
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবায় আবারও ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করেছে কুখ্যাত মাদক সম্রাট বাদশা জুয়েল ও তার সশস্ত্র বাহিনী। এবার তাদের বর্বরোচিত হামলার শিকার হয়েছেন দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকা সেনাবাহিনী থেকে সদ্য অবসরপ্রাপ্ত সার্জেন্ট মোহাম্মদ শামীম। অভিযোগ উঠেছে, ৫ লাখ টাকা চাঁদা না দেওয়ায় প্রকাশ্য দিবালোকে এই নৃশংস হামলা চালানো হয়। এ ঘটনায় এলাকায় তীব্র ক্ষোভ ও আতঙ্ক বিরাজ করছে।
নিজস্ব প্রতিবেদক, কসবা | ২১ জানুয়ারি, ২০২৬
নেপথ্যে তথ্যের যোগানদাতা ও চাঁদাবাজি
অনুসন্ধানে জানা যায়, সার্জেন্ট মোহাম্মদ শামীম ২০২৩ সালের শেষের দিকে সেনাবাহিনী থেকে অবসর গ্রহণ করেন। এরপর তিনি কায়েমপুর ইউনিয়নের কালতা গ্রামে নিজ পৈতৃক ভিটায় একটি ভবন নির্মাণের কাজ শুরু করেন। অভিযোগ রয়েছে, ওই ভবনের বৈদ্যুতিক ঠিকাদার হিসেবে কাজ করছিলেন পার্শ্ববর্তী চকবস্তা গ্রামের সিদ্দিক মেম্বারের ছেলে শামীম মিয়া। এই ঠিকাদারের মাধ্যমেই বাড়ির মালিকের আর্থিক সচ্ছলতার খবর পৌঁছে যায় মাদক সম্রাট জুয়েলের কানে। এরপর থেকেই জুয়েল ও তার বাহিনী সার্জেন্ট শামীমের কাছে ৫ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করে আসছিল।
দিনের আলোয় বর্বরোচিত হামলা ও নারী নির্যাতন
দাবিকৃত চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানানোয় আজ বুধবার (২১ জানুয়ারি) সকাল আনুমানিক ১১টার দিকে বাদশা জুয়েলের নেতৃত্বে ৩০-৪০ জনের একটি সশস্ত্র সন্ত্রাসী বাহিনী সার্জেন্ট শামীমের বাড়িতে অতর্কিত হামলা চালায়।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বর্ণনা অনুযায়ী, সন্ত্রাসীরা কেবল শামীমকে বেধড়ক পিটিয়ে জখম করেই ক্ষান্ত হয়নি, তারা শামীমের বোনকেও ঘর থেকে পা ধরে টেনে-হিঁচড়ে বের করে আনে। জনসম্মুখে তাকে শ্লীলতাহানি ও চরমভাবে লাঞ্ছিত করা হয়, যা মধ্যযুগীয় বর্বরতাকেও হার মানায়।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন প্রত্যক্ষদর্শী আতঙ্কের সুরে বলেন,
“জুয়েলের বাহিনীর সামনে কথা বলার সাহস কারো নেই। তারা প্রকাশ্যে এই হামলা চালিয়েছে। আমরা সাধারণ মানুষ কেবল চেয়ে চেয়ে দেখেছি, কারণ প্রতিবাদ করলে আমাদের অস্তিত্ব থাকবে না।”
পুলিশের ভূমিকা ও বর্তমান পরিস্থিতি
খবর পেয়ে কসবা থানা পুলিশ দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে এবং গুরুতর জখম অবস্থায় সার্জেন্ট শামীমকে উদ্ধার করে। বর্তমানে তিনি কসবা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
এ বিষয়ে কসবা থানা পুলিশের সাথে যোগাযোগ করা হলে তারা জানান, পুলিশ ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছে। বর্তমানে ঘটনাটির প্রাথমিক তদন্ত চলছে এবং তদন্ত শেষে খুব দ্রুত নিয়মিত মামলা রুজু করা হবে। ঘটনার পর থেকে কালতা গ্রাম ও আশেপাশের এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

