Categories: News

কসবা পুরাতন বাজার থেকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানায় কথিত সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারি সাজ্জাদ আটক: এলাকাবাসীর গুরুতর অভিযোগ ও পূর্বের নেপথ্য তথ্য

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা পৌর এলাকার পুরাতন বাজার থেকে গত ৪ আগস্ট রাত আনুমানিক নয়টার দিকে গ্রেপ্তারি পরোয়ানাসম্পন্ন অভিযুক্ত মো. সাজ্জাদ হোসেনকে আটক করেছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। দীর্ঘদিন ধরে এলাকায় মাদক চোরাচালান, ত্রাস সৃষ্টি এবং বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড পরিচালনার সুনির্দিষ্ট অভিযোগে তাকে আটক করা হয় বলে জানা গেছে। পরবর্তীতে আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে তাকে আদালতের মাধ্যমে ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলহাজতে পাঠানো হয়েছে।

পূর্বের অভিযোগ ও অপরাধমূলক নেটওয়ার্কের বিস্তার

স্থানীয় ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্ত সাজ্জাদের বিরুদ্ধে কসবা ও আশপাশের এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ মাদক ব্যবসা পরিচালনার শক্ত নেটওয়ার্ক গড়ে তোলার অভিযোগ রয়েছে। গত ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর থেকে স্থানীয় রাজনৈতিক কর্মী মো. সাদ্দাম নামক এক ব্যক্তির প্রকাশ্য ছত্রচ্ছায়ায় সে আরও বেপরোয়া হয়ে ওঠে বলে অভিযোগ উঠেছে।

অনুসন্ধানে আরও জানা যায়, সাজ্জাদের এসব অবৈধ কার্যক্রমে স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী ব্যক্তির সম্পৃক্ততা রয়েছে। বিশেষ করে ছাত্রদল নেতা সাদ্দামের নাম উঠে এসেছে, যিনি থানায় সাজ্জাদ সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট তথ্য ও প্রমাণ দাখিল করার পরও তা মীমাংসার কথা বলে তাকে বরাবরই রক্ষা করে আসছেন বলে অভিযোগকারীদের দাবি। কেবল টি আলী কলেজ সংলগ্ন এলাকাই নয়, বরং তার নিজ বাসা, বিজনা ব্রিজের নিচে এবং ইমাম-পাড়াসহ কসবার বিভিন্ন গোপন পয়েন্টে সে নিয়মিত মাদকদ্রব্য সরবরাহ ও সেবনের আডা পরিচালনা করে আসছিল।

কসবা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক(সফিকুর রহমান)-এর মন্তব্য ও অন্যান্য প্রসঙ্গ

এদিকে এই পুরো ঘটনা ও সাজ্জাদের সামগ্রিক অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের বিষয়ে আলোকপাত করতে গিয়ে কসবা সরকারি বালক উচ্চ বিদ্যালয়ের সাবেক প্রধান শিক্ষক সফিকুর রহমান এক প্রতিক্রিয়ায় জানান যে, এলাকার যুবসমাজকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে এবং অপরাধের শেকড় উপড়ে ফেলতে এই ধরনের অভিযান অত্যন্ত জরুরি। তিনি উল্লেখ করেন, অতীতেও এই চক্রটি বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের আশপাশে প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করেছিল এবং তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা না নিলে তরুণ প্রজন্ম মারাত্মক ঝুঁকিতে পড়বে।

প্রশাসনের বক্তব্য

কসবা থানা কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ওয়্যারেন্টভুক্ত পলাতক আসামি এবং মাদক কারবারিদের ধরতে পুলিশের সাঁড়াশি অভিযান অব্যাহত রয়েছে। সুনির্দিষ্ট অভিযোগ ও তথ্যের ভিত্তিতে অপরাধী যেই হোক না কেন, কাউকেই ছাড় দেওয়া হবে না। আইনশৃঙ্খলার অবনতি ঘটানোর চেষ্টাকারীদের বিরুদ্ধে জিরো টলারেন্স নীতি অনুসরণ করা হবে।

Mohammad Mehedi Hasan

Recent Posts

কসবায় ৫ম শ্রেণির শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগ: ফার্নিচার দোকানির বিরুদ্ধে মামলা, গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় ৫ম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীকে ধর্ষণের অভিযোগে স্থানীয় ফার্নিচার দোকান মালিক ইয়াসিন মিয়ার বিরুদ্ধে…

3 days ago

This website uses cookies.