ফরি এপস্টেইন ফাইলস এবং আব্দুল আউয়াল মিন্টুর সংশ্লিষ্টতার প্রতিকি নথিছবি: ব্ল্যাক লেন্স ২.০ (Black Lens 2.0

নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্ল্যাক লেন্স ২.০ তারিখ: ০৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬

ব্রাহ্মণবাড়িয়া/কুমিল্লা ডেস্ক: কুখ্যাত যৌন অপরাধী জেফরি এপস্টেইনের অবমুক্ত হওয়া ৩৫ লাখ পৃষ্ঠার নথিতে এবার বাংলাদেশের যোগসূত্র পাওয়া গেছে। ‘এপস্টেইন ফাইলস’ নামে পরিচিত এই বিপুল পরিমাণ ইমেইল ও নথি পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, নিউ মেক্সিকোর প্রাক্তন গভর্নর বিল রিচার্ডসনের নির্বাচনী প্রচারণায় দাতা হিসেবে নাম রয়েছে বাংলাদেশের প্রভাবশালী ব্যবসায়ী ও বিএনপি নেতা আব্দুল আউয়াল মিন্টুর। একই নথিতে বাংলাদেশের বিশ্বখ্যাত গবেষণা প্রতিষ্ঠান আইসিডিডিআরবি’র (icddr,b) প্রতি এপস্টেইনের বিশেষ আগ্রহ ও বড় অংকের অনুদান প্রস্তাবের চাঞ্চল্যকর তথ্য মিলেছে।

বিল রিচার্ডসনের নির্বাচনী তহবিল ও মিন্টুর অনুদান

নথিগুলোতে সংরক্ষিত তথ্য অনুযায়ী, ২০০৬ সালের ৩ জুলাই একটি এন্ট্রিতে দাতা হিসেবে ‘Abdul A. Mintoo, Dhaka’ নামটি পাওয়া যায়। নথিতে তাকে বাংলাদেশি ব্যবসায়ী হিসেবে পরিচয় দেওয়া হয়েছে। বিল রিচার্ডসনের ওই নির্বাচনী প্রচারণায় তিনি ৫ হাজার মার্কিন ডলার অনুদান দিয়েছিলেন।

উল্লেখ্য যে, একই প্রচারণায় জেফরি এপস্টেইন নিজে ছিলেন অন্যতম শীর্ষ দাতা, যিনি ৫০ হাজার মার্কিন ডলার প্রদান করেছিলেন। বর্তমানে আব্দুল আউয়াল মিন্টু আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ফেনী-৩ (দাগনভূঞা-সোনাগাজী) আসন থেকে বিএনপির সম্ভাব্য সংসদ সদস্য পদপ্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন।


আইসিডিডিআরবি’র প্রতি এপস্টেইনের ‘বিশেষ নজর’

এপস্টেইনের ইমেইল এবং বিভিন্ন প্রকল্প প্রস্তাবনা বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে, তিনি বাংলাদেশের আইসিডিডিআরবি (icddr,b)-কে নিয়ে অত্যন্ত উচ্চাকাঙ্ক্ষী ছিলেন। নথি অনুযায়ী, ২০১৪ থেকে ২০১৭ সালের মধ্যে আইসিডিডিআরবি থেকে এপস্টেইনকে পাঠানো বেশ কিছু ইমেইল বিনিময়ের তথ্য পাওয়া গেছে। মোট ৫টি ফাইলে এই প্রতিষ্ঠানের উল্লেখ রয়েছে।

একটি ইমেইলে এপস্টেইন আইসিডিডিআরবি-কে ‘বিশ্বখ্যাত’ এবং ‘অন্ত্রের অণুজীব গবেষণায় বিশ্ব বিশেষজ্ঞ’ হিসেবে অভিহিত করেন। তার প্রস্তাবিত ‘আলঝেইমার গবেষণা’ উদ্যোগের অংশ হিসেবে এই প্রতিষ্ঠানটিকে ব্যবহারের পরিকল্পনা ছিল তার। নথিতে দেখা যায়:

  • অন্ত্রের অণুজীব (Microbiome) গবেষণার জন্য আইসিডিডিআরবি-কে ৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার অনুদান দেওয়ার প্রস্তাব ছিল।
  • লক্ষ্য ছিল একটি ‘ওয়ার্ল্ড গাট লাইব্রেরি’ বা ডিজিটাল লাইব্রেরি তৈরি করা।
  • এপস্টেইন আইসিডিডিআরবি-কে একটি উদ্ভাবনী ও অত্যাধুনিক গবেষণার কেন্দ্র হিসেবে বিবেচনা করতেন।

কেন এই নথি গুরুত্বপূর্ণ?

জেফরি এপস্টেইনের অপরাধ জগত এবং তার প্রভাবশালী নেটওয়ার্ক নিয়ে বিশ্বজুড়ে যখন তোলপাড় চলছে, তখন এই ৩৫ লাখ পৃষ্ঠার নথিতে বাংলাদেশের রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব ও প্রতিষ্ঠানের নাম আসা নতুন এক সমীকরণ তৈরি করছে। বিশেষ করে একজন রাজনৈতিক নেতার বিদেশি নির্বাচনী তহবিলে অর্থায়ন এবং একটি আন্তর্জাতিক গবেষণা প্রতিষ্ঠানের সাথে কুখ্যাত এক অপরাধীর যোগাযোগ ইনভেস্টিগেটিভ সার্কেলে বড় প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

By Blens25

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *