আওয়ামী লীগের গোপন নির্বাচনী পরিকল্পনা ও ব্যালট বক্সব্যালট বক্স ও নিষিদ্ধ আওয়ামীলীগের টাইটেল ও লোগো

ব্ল্যাক লেন্স ২.০


কসবা, বাংলাদেশ:

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ঘনিয়ে আসার সাথে সাথে রাজনৈতিক অঙ্গনে উত্তাপ বাড়ছে। একদিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের প্রস্তুতি নিচ্ছে, অন্যদিকে গোয়েন্দা প্রতিবেদনে উঠে এসেছে কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক ভয়ঙ্কর ‘আন্ডারগ্রাউন্ড’ অ্যাকশন প্ল্যান। দলটির তৃণমূল নেতা-কর্মীদের মাঝে ‘গোপন সংকেত’ পৌঁছানোর খবর পাওয়া গেছে, যার লক্ষ্য আগামী ১২ই ফেব্রুয়ারির নির্বাচনকে নসাৎ করা।


৪০ আসনে নাশকতার ব্লু-প্রিন্ট:
গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর তথ্যানুযায়ী, গোপালগঞ্জ, ফরিদপুর, মাদারীপুর, শরীয়তপুর, গাজীপুর, নড়াইল ও বাগেরহাটসহ আওয়ামী লীগের একসময়ের শক্ত ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত ৪০টি আসনে দলটির ক্যাডাররা বড় ধরণের নাশকতার ছক এঁকেছে। আত্মগোপনে থাকা সাবেক মন্ত্রী-এমপিদের অর্থায়নে এই চোরাগুপ্তা হামলার পরিকল্পনা করা হচ্ছে বলে জানা গেছে। মূলত ৭টি জেলাকে ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে মাঠ প্রশাসন।


নির্বাচন ভন্ডুলে ‘গুজব’ ও ‘সহিংসতা’ অস্ত্র:
প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, আওয়ামী লীগের এই কৌশলের প্রধান অংশ হলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে কৃত্রিম সংকট ও ব্যাপক গুজব ছড়িয়ে সাধারণ ভোটারদের মনে আতঙ্ক সৃষ্টি করা। এছাড়া ভোটকেন্দ্রে ভোটার উপস্থিতি কমানোর জন্য নির্বাচনের দিন আড়াই হাজার ‘অতি ঝুঁকিপূর্ণ’ কেন্দ্রে অগ্নিসংযোগ ও ককটেল বিস্ফোরণের মতো সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড ঘটানোর ছক রয়েছে তাদের।
সরকারের কঠোর ব্যুহ:
আওয়ামী লীগের এই ফ্যাসিবাদী পরিকল্পনা নসাৎ করতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইতিমধ্যে মাস্টারপ্ল্যান তৈরি করেছে:
            

  • ৭ লাখ নিরাপত্তা সদস্য: ৮ থেকে ১৪ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত সারাদেশে ৭ লাখের বেশি আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মোতায়েন থাকবে।
  • যৌথ অভিযান: অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার ও পলাতক সন্ত্রাসীদের ধরতে বিশেষ অভিযান শুরু হচ্ছে।
  • কড়া নজরদারি: ঝুঁকিপূর্ণ কেন্দ্রগুলো থাকবে সিসিটিভি ও ড্রোন নজরদারির আওতায়।


স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী সাফ জানিয়ে দিয়েছেন, যারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে বাধাগ্রস্ত করতে চাইবে, তাদের কোনোভাবেই ছাড় দেওয়া হবে না। আওয়ামী লীগের এই ‘নির্বাচন প্রতিহত’ করার অপচেষ্টাকে রাষ্ট্রদ্রোহিতা হিসেবে গণ্য করে কঠোর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

নির্বাচনকে উৎসবমুখর করতে সরকার বদ্ধপরিকর হলেও আওয়ামী লীগের এই ‘গোপন মিশন’ সাধারণ মানুষের মনে উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। তবে প্রশাসনের সজাগ দৃষ্টি ও জনগণের প্রতিরোধের মুখে তাদের এই নাশকতার ছক কতটুকু সফল হবে, তা এখন বড় প্রশ্ন।
তথ্যসূত্র ও কৃতজ্ঞতা: আমার দেশ

By Blens25

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *