বিতর্কিত নেতা কবির আহমেদ ভূইয়া ও পাশে দাড়ানো গুজন রটনা কারী সিরাজুল হক ইমু।প্রধান্মন্ত্রীর একান্ত সহকারী আব্দুর রহমান সানির ভাই কবির আহমেদ ভূইয়া ও মাদক-চোরাকারবারীর গড-ফাদার ইমু।

ব্ল্যাক লেন্স ২.০, মোহাম্মদ মেহেদী হাসান | কসবা

কসবা উপজেলায় দ্বীন-ইসলাম নামের এক যুবকের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডের পর ঘটনাটি নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক বিভ্রান্তি এবং পরস্পরবিরোধী তথ্যের ছড়াছড়ি লক্ষ্য করা যাচ্ছে স্থানীয় বিএনপি নেতাসহ ইমু-জ্বিলানী-আউয়াল সিন্ডিক্যাট এর বিরুদ্ধে। জাতীয় দৈনিক ‘প্রথম আলো’সহ বিভিন্ন গণমাধ্যমে নিহতের সংবাদ প্রকাশের পর, স্থানীয় ছাত্রদল নেতা সিরাজুল হক ইমুর নেতৃত্বে একটি বিশেষ মহল এই ঘটনাকে ‘ডাকাতির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে খুন’ হিসেবে প্রচারের চেষ্টা করছে বলে গুরুতর অভিযোগ উঠেছে। নিহতের পরিবার ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি, পূর্বশত্রুতার জেরে পরিকল্পিতভাবে দ্বীন-ইসলামকে হত্যা করা হয়েছে এবং খুনের মূল পরিকল্পনাকারীদের আইনি সুরক্ষা দিতেই পরিকল্পিতভাবে ডাকাতির এই প্রোপাগান্ডা ছড়ানো হচ্ছে ইমুর নেতৃত্বে।

ফেসবুকে পোস্ট সম্পাদনা ও তথ্য বিকৃতির অভিযোগ অনুসন্ধানে দেখা গেছে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে কসবা উপজেলার ছাত্রদল নেতা সিরাজুল হক ইমো নামের একটি আইডি থেকে দ্বীন-ইসলামের মৃত্যুর পর একাধিকবার পোস্টের তথ্য পরিবর্তন (Edit) করা হয়েছে। প্রাপ্ত স্ক্রিনশট বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, গতকাল সন্ধ্যা ৭:০৫ মিনিটে প্রথমে পোস্ট করা হয়, “ভুয়া সাংবাদিক দ্বীন ইসলাম (দ্বীনু ডাকাত ) খুন।” পরবর্তীতে সেই একই পোস্ট এরই কিছুক্ষন পূর্বে সম্পাদনা (Edit) করে লেখা হয়েছিল, “ভুয়া সাংবাদিক দ্বীন ইসলাম (দ্বীনু ডাকাত ) ডাকাতির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে ডাকাতের হাতে খুন।” সাথে যুক্ত করা হয় দ্বীন-ইসলামকে গাছে বেঁধে মারধরের কিছু ছবি।

স্থানীয় সচেতন মহলের প্রশ্ন, আইনি তদন্ত শেষ হওয়ার আগেই কবির আহমেদ ভূইয়া ও শরিফুল হক স্বপনের অনুসারী ও কথিত মাদকের গডফাদার কীভাবে নিশ্চিত হলেন যে এটি ডাকাতির টাকার ভাগাভাগি নিয়ে খুন? অভিযোগ রয়েছে, দ্বীন-ইসলামের কোমরে থাকা একটি খেলনা পিস্তল বা লাইটার গানকে পুঁজি করে এবং তাকে মারধরের ছবি ব্যবহার করে ঘটনাটিকে ‘ডাকাতি’ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার চেষ্টা চালাচ্ছেন কথিত এই ছাত্রদল নেতা ও তার অনুসারীরা।

পূর্বশত্রুতা ও মাদক সিন্ডিকেট উন্মোচনের জের? ব্ল্যাক লেন্স ২.০-এর কাছে আসা তথ্য ও স্থানীয় একাধিক সূত্রের দাবি অনুযায়ী, সিরাজুল হক ইমো, আউয়াল, আলম, জ্বিলানী এবং জাহাঙ্গীর মেম্বারসহ বেশ কয়েকজনের বিরুদ্ধে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে বিভিন্ন সময় সরব ছিলেন নিহত দ্বীন-ইসলাম। কথিত মাদক সিন্ডিকেট ও কারবারিদের নিয়ে ভিডিও ধারণ এবং তাদের অপকর্ম ফাঁস করে দেওয়ার কারণেই মূলত এই শত্রুতার সূত্রপাত বলে দাবি করা হচ্ছে।

সূত্রের অভিযোগ, এই আক্রোশের জের ধরেই কয়েক মাস আগে কুটি বাজারে দ্বীন-ইসলামকে জনসমক্ষে মারধর করা হয়েছিল এবং তখনও তার গায়ে ‘ডাকাত’ ট্যাগ দেওয়ার চেষ্টা করা হয় স্থানীয় এই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। অভিযোগ রয়েছে, সেই সময় দ্বীন-ইসলামের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিয়ে কথিত ওই সিন্ডিকেটের বিরুদ্ধে থাকা যাবতীয় তথ্য ও প্রমাণ মুছে ফেলা হয়েছিল। নিহত যুবকের ঘনিষ্ঠজনদের সন্দেহ, এবারের হত্যাকাণ্ডটিও সেই ধারাবাহিকতারই চূড়ান্ত রূপ হতে পারে এবং সিরাজুল হক ইমো, আউয়াল, আলম জ্বিলানীদের মতো ব্যক্তিরা এই ঘটনার নেপথ্যে মাস্টারমাইন্ড হিসেবে কাজ করে থাকতে পারেন।

প্রাতিষ্ঠানিক দায়বদ্ধতা ও সুষ্ঠু তদন্তের দাবি যেকোনো হত্যাকাণ্ডের বিচারিক প্রক্রিয়া তথ্য-প্রমাণ ও আইনি কাঠামোর ওপর নির্ভরশীল। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপপ্রচার চালিয়ে বা ডাকাতির নাটক সাজিয়ে প্রকৃত অপরাধীদের আড়াল করার চেষ্টা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার পথে বড় অন্তরায়। কসবা থানা পুলিশ ও সংশ্লিষ্ট আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রতি সচেতন মহলের জোর দাবি— দ্বীন-ইসলাম হত্যাকাণ্ডের পেছনে থাকা প্রকৃত কারণ, পূর্বশত্রুতা এবং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো বিভ্রান্তিকর পোস্টগুলোর পেছনের উদ্দেশ্য গভীরভাবে তদন্ত করা হোক।

নির্দোষিতার পূর্বানুমান (Presumption of innocence) নীতি অনুযায়ী আদালত কর্তৃক দোষী সাব্যস্ত হওয়ার আগ পর্যন্ত কেউ অপরাধী নয়। তবে, হত্যাকাণ্ডের মতো একটি গুরুতর অপরাধের পর যারা ইন্টারনেট ব্যবহার করে তদন্তের গতিপথ ভিন্নখাতে প্রবাহিত করার চেষ্টা করছেন, তাদের ডিজিটাল ফুটপ্রিন্ট এবং কল রেকর্ড যাচাই করা হলে এই হত্যাকাণ্ডের মূল রহস্য ও প্রকৃত মাস্টারমাইন্ডদের পরিচয় উন্মোচিত হতে পারে বলে মনে করছেন অপরাধ বিশ্লেষকরা।

সত্য কখনো চাপা থাকে না, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ প্রাতিষ্ঠানিক তদন্তের মাধ্যমেই দ্বীন-ইসলাম হত্যাকাণ্ডের জট খুলবে বলে প্রত্যাশা স্থানীয়দের।

বিতর্কিত নেতা কবির আহমেদ ভূইয়া ও পাশে দাড়ানো গুজন রটনা কারী সিরাজুল হক ইমু।

By Blens25

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *