শাহানজিদ উদ্দিন সোহান, জেলা প্রতিনিধি (ঝিনাইদহ) | ব্ল্যাক লেন্স
তারিখ: ০৩ জানুয়ারি, ২০২৬|
আসন্ন ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঝিনাইদহ-১ (শৈলকুপা) আসন থেকে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষের প্রার্থী ও সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামানের দাখিলকৃত হলফনামা থেকে তাঁর অঢেল সম্পদ ও আয়ের তথ্য পাওয়া গেছে। ২০২৫-২৬ অর্থবছরের আয়কর রিটার্ন ও নির্বাচনী হলফনামার তথ্যানুযায়ী, আসাদুজ্জামান এক বছরেই আয়কর দিয়েছেন ২৭ লাখ ৬৩ হাজার ১৩৯ টাকা।
সম্পদ ও আয়ের খতিয়ান
হলফনামায় দেওয়া তথ্যানুসারে, মো. আসাদুজ্জামানের প্রদর্শিত মোট সম্পদের পরিমাণ ১১ কোটি ৯৩ লাখ ৫৯ হাজার ৩৩৩ টাকা। তার বাৎসরিক আয় দেখানো হয়েছে ৯৪ লাখ ৮০ হাজার ৫৮৭ টাকা। আয়ের উৎসগুলো বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়:
ব্যবসা থেকে আয়: ৭৩ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
বাড়ি ও স্থাবর সম্পত্তি: ১১ লাখ ৪৩ হাজার টাকা।
আইন পেশা: ৮ লাখ ৪০ হাজার ৩৮৬ টাকা।
ব্যাংক আমানত ও শেয়ার সঞ্চয়: ১ লাখ ৬৭ হাজার ২০১ টাকা।
নগদ টাকা ও স্থাবর সম্পদ
সাবেক এই অ্যাটর্নি জেনারেলের কাছে বর্তমানে নগদ রয়েছে ১৫ লাখ ৯ হাজার ৫৮২ টাকা। এছাড়া ব্যাংকে জমা আছে ১ কোটি ৩২ লাখ ৮৯ হাজার ৭৮৬ টাকা এবং সঞ্চয়পত্র রয়েছে ৩০ লাখ টাকার। তাঁর দুটি ব্যক্তিগত গাড়ি এবং ২০ তোলা স্বর্ণালঙ্কার রয়েছে (যা উপহার হিসেবে প্রাপ্ত বলে উল্লেখ করা হয়েছে)। ঢাকার সাভার, মোহাম্মদপুর ও উত্তরায় তাঁর নামে জমি ও বাড়ি রয়েছে।
পারিবারিক ও পেশাগত পরিচিতি
সিনিয়র আইনজীবী মো. আসাদুজ্জামান ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সময়ে গত ৮ আগস্ট বাংলাদেশের ১৭তম অ্যাটর্নি জেনারেল হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন। নির্বাচনে অংশ নিতে গত ২৭ ডিসেম্বর তিনি এই পদ থেকে পদত্যাগ করেন। ইতিপূর্বে তিনি বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা এবং দলের মানবাধিকার বিষয়ক সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
ব্যক্তিগত জীবনে তিনি দুই কন্যাসন্তানের জনক। তাঁর স্ত্রী শিরিন সুলতানা পেশায় একজন শিক্ষক। স্ত্রীর নামে ৫১ লাখ ১৫ হাজার ৯৪১ টাকার সম্পদ রয়েছে এবং তিনি বছরে ৫ লাখ ২৩ হাজার ৯৬০ টাকা আয় করেন। শিরিন সুলতানা এ বছর ৫ হাজার টাকা আয়কর দিয়েছেন।
শিক্ষাজীবন ও কর্মজীবন
শৈলকুপার বারইপাড়া গ্রামের সন্তান আসাদুজ্জামান ১৯৮৯ সালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে ভর্তি হন। এলএলবি ও এলএলএম সম্পন্ন করার পর ১৯৯৫ সালে আইনজীবী হিসেবে তালিকাভুক্ত হন এবং ২০০৫ সালে আপিল বিভাগের আইনজীবী হন। হলফনামায় তিনি উল্লেখ করেছেন, তাঁর নামে কখনো কোনো ফৌজদারি মামলা রুজু হয়নি।
ঝিনাইদহ-১ আসনে হেভিওয়েট এই প্রার্থীর অংশগ্রহণ নির্বাচনী লড়াইকে নতুন উচ্চতায় নিয়ে গেছে বলে মনে করছেন স্থানীয় রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।
নির্বাচনী হলফনামার আরও ইনসাইড স্টোরি ও চুলচেরা বিশ্লেষণ জানতে চোখ রাখুন Black Lens 2.0-তে।


