে পরিণত হয়, তখন জনমনে প্রশ্ন জাগা স্বাভাবিক। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে এনসিপি-এর সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলামের নাম শোনা গেলেও, তার বর্তমান কর্মকাণ্ডে দেখা দিয়েছে চরম ধোঁয়াশা। নিজ আসনে ‘শাপলা কলি’ হয়ে প্রস্ফুটিত হওয়ার কথা থাকলেও তিনি যেন এখন অন্যের ধনুকের আবশ্যিক এক তীরে পরিণত হয়েছেন।
নিজের আঙিনা ছেড়ে অন্যের উঠানে
পেশাগত ও শিক্ষাগত যোগ্যতায় কোনো খামতি নেই ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলামের। ব্যক্তি হিসেবেও এলাকায় তার স্বচ্ছ ভাবমূর্তি রয়েছে। কিন্তু গোল বেঁধেছে তার রাজনৈতিক অগ্রাধিকার নিয়ে। কসবা-আখাউড়া আসনের ভোটাররা যখন তাদের প্রার্থীর অপেক্ষায়, তখন আমিনুল ইসলাম ব্যস্ত সময় পার করছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসনের প্রার্থী আতাউল্লাহর নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে।
মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ থেকে শুরু করে প্রচার-প্রচারণা—সবখানেই আতাউল্লাহর ‘ভ্যানগার্ড’ হিসেবে দেখা যাচ্ছে আমিনুলকে। নিজের আসনে যেখানে তার সরব উপস্থিতি কাম্য ছিল, সেখানে তিনি যেন নিজের সত্তা বিলিয়ে দিয়েছেন বিজয়নগরের রাজনীতিতে।
ফোনালাপে অসংলগ্ন জবাব
এই রহস্যজনক আচরণের বিষয়ে ‘ব্ল্যাক লেন্স’-এর পক্ষ থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। আমিনুল ইসলামের দাবি— দল এখনো তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থী ঘোষণা করেনি, তাই তিনি মাঠে নামছেন না। আপাতত দলীয় পদ-পদবি নিয়েই তিনি সন্তুষ্ট। তবে প্রশ্ন ওঠে, দলীয় ঘোষণার আগেই যদি অন্য আসনের প্রার্থীর জন্য জানপ্রাণ লড়িয়ে দেওয়া যায়, তবে নিজের সম্ভাব্য আসনের সমর্থকদের কেন তিনি অন্ধকারে রাখছেন?
ব্ল্যাক লেন্সের অনুসন্ধান:
ইঞ্জিনিয়ার আমিনুল ইসলাম দাবি করেছেন যে, কসবা-আখাউড়ার স্থানীয় নেতাকর্মীরাই তাকে পছন্দ করেছেন। তবে ‘ব্ল্যাক লেন্স’-এর অনুসন্ধানে বেরিয়ে এসেছে ভিন্ন এক নেপথ্য গল্প।
বিজয়নগর জিয়া পরিষদ কমিটির একজন প্রভাবশালী সদস্য নাম প্রকাশ না করার শর্তে অভিযোগ করেছেন, এটি নিছক রাজনৈতিক সখ্যতা নয়। বরং নিজের নির্বাচনী ব্যয়ের বোঝা কমাতে এবং আর্থিক সুবিধা হাসিল করতেই আতাউল্লাহ সুকৌশলে আমিনুল ইসলামকে নিজের স্বার্থে ব্যবহার করছেন। অর্থাৎ, কসবা-আখাউড়ার প্রার্থীর শ্রম ও সম্পদ ব্যয় হচ্ছে অন্য একজনের নির্বাচনী বৈতরণী পার করতে।
তৃণমূলের ক্ষোভ ও অনিশ্চয়তা
বিকল্প ধারার রাজনীতি করার প্রতিশ্রুতি নিয়ে মাঠে এলেও আমিনুল ইসলামের এমন ‘উদাসীনতা’ কসবা-আখাউড়ার এনসিপি সমর্থকদের মধ্যে চরম নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। মাঠপর্যায়ের কর্মীদের অভিমত, প্রার্থীর এমন পরনির্ভরশীলতা এবং নিজ আসনের প্রতি বিমাতাসুলভ আচরণ দীর্ঘমেয়াদে দলের জন্য বিপর্যয় ডেকে আনবে।
ব্ল্যাক লেন্স মন্তব্য: রাজনীতি কি তবে কেবলই স্বার্থসিদ্ধির দাবার ঘুঁটি? কসবা-আখাউড়ার সাধারণ মানুষ কি তবে এমন একজন প্রতিনিধি পাবেন যিনি নিজের মেরুদণ্ডে ভর করে দাঁড়াতে অক্ষম? উত্তর পেতে সময়ের অপেক্ষা।
প্রকাশকালঃ ৩০ আগস্ট ২০২৬ রাত ০৪ টা ০০ মিনিট ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় পুলিশের ধাওয়ায় পুকুরে কালো…
মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, সম্পাদক ও প্রকাশক ব্ল্যাক লেন্স ২.০ | 25-08-2026 রাজপথ এখন যেন এক…
Case Dossier: BL-2026-INV-KASBA-001X Top Secret // Law Enforcement & Judicial Eyes Only Case File: BL-2026-INV-KASBA-001X…
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চেতনানাশক প্রয়োগ করে সিএনজি অটোরিকশা চালক হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে…
Missing Child Mahin: প্রথম পুত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা দরিদ্র পরিবার, উদ্ধারে আকুল আবেদন - ব্ল্যাকলেন্স…
কাঠমিস্ত্রি থেকে হাসপাতালের CEO: কসবায় ভুল চিকিৎসায় মা-নবজাতকের মৃত্যুর গুঞ্জনে জমজম হাসপাতালের অনিয়ম উন্মোচন অনুসন্ধানী…