Categories: Uncategorized

একই এলাকার দুই প্রতিবেশী,শাপলাকলির প্রতীকে লড়বেন পৃথক দুই আসনে: নেপথ্যে কি কোনো বিশেষ রফা?

 

একই এলাকার দুই প্রতিবেশী,শাপলাকলির প্রতীকে লড়বেন পৃথক দুই আসনে: নেপথ্যে কি কোনো বিশেষ রফা?

ব্ল্যাক লেন্সের | ২৭ ডিসেম্বর, ২০২৫

আসন্ন সংসদ নির্বাচনে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে এনসিপি মনোনীত দুই প্রার্থীকে নিয়ে জেলাজুড়ে চাঞ্চল্য সৃষ্টি হয়েছে। এই দুই প্রার্থী হলেন আতাউল্লাহ এবং ইঞ্জিনিয়ার আমিন চৌধুরী। তারা জন্মসূত্রে একই এলাকার প্রতিবেশী হওয়া সত্ত্বেও লড়ছেন দুটি ভিন্ন আসন থেকে, যা নিয়ে রাজনৈতিক মহলে নানা গুঞ্জন ডালপালা মেলছে।

বিতর্কের কেন্দ্রে আতাউল্লাহ

ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকে লড়ছেন রুমিন ফারহানার বলয়ের নেতাকর্মীর দ্বারা সদ্য বেদম কেলানি খাওয়া এনসিপি নেতা আতাউল্লাহ। তবে তার রাজনৈতিক ক্যারিয়ার নিয়ে রয়েছে নানা বিতর্ক। স্থানীয় অনেক নেতাকর্মীর দাবি, ইতিপূর্বে গণঅধিকার পরিষদকে খণ্ড-বিখণ্ড ও ধ্বংস করার পেছনে মূল কারিগর ছিলেন এই আতাউল্লাহ। বিতর্কিত এই নেতার মনোনয়ন নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝেও মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

জনপ্রিয় আমিন চৌধুরী কেন অন্য আসনে?

অন্যদিকে, ইঞ্জিনিয়ার আমিন চৌধুরী তার নিজ উপজেলা বিজয়নগরে অত্যন্ত জনপ্রিয় মুখ হিসেবে পরিচিত। নিবিড় অনুসন্ধানে দেখা গেছে, বিজয়নগর (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ এর অংশ) এলাকায় সমাজসেবক হিসেবে তার ব্যাপক গ্রহণযোগ্যতা রয়েছে। সবাই আশা করেছিল তিনি ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৩ আসন থেকেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন। কিন্তু অবাক করা বিষয় হলো, তিনি মনোনয়ন নিয়েছেন ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ (কসবা-আখাউড়া) আসন থেকে। কসবা-আখাউড়া এলাকায় তার নিজ দলের অল্প কিছু সংখ্যক নেতাকর্মীরা তাকে চিনলেও সাধারণ ভোটারদের কাছে তিনি অনেকটা অপরিচিত মুখ।

তবে ইতিপূর্বেই কসবা উপজেলা এনসিপি নেতা তানভীর আরো কয়েক মাস আগেই আমিন চৌধুরীকে হেভী ওয়েট নেতা দাবী করে বলেছিলেন, “সুমন টুমন এর থেকে আরো হেভী ওয়েট এর নেতা মনোনয়ন পাবে এই আসন থেকে।”

নেপথ্যের ‘চুক্তি’ ও নির্বাচনী সমীকরণ

ভেতরের খবর বলছে, আতাউল্লাহ এবং আমিন চৌধুরীর এই আসন পরিবর্তনের পেছনে রয়েছে বিশেষ এক সমঝোতা। নির্ভরযোগ্য সূত্রে জানা গেছে, আতাউল্লাহর নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার যাবতীয় ব্যয়ভার বহন করার শর্তে আমিন চৌধুরীকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনে মনোনয়ন পেতে সহযোগিতা করেছেন আতাউল্লাহ। মূলত আর্থিক লেনদেন বা নির্বাচনী খরচ মেটানোর একটি অলিখিত চুক্তির মাধ্যমেই এই আসন বণ্টন হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মাঠে নেই আমিন চৌধুরী

এদিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসন থেকে মনোনয়ন ফরম কিনলেও এখন পর্যন্ত নির্বাচনী এলাকায় আমিন চৌধুরীর কোনো তৎপরতা চোখে পড়েনি। কসবা-আখাউড়ার কোনো ভোটারের কাছে তিনি ভোট চাইতে যাননি এবং এখন পর্যন্ত কোনো ধরনের প্রচার-প্রচারণাও শুরু করেননি। বিষয়টি নিয়ে তৃণমূলের নেতাকর্মীদের মাঝে ক্ষোভ ও হতাশা বিরাজ করছে। তাদের প্রশ্ন, নিজ এলাকায় জনপ্রিয় হয়েও কেন তিনি অন্য আসনে গিয়ে নিষ্ক্রিয় হয়ে বসে আছেন?

নির্বাচনের দিন ঘনিয়ে এলেও এনসিপির এই দুই প্রার্থীর এমন রহস্যময় আচরণ ব্রাহ্মণবাড়িয়ার রাজনৈতিক সমীকরণকে কোন দিকে নিয়ে যায়, এখন সেটাই দেখার বিষয়।

Black Lens 2.0 Editorial Team

Share
Published by
Black Lens 2.0 Editorial Team

Recent Posts

কসবায় ৫ম শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: ফার্নিচার দোকানির বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ৫ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় ফার্নিচার দোকান মালিক ইয়াসিন মিয়ার বিরুদ্ধে…

3 days ago

This website uses cookies.