কসবা মহিলা মাদ্রাসার সভাপতির বিরুদ্ধে সাইবার অপরাধের অভিযোগ: ভুয়া ফটকার্ড ছড়িয়ে অপপ্রচারে লিপ্ত খোদ সাদ্দাম হোসেন!
তারিখ: ১৩ ডিসেম্বর ২০২৫
স্থান: কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
প্রতিবেদক: নিজস্ব প্রতিবেদক (Black Lens)
ব্রাহ্মণবাড়িয়া: শিক্ষার মতো পবিত্র অঙ্গনে যার দায়িত্ব নৈতিকতা ও শৃঙ্খলা বজায় রাখা, সেই রক্ষকই এবার ভক্ষকের ভূমিকায়! কসবা উপজেলা মহিলা দাখিল মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি সাদ্দাম হোসেন হাদির বিরুদ্ধে উঠেছে গুরুতর সাইবার অপরাধ ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে অপপ্রচার চালানোর অভিযোগ। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমের লোগো ব্যবহার করে ভুয়া ‘ফটকার্ড’ তৈরি এবং তা ফেসবুকে ছড়িয়ে দিয়ে প্রতিপক্ষকে ঘায়েল করার এই মিশনে তিনি নিজেই নেতৃত্ব দিচ্ছেন বলে প্রমাণ মিলেছে।
ভুয়া ফটকার্ডের স্বরূপ ও অপকৌশল:
সাদ্দাম হোসেন তার নিজের ভেরিফাইড বা ব্যক্তিগত ফেসবুক অ্যাকাউন্ট থেকে বিভিন্ন পোস্টের কমেন্টে বিভ্রান্তিকর সব ছবি ও কার্ড পোস্ট করছেন। আমাদের হাতে আসা স্ক্রিনশট ও তথ্যানুযায়ী, তিনি মূলত তিনটি কৌশলে এই অপপ্রচার চালাচ্ছেন:
১. গণমাধ্যমের লোগো জালিয়াতি: দেশের শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যম যেমন—কালবেলা, আমার দেশ, এবং ভয়েস বাংলা-র লোগো ও ডিজাইন নকল করে তিনি ভুয়া সংবাদ কার্ড তৈরি করছেন। যেমন, একটি কার্ডে লেখা হয়েছে, “ওসমান হাদীর উপরে হামলায় জামায়াত শিবির জড়িত”—অথচ সংশ্লিষ্ট গণমাধ্যমে এমন কোনো সংবাদ প্রকাশিত হয়নি।
২. রাজনৈতিক চরিত্র হনন: প্রতিপক্ষ ছাত্রনেতা বা অ্যাক্টিভিস্টদের (যেমন: সাদিক কায়েম) ছবি ব্যবহার করে তিনি “রূপান্তরিত ছাত্রলীগ” বা “ঘাতকের কল লিস্টে নাম”—এজাতীয় গুরুতর ও ভিত্তিহীন তথ্য প্রচার করছেন। উদ্দেশ্য পরিষ্কার—রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে ‘ছাত্রলীগ’ বা ‘সন্ত্রাসী’ ট্যাগ দিয়ে জনরোষ সৃষ্টি করা এবং সামাজিকভাবে হেয় করা।
৩. উসকানিমূলক প্রচারণা: কখনো তিনি জামায়াত-শিবিরকে জড়াচ্ছেন, আবার কখনো বিএনপির নাম ব্যবহার করছেন। একে অপরের মধ্যে বিভেদ ও দাঙ্গা লাগানোর হীন উদ্দেশ্যে তিনি এসব কার্ডে উসকানিমূলক বুলি ব্যবহার করছেন।

এছাড়াও কিছুদিন আগে বাদশা জুয়েল কে নিয়ে নিউজ করায় Black Lens Editor কে প্রকাশ্যে হামলা ও মারার নির্দেশ দেন স্থানীয় যুবদল নেতার একটি পোস্টে। যা সরাসরি তার উপর ত্রাসের মাফিয়ার পরিচয় ইঙ্গিত করে।

নেপথ্যের কারণ ও স্থানীয় ক্ষোভ:
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, মাদ্রাসার ম্যানেজিং কমিটির সভাপতি হলেও সাদ্দাম হোসেন মূলত তার রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার এবং ব্যক্তিগত আক্রোশ মেটাতেই এই পথ বেছে নিয়েছেন। বিশেষ করে সাদিক কায়েম এবং ওসমান হাদি ইস্যুতে তিনি ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছেন।
একজন মাদ্রাসার সভাপতির মতো দায়িত্বশীল পদে থেকে তিনি কীভাবে ফেসবুকে এমন কুরুচিপূর্ণ ও মিথ্যা প্রোপাগান্ডা ছড়াতে পারেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন স্থানীয় অভিভাবক ও সচেতন মহল। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক অভিভাবক জানান, “ইনি মাদ্রাসার সভাপতি হয়ে যদি ফেসবুকে মিথ্যা খবর ছড়ান, তবে আমাদের সন্তানেরা ওনার কাছ থেকে কী শিখবে? এটা স্পষ্টত সাইবার ক্রাইম।”
আইনি বিশ্লেষণ:
ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও প্রচলিত দণ্ডবিধি অনুযায়ী, কোনো গণমাধ্যমের নাম ভাঙিয়ে ভুয়া তথ্য ছড়ানো এবং কারো মানহানি করা গুরুতর অপরাধ। সাদ্দাম হোসেন হাদি যে কর্মকাণ্ড করছেন, তা একাধারে জালিয়াতি এবং তথ্যসন্ত্রাসের পর্যায়ে পড়ে।
Black Lens-এর পর্যবেক্ষণ:
ফেসবুকে সাদ্দাম হোসেনের কমেন্ট হিস্ট্রি ও অ্যাক্টিভিটি পর্যবেক্ষণ করে দেখা যায়, এটি কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়। তিনি সুপরিকল্পিতভাবে একটি ‘স্মিয়ার ক্যাম্পেইন’ (Smear Campaign) বা কাদা ছোড়াছুড়ির মিশনে নেমেছেন। নিজেকে আড়ালে রাখার চেষ্টা না করে প্রকাশ্যে নিজের আইডি থেকেই এসব করায় তার দম্ভ ও আইনের প্রতি তোয়াক্কা না করার মানসিকতাই ফুটে উঠেছে।
শেষ কথা:
শিক্ষাঙ্গনের পবিত্রতা রক্ষা এবং সামাজিক শান্তি বজায় রাখতে প্রশাসনের অবিলম্বে এই ভুয়া প্রচারণার লাগাম টানা প্রয়োজন। কসবা মহিলা মাদ্রাসার মতো প্রতিষ্ঠানের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নকারী এই সভাপতির বিরুদ্ধে যথাযথ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা এখন সময়ের দাবি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *