নিজস্ব প্রতিবেদক, কসবা | Black Lens 2.0
কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া: সীমান্তবর্তী এলাকা কসবার দক্ষিণ চকবস্তা গ্রামে টাস্কফোর্সের এক সাঁড়াশি অভিযানে বিপুল পরিমাণ অবৈধ ভারতীয় শাড়ি উদ্ধার করা হয়েছে। চোরাচালানের ‘ম্যাস ট্রানজিট’ হিসেবে পরিচিত এই এলাকায় অভিযান চালিয়ে হাতেনাতে আটক করা হয়েছে দুই সহোদর চোরাকারবারিকে।
যেভাবে পরিচালিত হলো অভিযান
গোপন সংবাদের ভিত্তিতে ৬০ বিজিবি সুলতানপুরের হাবিলদার মেডিক্যাল সহকারী সফিকের নেতৃত্বে বিজিবি সদস্যরা দক্ষিণ চকবস্তার একটি চিহ্নিত বাড়ি ঘেরাও করেন। পরবর্তীতে কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সামিউল ইসলামকে বিষয়টি জানানো হলে দ্রুত টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। ইউএনও’র উপস্থিতিতে ওই বাড়িতে তল্লাশি চালিয়ে অবৈধভাবে সীমান্ত পাড়ি দিয়ে আসা বিপুল পরিমাণ ভারতীয় শাড়ি জব্দ করা হয়।
আটককৃতদের পরিচয় ও রাজনৈতিক যোগসূত্র
অভিযানে আটককৃতরা হলেন দক্ষিণ চকবস্তা গ্রামের মৃত মোঃ ধন মিয়া সর্দারের দুই ছেলে
- মোঃ মনির হোসেন (২৬)
- মোঃ আনোয়ার হোসেন (৩২)।

প্রশাসনের হুঁশিয়ারি
অভিযান শেষে কসবা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) সামিউল ইসলাম চোরাকারবারিদের উদ্দেশ্যে কঠোর বার্তা প্রদান করেন। তিনি বলেন:
“আমরা আপনাদেরকে এই অবৈধ পথ থেকে সরে এসে বৈধ পথে উপার্জনের আহ্বান জানাচ্ছি। সীমান্ত দিয়ে অবৈধ পণ্য চোরাচালান ও কালোবাজারি রোধে প্রশাসনের এই কঠোর অবস্থান অব্যাহত থাকবে।“
Black Lens 2.0-এর অনুসন্ধানে ও স্থানীয় সূত্রে চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে যে, আটককৃতদের মধ্যে আনোয়ার হোসেন স্থানীয় ব্রাহ্মণবাড়িয়া ৪ আসনের ধানের শীষের বিকল্প প্রার্থী এবং জেলা বিএনপি সদস্য কবির আহমেদ ভূঁইয়ার (যিনি জেলা বিএনপির সভাপতি পদপ্রার্থী ছিলেন) একজন সক্রিয় সমর্থক হিসেবে এলাকায় পরিচিত। একের পর এক বিতর্কিত অপরাধের সাথে রাজনৈতিক এই ব্যক্তির যোগসূত্র এলাকায় ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে।

ব্ল্যাক লেন্স অবজারভেশন: নেপথ্যে গডফাদারদের ছায়া
অনুসন্ধানে দেখা গেছে, দক্ষিণ চকবস্তা এলাকাটি বর্তমানে মাদক সম্রাট বাদশা জুয়েলসহ একাধিক শীর্ষ কালোবাজারির প্রধান ট্রানজিট রুট। স্থানীয় প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ছত্রছায়ায় এই সিন্ডিকেটটি দীর্ঘ দিন ধরে সক্রিয়। আজকের অভিযানে দুই বাহক আটক হলেও এবং রাজনৈতিক পরিচয় সামনে আসলেও, পর্দার আড়ালের মূল হোতারা কতদিন ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকে—সেটাই এখন দেখার বিষয়।

