এস আই ফারুক হোসেন।

কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া |৩ জানুয়ারি, ২০২৬

কসবা—ব্রাহ্মণবাড়িয়ার এই সীমান্ত উপজেলাটি ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে পরিচিত। তবে গত এক বছরে এই জনপদে মাদক কারবারিদের কাছে মূর্তিমান আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছেন ডিবি ফারুক। পুরো নাম ফারুক হোসেন, বর্তমানে বাংলাদেশ পুলিশের কসবা থানায় সাব-ইন্সপেক্টর (এসআই) পদে কর্মরত। বছরের শেষান্তে প্রশাসনিক কর্মকাণ্ড পর্যালোচনা করতে গিয়ে যার নাম এবং সাফল্য এখন জেলাজুড়ে টক অব দ্য টাউন।


সাফল্যের খতিয়ান: সংখ্যায় যখন বীরত্ব কথা বলে
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম এবং পুলিশি নথি বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, এসআই ফারুকের একক অভিযানে গত এক বছরে কসবায় মাদক সিন্ডিকেটগুলোর ভিত নড়ে গেছে। তার সফল অভিযানের কিছু উল্লেখযোগ্য পরিসংখ্যান:
গাঁজা জব্দ: প্রায় ৩০০০ কেজি (তিন টন)।
রেকর্ড অভিযান: সম্প্রতি একক অভিযানে ২০৫ কেজি ভারতীয় গাঁজা উদ্ধার করে সারা দেশে চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছেন।
অন্যান্য মাদক: বিপুল পরিমাণ অবৈধ এসকফ সিরাপ, ইয়াবা ট্যাবলেট এবং বিদেশি মদ উদ্ধার।


মামলা: কসবা থানায় তার একক প্রচেষ্টায় দায়ের হওয়া মাদক মামলার সংখ্যা ১২০(একক) ছাড়িয়ে গেছে।
সহকর্মী ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের মতে, সীমান্ত ঘেঁষা এই কঠিন ভূখণ্ডে রাতদিন অতন্দ্র প্রহরীর মতো তার এই উপস্থিতি কসবার মাদক কারবারিদের ‘ঘুম হারাম’ করে দিয়েছে।এবং তার দক্ষতা ও নিবেদিত পরিশ্রম আমাদেরকেও বিমোহিত করে তুলে।

ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা(পুলিশ পরিদর্শক তদন্ত) রিপন দাশ ব্ল্যাক লেন্স কে জানান,

“এস.আই ফারুক কসবা থানায় মাদক বিরোধী অভিযানে এক অন্যতম সাফল্যের নাম। আমাদের ওসি মহোদয় জনাবা নাজনীন আক্তার এর নেতৃত্বে তার সাহসিক মাদক বিরোধী অভিযান আরো সুপরিকল্পিতভাবে এগিয়ে নেওয়া হচ্ছে এবং চলমান থাকবে।আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী কর্তৃপক্ষের জায়গা থেকে আমরা সকলেই আমাদের উপর অর্পিত দায়িত্ব নিষ্ঠার সাথে পালন করতে সদা জাগ্রত।”



সীমান্তবর্তী কসবায় কেন এসআই ফারুকের মতো আরো অফিসার প্রয়োজন?
কসবা উপজেলাটি ভারতের সীমান্ত সংলগ্ন হওয়ায় এখান দিয়ে মাদকের বড় বড় চালান দেশের অভ্যন্তরে প্রবেশের চেষ্টা করে। মাদকের এই মরণছোবল কেবল সীমান্ত এলাকা নয়, বরং সারা দেশের যুবসমাজকে ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে।
মাদক একটি নীরব সামাজিক বিষ্ফোরক। একটি পরিবারে একজন মাদকাসক্ত থাকা মানে পুরো পরিবারটি ধ্বংস হয়ে যাওয়া। কসবার মতো ট্রানজিট পয়েন্টে যদি ফারুক হোসেনের মতো নির্ভীক ও সৎ অফিসার না থাকে, তবে এই বিষবৃক্ষ উপড়ে ফেলা অসম্ভব। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এসআই ফারুক হোসেন কসবা থানার জন্য এক ‘আশীর্বাদ’। তার কঠোর অবস্থান মাদক পাচারকারীদের জন্য যেমন ত্রাস, তেমনি সাধারণ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা।

