Categories: Uncategorized

পরিবর্তন হয় নি ব্রাহ্মণবাড়িয়া ০৪ আসনের বিএনপি প্রার্থী: দলের বিরুদ্ধে আপেল-মামুন!


মনোনয়নকে ঘিরে দ্বন্দ্ব, তবু মাঠে সক্রিয় বিএনপি প্রার্থী


ব্রাহ্মণবাড়িয়া–০৪ আসনে প্রচারণায় গতি—বিরোধিতায় কেবল একাংশই
নিজস্ব প্রতিনিধি: অকিবুল ইসলাম, ব্ল্যাক লেন্স
ব্রাহ্মণবাড়িয়া–০৪ (কসবা–আখাউড়া) আসনে জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণার পর রাজনৈতিক উত্তাপ আরও ঘনীভূত হয়েছে। তফসিল ঘোষণার সঙ্গে সঙ্গেই যখন অধিকাংশ প্রার্থী মাঠে দলের বার্তা পৌঁছে দেওয়ার কাজে ব্যস্ত, তখন এই আসনে বিএনপির অভ্যন্তরীণ একাংশ হঠাৎই মনোনয়ন নিয়ে সরব হয়ে উঠেছে।
তবে সরেজমিন তথ্য বলছে—
দলীয় মনোনীত প্রার্থী মুশফিকুর রহমান নিজে এবং তার মূল সমর্থক–কর্মীরা ইতোমধ্যেই মাঠে তৃণমূল প্রচারণা চালাচ্ছেন।বাড়ি–বাড়ি যোগাযোগ, স্থানীয় নেতাদের সঙ্গে বৈঠক এবং ভোটারদের সঙ্গে সরাসরি সংযোগ—সবই চলছে নিয়মিত।কিন্তু বিরোধিতায় কেবল দুই ব্যক্তি—এন আপেল ও মামুন।
স্থানীয়ভাবে আলোচনায় থাকা দুই ব্যক্তিকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয়েছে এই মনোনয়ন–বিরোধী আন্দোলনের চিত্র।
এন আপেল ও মামুন, যারা কবির ভুঁইয়ার ঘনিষ্ঠ সমর্থক হিসেবে পরিচিত, তারা প্রকাশ্যে দলের ঘোষিত প্রার্থীর প্রচারণায় না গিয়ে বরং “মনোনয়ন পরিবর্তন”-এর দাবিতে সক্রিয়।
এদের দাবি—দলের স্বার্থেই মনোনয়ন পরিবর্তন প্রয়োজন।
কিন্তু মাঠের বাস্তবতা বলছে—এ দাবি মূলত দলীয় সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অবস্থান নেওয়া অতি ক্ষুদ্র একটি গ্রুপের উদ্যোগ।বিএনপির মূল কাঠামো মুশফিকুরের সঙ্গে—দলীয় কর্মীদের স্বীকারোক্তি
ব্ল্যাক লেন্সের মাঠপর্যায়ের অনুসন্ধানে দেখা গেছে—
ওয়ার্ড, ইউনিয়ন, পৌরসভা ও উপজেলা পর্যায়ের বেশিরভাগ বিএনপি ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মী মুশফিকুর রহমানের প্রচারণায় সক্রিয়।
নিয়মিত পোস্টারিং, মাইকিং, মিটিং–মিছিলে অংশ নিচ্ছে তার সমর্থকরা।
তৃণমূলের বেশিরভাগ নেতা মনে করছেন—ঘোষিত প্রার্থীকে ঘিরে এখন দলের ঐক্য জরুরি।
এ বিষয়ে এক স্থানীয় নেতা ব্ল্যাক লেন্সকে বলেন—
“দলের যে সিদ্ধান্ত, সেই সিদ্ধান্তেই আমরা আছি। দুই–চারজনের দাবিতে নির্বাচনী লড়াই বন্ধ করে দেওয়া যায় না।”জামায়াতের মাসব্যাপী প্রস্তুতি—চাপ বাড়াচ্ছে বিএনপির ওপর
প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতপন্থীরা দীর্ঘ দেড় মাস ধরে ধারাবাহিক প্রচারণা চালিয়ে যাচ্ছে।
ঘরে–ঘরে যোগাযোগ, সুশৃঙ্খল মাঠকর্মী, এলাকায় দৃশ্যমান কার্যক্রম—সব মিলিয়ে তাদের প্রস্তুতি সুস্পষ্ট।
এই প্রেক্ষাপটে বিএনপির অভ্যন্তরীণ এই ক্ষুদ্র বিরোধিতা দলকে চাপের মুখে ফেলতে পারে বলে মনে করছেন অনেকেই।কারণ, নির্বাচনী লড়াই যতদিন এগোয়, ততই একতা–সংকটের প্রভাব বেশি পড়ে।
ভোটারদের প্রশ্ন—এ ক্ষেত্রে ক্ষতি কার?
এ আসনে ভোটাররা বুঝতে পারছেন—
দলীয় প্রার্থী মুশফিকুর রহমান মাঠে আছেন, প্রচারণা চালাচ্ছেন, কর্মীরাও সক্রিয়।সেক্ষেত্রে এন আপেল–মামুনদের বিরোধিতা কি সত্যিই দলের স্বার্থে, নাকি ব্যক্তিগত আনুগত্যের রাজনীতি?
একজন স্থানীয় ব্যবসায়ী বলেন—
“বিরোধিতা করতেই হলে তফসিলের আগে করত। এখন বিরোধিতা করলে তো প্রতিপক্ষই লাভবান হবে!”
শেষকথা: ব্রাহ্মণবাড়িয়া–০৪ আসনে অবস্থান স্পষ্ট—
মাঠে প্রার্থী, সোশ্যাল মিডিয়ায় বিরোধিতা** রাজনৈতিক বাস্তবতা বলছে—
বিএনপির মূল কাঠামো প্রার্থীকে কেন্দ্র করে সংগঠিত।ক্ষুদ্র একাংশ মনোনয়ন নিয়ে অসন্তুষ্ট।
প্রতিদ্বন্দ্বী পক্ষ মাঠে দীর্ঘ প্রস্তুতি নিয়ে এগিয়ে আছে।
এই পরিস্থিতিতে দলের ভেতরের বিভক্তি যত বাড়বে, নির্বাচনী মাঠে প্রতিযোগিতা ততই কঠিন হয়ে উঠবে।
ব্ল্যাক লেন্স পর্যবেক্ষণ: যেখানে ভোটের মাঠে প্রতিটি ঘণ্টা গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে অভ্যন্তরীণ বিরোধিতাই সবচেয়ে বড় ঝুঁকি।

Black Lens

Share
Published by
Black Lens

Recent Posts

সারাদেশে দৈনিক গড় খুন ১০ জনঃ আন্ডারওয়ার্ল্ডের প্রত্যাবর্তন ও পুরোনো শকুনের নতুন শিকার?

মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, সম্পাদক ও প্রকাশক ব্ল্যাক লেন্স ২.০ | 25-08-2026 রাজপথ এখন যেন এক…

2 weeks ago

KASBA_CNG_DRIVER_MURDER_CASE_DOSSIER

Case Dossier: BL-2026-INV-KASBA-001X Top Secret // Law Enforcement & Judicial Eyes Only Case File: BL-2026-INV-KASBA-001X…

3 weeks ago

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় সিএনজি চালক হত্যা: ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ চক্রের সন্দেহভাজন দুই সদস্য গ্রেপ্তার

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় চেতনানাশক প্রয়োগ করে সিএনজি অটোরিকশা চালক হত্যার ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে…

3 weeks ago

দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে নিখোঁজ হওয়া মাহিনের সন্ধান চেয়ে পিতা মাতার আকুতি।

Missing Child Mahin: প্রথম পুত্র সন্তানকে হারিয়ে দিশেহারা দরিদ্র পরিবার, উদ্ধারে আকুল আবেদন - ব্ল্যাকলেন্স…

1 month ago

কাঠমিস্ত্রি থেকে হাসপাতালের নির্বাহী পরিচালক………

কাঠমিস্ত্রি থেকে হাসপাতালের CEO: কসবায় ভুল চিকিৎসায় মা-নবজাতকের মৃত্যুর গুঞ্জনে জমজম হাসপাতালের অনিয়ম উন্মোচন অনুসন্ধানী…

1 month ago