ফেসবুক লাইভে প্রিন্ট করা ডিজিটাল প্রমাণ ও মেসেঞ্জার চ্যাট প্রদর্শন করে বক্তব্য দিচ্ছেন দেলোয়ার হোসেন জিন্না
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় এক সহকারী স্কুলশিক্ষিকাকে প্রকাশ্যে দিবালোকে আগ্নেয়াস্ত্র ঠেকিয়ে জোরপূর্বক তুলে নেওয়ার চেষ্টার অভিযোগে এলাকায় তোলপাড় সৃষ্টি হয়েছে। এ ঘটনায় স্থানীয় দেলোয়ার হোসেন জিন্না (৩০)-সহ অজ্ঞাত সহযোগীদের বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দায়েরের পর বিষয়টি নতুন মোড় নিয়েছে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছেন অভিযুক্ত জিন্না; একই সাথে ব্যক্তিগত বিরোধ ও চক্রান্তের দাবি তুলে ডিজিটাল নথি প্রদর্শনের মাধ্যমে আত্মপক্ষ সমর্থন করেছেন তিনি।
কসবা থানায় দায়েরকৃত অভিযোগপত্র (এসডিআর নম্বর-৩২০৭) সূত্রে জানা যায়, ভুক্তভোগী নুসরাত জাহান শান্তা (২৬) কসবা পশ্চিম ইউনিয়নের আকছিনা কুল্লাবাড়ি মডার্ন হাই স্কুলের সহকারী শিক্ষিকা। গত সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬) দুপুর আনুমানিক ২টার দিকে বিদ্যালয় ছুটির পর বাড়ি ফেরার পথে আকছিনা এলাকার মৃত আব্দুল হক চেয়ারম্যানের বাড়ির পশ্চিম পাশে তার গতিরোধ করা হয়।
অভিযোগে বলা হয়েছে, কুল্লাবাড়ি গ্রামের দেলোয়ার হোসেন জিন্না কোমর থেকে পিস্তল বের করে শিক্ষিকার পেটে ঠেকায় এবং তার এক অজ্ঞাত সহযোগী মুখ চেপে ধরে জোরপূর্বক একটি সিএনজি অটোরিকশায় তুলে নেয়। চিৎকার করতে চাইলে গলায় ছুরি ঠেকিয়ে হত্যার হুমকি দেওয়া হয়। পরবর্তীতে গাড়িটি কুল্লাবাড়ি জোড় ব্রিজের ওপর পৌঁছালে শিক্ষিকা চলন্ত গাড়ি থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ে প্রাণরক্ষা করেন এবং পথচারীদের সহায়তায় উদ্ধার হন। এ ঘটনায় আইনের আশ্রয় নিলে পরিবারসহ বড় ধরনের ক্ষতিসাধনের হুমকি দেওয়া হচ্ছে বলেও লিখিত অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুক লাইভে এসে নিজের অবস্থান তুলে ধরেন অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন জিন্না। প্রায় ১১ মিনিটের ওই ভিডিও বক্তব্যে তিনি অস্ত্র ঠেকিয়ে অপহরণের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করেন।
লাইভে তিনি যেসকল বিষয় দাবি করেন:
এদিকে স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত দেলোয়ার হোসেন জিন্নার বিরুদ্ধে ইতিপূর্বেও গুরুতর অভিযোগ উঠেছিল। ২০২৩ সালে আড়াইবাড়ি এলাকার এক কলেজছাত্রীর আপত্তিকর ভিডিও গোপনে ধারণ করে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি ও ব্ল্যাকমেইল করার অভিযোগে পুলিশ তাকে গ্রেফতার করেছিল। সে সময় ঘটনাটি আরটিভি ও চ্যানেল ২৪-সহ জাতীয় গণমাধ্যমে ব্যাপকভাবে প্রচারিত হয়।
অতীতে জামিনে বেরিয়ে আসার পর তার গতিবিধি নিয়ে স্থানীয়দের মাঝে উদ্বেগ ছিল। সাম্প্রতিক ঘটনায় নতুন করে অভিযোগ ওঠার পর কসবার সচেতন মহলে মিশ্র প্রতিক্রিয়া ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
ঘটনার পর থেকে ভুক্তভোগী পরিবার চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। অন্যদিকে অভিযুক্ত ব্যক্তি প্রকাশ্যে সামাজিক মাধ্যমে নিজের ব্যাখ্যা তুলে ধরে আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করছেন।
অভিযোগের অগ্রগতি এবং অভিযুক্তের পাল্টা দাবির বিষয়ে জানতে কসবা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আলী মোহাম্মদ রাশেদের সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তার কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
তবে দায়িত্বশীল একটি অভ্যন্তরীণ সূত্রের দাবি, সীমান্ত এলাকা হিসেবে কসবার মাদক ও চোরাচালানের গতিপথ নিয়ন্ত্রণ এবং অপরাধ দমনে স্থানীয় প্রশাসনের তৎপরতায় শিথিলতার কারণে চিহ্নিত অপরাধীরা বারবার সুযোগ পেয়ে থাকে।
একদিকে একজন নারী শিক্ষিকার প্রকাশ্যে অপহরণচেষ্টার মতো গুরুতর ফৌজদারি অভিযোগ, অন্যদিকে অভিযুক্তের ব্যক্তিগত বিরোধ ও ডিজিটাল প্রমাণের পাল্টা দাবি—সব মিলিয়ে ঘটনাটির রহস্য উদঘাটনে পক্ষপাতহীন পুলিশি তদন্ত ও ডিজিটাল ফরেনসিক পরীক্ষার জোর দাবি জানিয়েছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ৫ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় ফার্নিচার দোকান মালিক ইয়াসিন মিয়ার বিরুদ্ধে…
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলায় বসতভিটার জমি জবরদখল, ফলদ ও বনজ গাছ কেটে ফেলা এবং বাধা দেওয়ায়…
ফরেনসিক গোয়েন্দা বিশেষ আপডেট কেস রেফারেন্স: BD-FININT-2026-NCL-089 কসবা বর্ডার ফাইলস: স্বর্ণ ও হুন্ডি চ্যানেলের মূল…
VERIFIED FORENSIC INTELLIGENCE UPDATE CASE: BD-FININT-2026-NCL-089 THE KASBA BORDER FILES: UNMASKING THE GOLD & HUNDI…
Breaking Border Dispatch: Incident unfolds during cross-border pursuit of designated smuggler at Ashabari zero line…
সীমান্তের আশাবাড়িতে মাদক কারবারিকে ধাওয়ার মুখে ঘটনা; আটক সদস্যদের ফিরিয়ে আনতে বিজিবি-বিএসএফ জরুরি পতাকা বৈঠক…
This website uses cookies.