ইহা একটি ব্যক্তিকেন্দ্রিক স্টোরি যার শতভাগই সত্য ও বস্তুনিষ্ঠ তথ্যের ওপর প্রতিষ্ঠিত।

বর্তমানে ঠান্ডা মস্তিষ্কে এবং রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে কসবায় যিনি লাগাতার অনিয়ম, দুর্নীতি ও অনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাচ্ছেন—তিনি এই সিদ্দিকুর রহমান বাবু। ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪ আসনের সংসদ সদস্য জনাব মোহাম্মদ মুশফিকুর রহমান, যিনি নিজেও একজন বিশিষ্ট গণমাধ্যম ব্যক্তিত্বের ভাবমূর্তি ও সুনাম ধারণ করেন, তার আশেপাশে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিচরণ করে আসছেন এই বাবু। স্থানীয়দের মতে, এই প্রভাবশালী সান্নিধ্যকে বাবু মূলত নিজের সব ধরনের অপকর্মের ‘ঢাল’ হিসেবে ব্যবহার করছেন। বিষয়টি নিয়ে মাননীয় সংসদ সদস্যের সরাসরি দৃষ্টি দেওয়া এখন সময়ের দাবিতে পরিণত হয়েছে।

খালের মাটি বিক্রি ও সরকারি খাল ভরাট

স্থানীয় সংসদ সদস্যের সুনাম ক্ষুণ্ণ করে একের পর এক অপকর্ম চালিয়ে যাচ্ছেন সিদ্দিকুর রহমান বাবু। কসবার তালতলার সরকারি খাল ভরাটের অন্যতম কারিগর এই বাবু। কিছুদিন আগেও ধর্মপুর খাল খননের সরকারি মাটি বিক্রি করে সেই মাটি শওকত রেজা রতনের সাথে যোগসাজশে অন্য আরেকটি সরকারি খাল ভরাট করার গুরুতর অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে। সেই সময় বাবু দাবি করেছিলেন, তিনি কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসারের (ইউএনও) অনুমতি নিয়েই ভরাট করেছেন। তার এই দাবি কতটা সত্য বা মিথ্যা ছিল তা স্পষ্ট না হলেও, স্থানীয় প্রশাসন কোনো কার্যকর পদক্ষেপ কেন নেয়নি—তা আজও অজানা এক রহস্য।

কো-অপারেটিভের দিকে নজর ও লুটতরাজের পুনরাবৃত্তি

সরকারি খাল ভরাটের পর বাবুর নজর পড়েছে দীর্ঘদিনের ক্ষতিগ্রস্ত ও রতনের মতো লুটেরাদের দ্বারা বিপর্যস্ত ‘দি কসবা কো-অপারেটিভ’-এর দিকে। সেখানে নিজ স্বার্থ হাসিল ও প্রভাব বিস্তারের অপচেষ্টায় মেতে উঠেছেন তিনি।

উল্লেখ্য, দীর্ঘদিন ধরে শেয়ার লুট হওয়া দি কসবা কো-অপারেটিভের নানা অনিয়ম ও আর্থিক কেলেঙ্কারি নিয়ে এর আগেও ‘ব্ল্যাক লেন্স’ (Black Lens)-এ একাধিক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল। সে সময় চিহ্নিত লুটেরা রতনের পক্ষাবলম্বন করে আমার ওপর পারিবারিকভাবে পরোক্ষ আক্রমণ ও চাপ সৃষ্টি করেন বাবু।

সাংবাদিক পরিবারকে ভয়ভীতি প্রদর্শন ও হুমকি

বিভিন্ন সময় বস্তুনিষ্ঠ তথ্য ও অনিয়ম প্রকাশ করায় বাবু আমার জন্মদাত্রী মাকে পর্যন্ত নানাভাবে ভয়ভীতি ও হুমকি দিয়ে আসছেন, যা আমাদের ধৈর্যের চরম সীমায় পৌঁছে দিয়েছে। বর্তমানে কো-অপারেটিভ নিয়ে ভুক্তভোগীসহ যারা প্রতিবাদ ও দাবি জানাচ্ছেন, তাদের অসচেতনতার সুযোগ নিয়ে হয়তো ভবিষ্যতের জন্য আরেকজন রতন তৈরি করা হচ্ছে—এই বিষয়টি এখনই সংশ্লিষ্ট সবার গভীরভাবে বিবেচনা করা উচিত।

প্রশাসনের প্রতি দৃষ্টি আকর্ষণ

সিদ্দিকুর রহমান বাবু এ পর্যন্ত যত অপকর্ম ও চক্রান্তে জড়িত, তার মাত্র অল্প কিছু চিত্র এখানে তুলে ধরা হলো। পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক উচ্চমহল ও প্রশাসনের প্রতি আমাদের জোরালো আহ্বান—বাবুর মতো সুযোগসন্ধানী ও ষড়যন্ত্রকারীদের বিরুদ্ধে অবিলম্বে নিরপেক্ষ তদন্ত সাপেক্ষে যথাযথ আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হোক এবং সত্য ও গঠনমূলক অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশকারী ব্যক্তি ও তাঁদের পরিবারের সার্বিক সুরক্ষা নিশ্চিত করা হোক।