নিজস্ব প্রতিবেদক, কসবা | ৭ জানুয়ারি, ২০২৬
কসবা (ব্রাহ্মণবাড়িয়া): ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় জেঁকে বসেছে হাড়কাঁপানো শীত। আজ বুধবার (৭ জানুয়ারি) কসবায় এই মৌসুমের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা রেকর্ড করা হয়েছে। কিন্তু হাড়কাঁপানো শীতের চেয়েও ভয়ংকর হয়ে দাঁড়িয়েছে কসবার বাতাস। গত মধ্যরাত থেকে কসবার বায়ুমান সূচক (AQI) ২১২ ছাড়িয়ে গেছে, যা চিকিৎসাবিজ্ঞানের ভাষায় ‘অত্যন্ত দূষিত’ বা ‘Heavily Polluted’। কসবার এই বিষাক্ত বাতাসের নেপথ্যে অবৈধ ড্রেজিং ও অনিয়ন্ত্রিত বালু উত্তোলনকে প্রধান কারণ হিসেবে দেখছেন সংশ্লিষ্টরা।

তথ্যচিত্রের ভয়াবহতা
সর্বশেষ পাওয়া ডিজিটাল এয়ার কোয়ালিটি ডেটা অনুযায়ী, কসবার বাতাসে অতি সূক্ষ্ম ধূলিকণা বা PM2.5 এর পরিমাণ এখন প্রতি ঘনমিটারে ১৩৭ মাইক্রোগ্রাম। এটি বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (WHO) নির্ধারিত সীমার চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, মধ্যরাত ২টা থেকে ভোর পর্যন্ত যখন কলকারখানা ও সাধারণ যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকে, ঠিক তখনই দূষণের মাত্রা সর্বোচ্চ (২১০+) দেখাচ্ছে। এটি ইঙ্গিত দেয় যে, রাতের আঁধারে পরিচালিত কোনো বড় কর্মকাণ্ডই এই দূষণের জন্য দায়ী।

ড্রেজিং ও দূষণের যোগসূত্র
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, কসবার বিভিন্ন জলাশয় ও নদী তীরবর্তী এলাকায় রাতের আঁধারে অবৈধ ড্রেজিং চালানো হচ্ছে। ড্রেজিংয়ের ফলে উৎপন্ন এই দূষণ মূলত কয়েকভাবে জনস্বাস্থ্যকে হুমকির মুখে ফেলছে:
       •শুষ্ক বালুর কণা: ড্রেজার দিয়ে উত্তোলিত বালু রাস্তার পাশে স্তূপ করে রাখায় তা রোদে ও বাতাসে শুকিয়ে অতি সূক্ষ্ম কণায় পরিণত হচ্ছে এবং বাতাসের সাথে মিশে যাচ্ছে।
       •রাতের ট্রাক চলাচল: অবৈধভাবে উত্তোলিত বালু পরিবহনের জন্য ব্যবহৃত কয়েকশ ফিটনেসবিহীন ট্রাক কসবার কাঁচা ও আধাপাকা রাস্তা দিয়ে চলাচল করছে। ত্রিপল ছাড়া বালু পরিবহনের ফলে পুরো উপজেলা ধুলার চাদরে ঢাকা পড়ছে। টহলে চোখে পরে পুলিশের গাড়িও।
       •ব্ল্যাক কার্বন: ড্রেজার মেশিন ও পুরনো ট্রাকের ইঞ্জিন থেকে নির্গত কার্বন কণা শীতের ঘন কুয়াশার সাথে মিশে ‘স্মগ’ বা বিষাক্ত ধোঁয়াশা তৈরি করছে।

বিপন্ন জনস্বাস্থ্য
বাতাসে PM2.5 এর মাত্রা ১৩৭ ছাড়িয়ে যাওয়ায় কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে শ্বাসকষ্ট, অ্যাজমা এবং ব্রঙ্কাইটিসে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। বিশেষ করে শিশু ও বৃদ্ধদের জন্য এই বাতাস আক্ষরিক অর্থেই প্রাণঘাতী হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কর্তৃপক্ষের নীরবতা
স্থানীয়দের অভিযোগ, অবৈধ ড্রেজিং বন্ধে প্রশাসনের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় অভিযান চালানো হলেও আড়ালে সক্রিয় রয়েছে প্রভাবশালী চক্র। রাতের আঁধারে চলা এই ‘ধুলার উৎসব’ বন্ধ না হলে কসবার পরিবেশগত বিপর্যয় অনিবার্য।
সম্পাদকীয় মন্তব্য (ব্ল্যাক লেন্স ২.০): আমরা তথ্যের সন্ধানে থাকি। কসবার বাতাস কেন বিষাক্ত হচ্ছে, তা নিয়ে আমাদের অনুসন্ধান চলবে। ড্রেজিং সিন্ডিকেটের নেপথ্যে কারা? বিস্তারিত আসছে আগামী প্রতিবেদনে…

By Blens25

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *