কসবা উপজেলা যুবদল নেতা শাহিদুল খাঁ - ব্ল্যাক লেন্স ২.০ছবি: Black Lens 2.0 © শাহিদুল খাঁ।


এক্সিকিউটিভ এডিটর | আকিবুল ইসলাম | ব্ল্যাক লেন্স ২.০

১১ জানুয়ারি, ২০২৬

কসবা-আখাউড়া: দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ক্ষণগণনা শুরু হলেও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-০৪ (কসবা-আখাউড়া) আসনে নির্বাচনী উত্তাপের চেয়ে অভ্যন্তরীণ কোন্দলের উত্তাপই এখন চরমে। বিএনপির দুই হেভিওয়েট প্রার্থী মুশফিকুর রহমান এবং সম্প্রতি মনোনীত বিকল্প প্রার্থী কবির আহমেদ ভূঁইয়াকে নিয়ে তৃণমূলে চলছে নানামুখী সমীকরণ। তবে প্রচার-প্রচারণার মাঠে প্রার্থীদের অনুপস্থিতি আর বির্তকিত ব্যক্তিদের সঙ্গে সখ্যতা নিয়ে সাধারণ ভোটারদের মাঝে তৈরি হয়েছে চরম ক্ষোভ ও হতাশা।

ভোটারদের দ্বারে নেই প্রার্থী: আক্ষেপের সুর
নির্বাচনী এলাকায় ঘুরে দেখা গেছে, ধানের শীষের দুই প্রার্থীর কেউই এখন পর্যন্ত সাধারণ ভোটারদের কাছে সেভাবে পৌঁছাতে পারেননি। স্থানীয় ভোটারদের অভিযোগ, প্রার্থীরা জনগণের সুখ-দুঃখের কথা শোনার চেয়ে নিজেদের মধ্যকার ‘মনোনয়ন যুদ্ধ’ নিয়েই বেশি ব্যস্ত।

এক সচেতন ভোটার ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন,

“নির্বাচনের আগেই যদি তাদের সাথে জনগণের যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন থাকে, তবে নির্বাচিত হলে তারা আমাদের কথা শুনবেন—তার গ্যারান্টি কী?”

অপর এক ভোটারের মতে, প্রার্থীদের মধ্যকার দ্বন্দ্ব এখনো মেটেনি, তারা জনগণকে নির্বাচনী দর্শন দেবেন কখন?


বিতর্কিত সঙ্গ ও ‘ভরাডুবির’ শঙ্কা
কবির আহমেদ ভূঁইয়ার প্রচারণার ধরন নিয়েও উঠেছে গুরুতর প্রশ্ন। স্থানীয় বিএনপি সমর্থকদের দাবি, কবির ভূঁইয়া সাধারণ নেতাকর্মীদের চেয়ে স্থানীয় কিছু চিহ্নিত অপরাধীদের সহ অপরাধীদের এলাকায়  নিজ দলীয় প্রার্থীর সমালোচনায় বেশি ব্যস্ত।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একজন বিএনপি সমর্থক বলেন,

“তিনি বারবার শুধু তিনলাখপীর আর কাইয়েমপুর এলাকায় যাচ্ছেন। কিন্তু সেখানে তার দুই পাশে যাদের দেখা যায়, তাদের একজন চিহ্নিত ভূমিদস্যু এবং অন্যজন মাদক সম্রাট হিসেবে পরিচিত। এমন বির্তকিত ব্যক্তিদের নিয়ে প্রচারণা চালালে বিএনপির নিশ্চিত ভরাডুবি হবে।”


যাচাইবাছাইয়ে হট্টগোল ও নেতিবাচক রাজনীতি
গত ৩ জানুয়ারি জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ে হলফনামা যাচাইবাছাইয়ের সময় কসবা উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক শরীফুল হক স্বপনের আচরণ নিয়ে জেলা ও স্থানীয় রাজনৈক অঙ্গনজুড়ে সমালোচনা চলছে। নিজ দলীয় ধানের শীষের প্রার্থী মুশফিকুর রহমানের মনোনয়ন নিয়ে আপত্তি তুলে তিনি যেভাবে বাকবিতণ্ডা ও হট্টগোল সৃষ্টি করেছেন, তাকে ‘অপরাজনীতি’ হিসেবে দেখছেন সচেতন অনেক যুবদল ও ছাত্রদল নেতা-কর্মীরা। এই ঘটনার ভিডিও টি দেখতে ক্লিক করুন


সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শাহিদুল হকের বার্তা
দলের এই অভ্যন্তরীণ কাদা ছোঁড়াছুড়ি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন উপজেলা যুবদলের আরেক নেতা শাহিদুল খা। নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক একাউন্ট থেকে অত্যন্ত দুঃখেরসহিত তিনি নেতাকর্মীদের আত্মশুদ্ধির আহ্বান জানিয়ে লিখেছেন:

“আমরা যারা দুই প্রার্থীকে নিয়ে নোংরামিতে লিপ্ত, আমরা কি ধানের শীষের ক্ষতি করছি না? অপরপক্ষ যখন প্রচারণায় ব্যস্ত, আমরা তখন নিজেদের ছোট করতে ব্যস্ত। দয়া করে এসব বন্ধ করুন।”

মাঠ পর্যায়ে দেশের অন্যতম বৃহৎ রাজনৈতিক দলের নির্বাচনের শেষপ্রান্তে এসে স্থানীয়ভাবে দলীয় ঐক্যের আহ্বান প্রত্যক্ষ কিংবা পরোক্ষভাবে করে যাচ্ছে অনেক নেতাকর্মী ও সমর্থকেরা। কেউ কেউ আক্রমণাত্বক এই উত্তপ্ত বাক্য ছোড়াছুড়ি নিয়ে দলীয় ভাবমূর্তি খুন্নের ইঙ্গিত দিচ্ছেন। তবে তৃণমূলের এই নেতা কর্মীরা দলকে সামনে রেখে আসন জয়ের প্রয়োজনে এক হয়ে নির্বাচনী কার্যক্রম পরিচালনার বিষয়টি অনুভব করলেও প্রার্থীদের এখনও সমঝোতায় আসার মনোভাব নিয়ে প্রশ্ন থেকেই যায়।

কসবা উপজেলা যুবদল নেতা শাহিদুল খাঁ - ব্ল্যাক লেন্স ২.০

By Blens25

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *