ব্ল্যাক লেন্স এক্সক্লুসিভ: হালুয়াঘাট সীমান্ত দিয়ে ভারতে পলায়ন ‘শুটার’ দাউদ খানের! ফাঁস হলো গোপন লোকেশন ও সেলফি।
তারিখ: ১৫ ডিসেম্বর, ২০২৫
ডেস্ক: ক্রাইম ও ইনভেস্টিগেশন
সূত্র: জুলকারনাইন সায়ের (ফেসবুক পেজ)
দেশের সাম্প্রতিক পরিস্থিতির অন্যতম বিতর্কিত ও আলোচিত চরিত্র সাবেক ছাত্রলীগ নেতা এবং কথিত ‘শুটার’ ফয়সাল করিম মাসুদ ওরফে দাউদ খান। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কঠোর নজরদারি এড়িয়ে কীভাবে তিনি দেশত্যাগ করলেন, তা নিয়ে জনমনে যখন হাজারো প্রশ্ন, ঠিক তখনই উন্মোচিত হলো চাঞ্চল্যকর তথ্য। অনুসন্ধানী সাংবাদিক জুলকারনাইন সায়েরের সূত্রে পাওয়া তথ্যে জানা গেছে দাউদ খানের পলায়নের রুট, বর্তমান অবস্থান এবং এই প্রক্রিয়ায় জড়িত প্রভাবশালীদের নাম।
পলায়নের রুট: গন্তব্য যখন আসাম
প্রাপ্ত তথ্যমতে, গত ১২ ডিসেম্বর সন্ধ্যায় ময়মনসিংহ জেলার হালুয়াঘাট সীমান্ত ব্যবহার করে অত্যন্ত কৌশলে ভারতে প্রবেশ করেন শুটার দাউদ খান। এই বিপদজনক যাত্রায় তার সঙ্গী ছিলেন মোটরসাইকেল চালক আলমগীর হোসেন। সীমান্ত পাড়ি দিয়ে তারা বর্তমানে ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটিতে অবস্থান করছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।
নেপথ্যে কার সহায়তা?
এই পলায়ন প্রক্রিয়ার সবচেয়ে উদ্বেগজনক দিক হলো প্রভাবশালী রাজনৈতিক সংযোগের অভিযোগ। অভিযোগ উঠেছে, জাহাঙ্গীর কবির নানকের ব্যক্তিগত সহকারী (PS) মো. মাসুদুর রহমান বিপ্লব তাদের নিরাপদে ভারতে পালাতে সরাসরি সহায়তা করেছেন। বিশেষ গোয়েন্দা সূত্র বলছে, সীমান্ত পার হওয়ার পর ভারতে যোগাযোগের জন্য বিপ্লবই তাদের একটি ভারতীয় মোবাইল নম্বর যোগাড় করে দেন।
ইন্টারসেপ্টেড ছবি ও লোকেশন ট্র্যাকিং
পালিয়ে যাওয়ার পর নিশ্চুপ থাকেননি দাউদ খান। ভারতীয় নম্বর (+৯১৬০০১৩৯৪০**) ব্যবহার করে তিনি নিজেদের একটি সেলফি বেশ কয়েকটি নম্বরে পাঠান। প্রযুক্তির সহায়তায় সেই ছবিটি ইন্টারসেপ্ট করা সম্ভব হয়েছে। ছবিতে দাউদ খান এবং তার সহযোগী আলমগীর হোসেনকে একটি বদ্ধ ঘরে দেখা যাচ্ছে। লোকেশন ট্র্যাকিং প্রযুক্তির মাধ্যমে নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, ছবিটি ভারতের আসাম রাজ্যের গুয়াহাটি থেকেই পাঠানো হয়েছে।
ব্ল্যাক লেন্সের পর্যবেক্ষণ
নিরাপত্তা বেষ্টনী ভেদ করে একজন চিহ্নিত ‘শুটার’ কীভাবে সীমান্ত পাড়ি দিলেন, তা প্রশাসনের সক্ষমতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে। হালুয়াঘাট সীমান্তের নিরাপত্তা ব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক প্রভাবশালীদের ছত্রছায়ায় অপরাধীদের এই ‘সেফ এক্সিট’ কি তবে ধরাছোঁয়ার বাইরেই থেকে যাবে?
এই ঘটনার আরও বিস্তারিত এবং পরবর্তী আপডেট পেতে চোখ রাখুন ‘ব্ল্যাক লেন্স’-এর পর্দায়। আমরা সত্য উন্মোচনে বদ্ধপরিকর।


