কসবা তালতলা সরকারি খাল ভরাটের সময়রেখা এবং অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বাদল।ছবি: Black Lens 2.0

মোহাম্মদ মেহেদী হাসান, কসবা

১০ মার্চ, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার তালতলা গ্রামে সরকারি খাল দখল করে অবৈধ স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগটি এক নতুন মোড় নিয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে উঠে এসেছে যে, এই দখল প্রক্রিয়ার চুড়ান্ত ধাপে স্থানীয় প্রশাসনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পদ শূন্য থাকার সুযোগ নিয়েছেন অভিযুক্তরা। একইসাথে এই ঘটনা ধামাচাপা দিতে রাজনৈতিক চাপ প্রয়োগের গুরুতর অভিযোগ তুলেছেন স্থানীয় এক বিএনপি নেতা।

প্রশাসনের ‘শূন্যতা’ ও দখলের উৎসব

নির্ভরযোগ্য সূত্রে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, যখন সাবেক পুলিশ কর্মচারী সাফন মিয়া কর্তৃক খাল ভরাটের প্রক্রিয়াটি সমাপ্তির সময় ছিলো, তখন কসবা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) বা এসি ল্যান্ডের পদটি শূন্য ছিল। একই সময়ে পাশেই শুরু করেছিলেন বেকারি নির্মানের কাজ। প্রশাসনিক এই শূন্যতাকে কাজে লাগিয়েই কোনো প্রকার আইনি বাধা ছাড়াই ধাপে ধাপে খালের গতিপথ পরিবর্তন এবং পরবর্তীতে সেখানে অস্থায়ী বেকারি নির্মাণ করা হয়েছে বলে স্থানীয়দের ধারণা। একজন পেশাদার ভূমি কর্মকর্তার অনুপস্থিতি দখলদারদের জন্য আইনি ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকার একটি ‘সেফ প্যাসেজ’ হিসেবে কাজ করেছে।

মুখ না খুলতে স্থানীয় ব্যাক্তিকে ‘দলীয় চাপ’

অনুসন্ধানের এই পর্যায়ে স্থানীয় বিএনপি নেতা সালাহ উদ্দিন এক চাঞ্চল্যকর দাবি করেছেন। তার অভিযোগ অনুযায়ী, সরকারি খাল দখল এবং এর নেপথ্যে থাকা আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে মুখ না খুলতে তাকে একাধিকবার রাজনৈতিক চাপ দেওয়া হয়েছে।

সালাহ উদ্দিনের দাবি, পৌর বিএনপির সহ-সভাপতি বাদল তাকে দলীয় প্রভাব খাটিয়ে এই বিষয়ে চুপ থাকার নির্দেশ দিয়েছেন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, বাদল ঐ সময়ে  উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক স্বপনের অত্যন্ত ঘনিষ্ঠজন ছিলেন এবং বর্তমানে স্থানীয় এমপি মুশফিকুর রহমান ও জেলা বিএনপির স-সভাপতি ইলিয়াসের  বলয়ে বিচরণ করছেন। এই উপর মহলের রাজনৈতিক প্রভাব ব্যবহার করে তথ্য গোপন ও স্থানীয়দের ভয় দেখিয়ে বিষয়টি ধামা চাপা দেওয়ার চেষ্টা করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন সালাহ-উদ্দিন।

অভিযুক্তদের নীরবতা

এই বিষয়ে অভিযুক্ত পৌর বিএনপি সহ-সভাপতি  বাদলকে দফায় দফায় যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি কোনো সদুত্তর দিতে পারেননি। বিশেষ করে সালাহ উদ্দিনের তোলা ‘দলীয় চাপের’ অভিযোগ এবং সাবেক পুলিশ কর্মকর্তা সাফন মিয়ার  সাথে আর্থিক লেনদেনের বিষয়ে তিনি রহস্যজনক নীরবতা পালন করছেন।

আগামী অনুসন্ধানে যা থাকছে

এই অনুসন্ধানের পরবর্তী ধাপে আমরা আবারও সরাসরি কথা বলার চেষ্টা করছি অভিযুক্ত সাফন মিয়ার সাথে। এছাড়াও:

  • উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরিফুল হক স্বপন এই দলীয় চাপের বিষয়ে কী জানেন?
  • বর্তমান প্রশাসনের পক্ষ থেকে এই ভরাট/দখল উচ্ছেদে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হবে কি না তা জানার চেষ্টা করবো উপজেলা প্রশাসন থেকে ?
  • এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য প্রভাবশালী ব্যক্তিদের বক্তব্য নিয়ে আমাদের পরবর্তী প্রতিবেদন প্রকাশিত হবে। 
  • নিজ দলীয় নেতাকে হুমকির বিষয়ে সাবেক মেয়র ও জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি ইলিয়াস সাহেবের মন্তব্য কি তা জানার চেষ্টা করবো। 

চোখ রাখুন……………। 


কসবা তালতলা সরকারি খাল ভরাটের সময়রেখা এবং অভিযুক্ত বিএনপি নেতা বাদল।

By Blens25

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *