ব্ল্যাক লেন্স ২.০

ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের (ডিএমপি) কলাবাগান থানার এক উপপরিদর্শক (এসআই) রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়েছেন বলে জানা গেছে। প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, এসআই রাকিবুল হাসান সরকার (৩২) গত মঙ্গলবার রাত্রিকালীন ডিউটির কথা বলে থানা ভবনের ব্যারাক থেকে সাদাপোশাকে বের হওয়ার পর আর ফিরে আসেননি। একজন দায়িত্বরত পুলিশ কর্মকর্তার এভাবে নিখোঁজ হওয়ার ঘটনায় প্রাতিষ্ঠানিক পর্যায়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে এবং তার সন্ধানে ইতোমধ্যে দাপ্তরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে।

ঘটনার বিবরণ ও সময়ক্রম

কলাবাগান থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. ফজলে আশিকের দেওয়া প্রাথমিক তথ্যমতে, মঙ্গলবার বিকেল সাড়ে ৫টার দিকে এসআই রাকিবুল প্রথম দফায় সাদাপোশাকে ব্যারাক থেকে বের হন। পরবর্তীতে চা পানের পর তিনি পুনরায় ব্যারাকে প্রবেশ করেন। এরপর রাত পৌনে ৮টার দিকে রাত্রিকালীন ডিউটি রয়েছে জানিয়ে তিনি আবারও সাদাপোশাকে বেরিয়ে যান। এরপর থেকেই তার আর কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। বর্তমানে দাপ্তরিকভাবে তাকে ‘গরহাজির’ (অনুপস্থিত) হিসেবে গণ্য করা হচ্ছে।

প্রাতিষ্ঠানিক পদক্ষেপ ও তদন্তের রূপরেখা

আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একজন সদস্য নিখোঁজ হওয়ার পরপরই পুলিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে বেশ কিছু সতর্কতামূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে:

পারিবারিক ও ব্যক্তিগত প্রেক্ষাপট

এসআই রাকিবুল হাসানের পৈতৃক নিবাস গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলাধীন বাপ্তা গ্রামে। তার পিতার নাম মাইজ উদ্দিন সরকার। ব্যক্তিগত বর্ণনায় জানা যায়, তিনি শ্যামলা বর্ণের, মুখমণ্ডল গোলাকার, উচ্চতা প্রায় ৫ ফুট ৮ ইঞ্চি এবং ছোট কালো চুলের অধিকারী। তার স্ত্রী গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন।

পরিবারের সদস্যদের মতে, নিখোঁজ হওয়ার বিষয়ে তারা সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছেন এবং এই ঘটনায় তারা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। পারিবারিক সূত্রে দাবি করা হয়েছে, স্ত্রীর সাথে তার কোনো ধরনের বিরোধ বা কলহ ছিল না।

প্রেক্ষাপট ও বিশ্লেষণ

এই নিখোঁজের ঘটনার নেপথ্যে বেশ কিছু পেশাগত দিক খতিয়ে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা। এসআই রাকিবুল পূর্বে আয়কর বিভাগে কর্মরত ছিলেন। সেই চাকরি ছেড়ে তিনি পুলিশ বাহিনীতে যোগদান করেন। পরবর্তীতে তিনি পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনে (পিবিআই) দায়িত্ব পালন করেন এবং মাত্র এক মাস আগে কলাবাগান থানায় বদলি হয়ে আসেন।

তদন্ত সংশ্লিষ্টদের ধারণা, পিবিআই থেকে ডিএমপিতে বদলি হওয়ার পর পেশাগত কাজের তীব্র চাপ অথবা অজ্ঞাত কোনো পারিবারিক কারণে তিনি মানসিক হতাশায় ভুগছিলেন কি না, তা একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। একজন পুলিশ কর্মকর্তার ডিউটির নাম করে বেরিয়ে নিখোঁজ হওয়া এবং সাথে সরকারি অস্ত্র না নেওয়া—এই বিষয়গুলো ইঙ্গিত দেয় যে, ঘটনাটি পূর্বপরিকল্পিত হতে পারে। একইসাথে, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের কর্মক্ষেত্রের চাপ ও মানসিক স্বাস্থ্যের জবাবদিহিতার বিষয়টিও এই ঘটনার মধ্য দিয়ে নতুন করে সামনে এসেছে। ঘটনার প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে পুলিশের একাধিক ইউনিট কাজ করছে বলে জানা গেছে।

কলাবাগান থানার নিখোঁজ এসআই রাকিবুল হাসান সরকারের ছবি।