স্ব্ল্যাক লেন্স ২.০ তারিখ: ২৮ জানুয়ারি, ২০২৬ | কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
সাবেক সেনা সার্জেন্ট মোহাম্মদ শামীমের ওপর বর্বরোচিত ও পাশবিক নির্যাতনের ঘটনায় মামলা রুজু হওয়ার পর নড়েচড়ে বসেছে প্রশাসন। গত ২৬ জানুয়ারি (সোমবার) কসবার কায়েমপুর ইউনিয়নের চকবস্তা গ্রামে বাদশা জুয়েলকে ধরতে সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব ও বিজিবির সমন্বয়ে এক বিশাল যৌথ অভিযান পরিচালিত হয়েছে। তবে প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে অভিযানের ঠিক আগমুহূর্তে এলাকা ছেড়ে পালিয়ে গেছে এই মাদক সম্রাট ও চিহ্নিত সন্ত্রাসী।
মামলা দায়ের ও প্রাথমিক তদন্ত পুলিশ সূত্রে জানা গেছে, সার্জেন্ট শামীমকে পৈশাচিক কায়দায় জখম করার ঘটনায় তার পিতা বাদী হয়ে কসবা থানায় মামলা দায়ের করেন। প্রাথমিক তদন্তে ঘটনার সত্যতা পাওয়ার পরপরই থানা পুলিশ মামলাটি গুরুত্বের সাথে গ্রহণ করে (রজু হয়)। একজন সাবেক সেনা সদস্যের ওপর এমন হামলার ঘটনায় এলাকায় তীব্র জনরোষের সৃষ্টি হলে আসামিকে ধরতে যৌথ বাহিনীর সহায়তা নেওয়া হয়।
২৬ জানুয়ারির রুদ্ধশ্বাস অভিযান গত পরশু দিন, অর্থাৎ ২৬ জানুয়ারি বিকেলে চকবস্তা গ্রামটি হঠাৎ করেই যেন রণক্ষেত্রে পরিণত হয়। সেনাবাহিনী, পুলিশ, র্যাব এবং বিজিবির সদস্যরা গ্রামটির চারিদিক ঘিরে ফেলে। স্থানীয়দের দাবি, সাম্প্রতিক সময়ে কসবায় এত বড় সম্মিলিত অভিযান আর দেখা যায়নি। সাধারণ মানুষের মধ্যে স্বস্তি ফিরেছিল এই ভেবে যে, এবার হয়তো ‘বাদশাহ জুয়েল’ অধ্যায়ের সমাপ্তি ঘটবে।
আগাম খবরে পালানো ও রহস্যের জাল কিন্তু দীর্ঘ তল্লাশি শেষে যৌথ বাহিনীকে খালি হাতে ফিরতে হয়েছে। অনুসন্ধানে জানা গেছে, অভিযানের খবর আগেভাগেই জুয়েলের কানে পৌঁছে গিয়েছিল। প্রশ্ন উঠেছে, চারটি বাহিনীর এই গোপনীয় অভিযানের তথ্য কে বা কারা জুয়েলের কাছে ফাঁস করল?
ব্ল্যাক লেন্স ২.০-এর অনুসন্ধানে উঠে এসেছে, স্থানীয় কিছু প্রভাবশালী নেতার ‘আশীর্বাদ’ এবং প্রশাসনের ভেতরে থাকা সোর্সের সহযোগিতায় জুয়েল বার বার পার পেয়ে যাচ্ছে। গত ২৬ তারিখের অভিযানেও একই নাটকীয়তা দেখা গেল—যৌথ বাহিনী পৌঁছানোর কয়েক মুহূর্ত আগেই জুয়েল তার আস্তানা ত্যাগ করে গা ঢাকা দেয়।
আতঙ্কে কায়েমপুর ও চকবস্তাবাসী যৌথ বাহিনীর অভিযানের পর জুয়েল ধরা না পড়ায় এলাকায় এখন থমথমে অবস্থা বিরাজ করছে। ভুক্তভোগী পরিবারগুলো আরও বেশি নিরাপত্তাহীনতায় ভুগছে। স্থানীয়দের অভিযোগ, “জুয়েল এলাকায় নেই ঠিকই, কিন্তু তার বাহিনীর লোকেরা এখনো ওত পেতে আছে। প্রশাসন অভিযান চালিয়ে চলে যাওয়ার পর আমাদের ওপর হামলা হতে পারে।”
প্রশাসনের পরবর্তী পদক্ষেপ কসবা থানা পুলিশ জানিয়েছে, জুয়েল পলাতক থাকলেও তাকে ধরার জন্য সব ধরনের প্রচেষ্টা অব্যাহত রয়েছে। যৌথ বাহিনীর এই অভিযান একটি বার্তা মাত্র; অপরাধী যে-ই হোক, তাকে আইনের আওতায় আসতেই হবে।
ব্ল্যাক লেন্স ২.০ এই ঘটনার প্রতিটি পদক্ষেপ পর্যবেক্ষণ করছে। জনপদকে মাদক ও সন্ত্রাসমুক্ত করতে আমাদের কলম চলবে।