উর্দি ও মানবিকতার মেলবন্ধন
কেবল মাঠপর্যায়ের কঠোর পুলিশিং নয়, এসআই ফারুকের মানবিক সত্তাও স্থানীয়দের মুগ্ধ করেছে। পেশাগত দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি তিনি কসবা উপজেলার অন্তত ২-৩ জন মেধাবী শিক্ষার্থীর পড়াশোনার খরচ ব্যক্তিগতভাবে নিজ সাধ্যমতো বহন করছেন। একজন পুলিশ অফিসারের এই সমাজ সংস্কারক রূপটি সাধারণ মানুষের সাথে পুলিশের দূরত্ব কমিয়ে আনছে।

কসবার সচেতন সমাজের বক্তব্য
স্থানীয় সামাজিক সংগঠন সিটিএল এর সাধারন সম্পাদক ও সম্ভাব্য পৌর মেয়র পদপ্রার্থী জনাব মোঃ সজীব বলেন,

“সীমান্তবর্তী এলাকা হওয়ায়, আমাদের কসবায় মাদকের বিস্তার ও সহজলভ্যতা বহুলাংশেই বেশি, আমরা যুবকদের মাঝে বিভিন্ন ক্রীড়া অনুষ্ঠান ও সচেতনতা বাড়ানোর চেষ্টা করছি আর এইদিকে এস.আই ফারুক এর মতো চৌকস পুলিশ কর্মকর্তা মাদকের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করছেন। সর্বোপারি দুইটি ভিন্ন জায়গা হলেও আমাদের সকলের মোটিভ প্রায় একই। নানান চাপ,চক্রান্ত, ষড়যন্ত্রের ঊর্ধ্বে গিয়ে এস আই ফারুক হোসেনের এই সাহসিকতা ও পরিশ্রম আমাদের এই আসনের সংসদ সদস্য জনাব মুশফিকুর রহমানের মাদক বিরোধী যুদ্ধ ও জিরো টলারেন্স নীতি কে আরো অগ্রসর করবে বলে আমার বিশ্বাস”


এসআই ফারুকের বক্তব্য
নিজের কর্মতৎপরতা সম্পর্কে এসআই ফারুক হোসেন থেকে তার বিভিন্ন দুঃসাহসিক অভিযানের ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ ও অনুভূতি নিয়ে জিজ্ঞেস করলে তিনি আমাদেরকে বলেন:

“মাদক বিরোধী অভিযানের ক্ষেত্রে, মাদক আটক থেকে মামলা রুজু হওয়া পর্যন্ত সবটাই বিরাট চ্যালেঞ্জ, মাদক-কারবারিরা প্রতিনিয়ত তাদের কৌশল পাল্টাচ্ছে। জীবনঝুকি বাদেও কখনো কখনো অদৃশ্য শক্তির চাপ মোকাবিলা করতে হয়।আমার অনুভূতি আমি কখনোই বলে বুঝাতে পারবো বলে মনে হয় না কেননা একটি যুবসমাজকে ধ্বংস করার জন্য মাদকের মতো সামাজিক বিষ্ফোরাই যথেষ্ট। আমি বিশ্বাস করি, আমার প্রচেষ্টায় যদি অন্তত একটি যুবকও মাদকের ছোবল থেকে রক্ষা পায়, তবেই আমার কর্মজীবন সার্থক। মাদকমুক্ত দেশ গড়াই আমার মূল লক্ষ্য।


সবশেষে
তদন্তমূলক সাংবাদিকতার দর্পণে এটি স্পষ্ট যে, এসআই ফারুক হোসেন কেবল একজন আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য নন, বরং তিনি কসবা তথা সারা বাংলাদেশের যুবসমাজকে রক্ষার এক অতন্দ্র প্রহরী। তার এই আপসহীন সংগ্রাম যদি প্রতিটি থানায় ছড়িয়ে পড়ে, তবে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়া কেবল সময়ের ব্যাপার মাত্র।

এস আই ফারুক হোসেন।

By Blens25

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *