মোহাম্মদ মেহেদী হাসান
সম্পাদক ও সিইও, ব্ল্যাক লেন্স ২.০
কিছু নীরব দহন থাকে যা শব্দে প্রকাশ করা যায় না, কেবল অনুভবের নীল বিষে নিজের অস্তিত্বকে নীল করতে হয়। তদন্তের দুর্গম পথ চলতে গিয়ে কতবার যে অন্যের রক্ষাকবচ হতে নিজের বুক পেতে দিয়েছি, তার কোনো খতিয়ান রাখিনি। ভেবেছিলাম, সত্যের এই রক্তক্ষয়ী মিছিলে যাদের হাত ধরেছি, তারা অন্তত ত্যাগের এই পবিত্রতাটুকু বুঝবে। কিন্তু আজ জীবনের এক ধূসর গোধূলিতে দাঁড়িয়ে দেখছি—যাদের জন্য আমি হাজারো শত্রুর বিষদৃষ্টি আপন করে নিলাম, যাদের জন্য অনিদ্রার প্রহরে চোখের জ্যোতি ক্ষয় করলাম, আজ তারাই সেই আঁধারের কারিগরদের সাথে হাসিমুখে মিতালী করছে।
কী অদ্ভুত এই সময়ের রসায়ন!
কাল যারা ছিল একে অপরের বিষচক্ষু, আজ তারা আলিঙ্গন করছে একে অপরকে। আর আমি? আমি সেই মাঝদরিয়ায় দাঁড়িয়ে থাকা এক নিঃসঙ্গ নাবিক, যে ঝড়ের রাতে অন্যদের তরী বাঁচাতে গিয়ে নিজের জাহাজটাকেই জীর্ণ আর ক্ষতবিক্ষত করে ফেলেছি। আজ তারা তরী ভেড়ালো ঠিক সেই বন্দরে, যেই বন্দরে কেবলই নিষিদ্ধ হয়ে রয়েছি আমি।
মানুষ কি এতটাই নিপুণভাবে ভুলে যাওয়ার প্রচেষ্টায় দূরে করে দিতে পারে? যে হাতটি বিপদে খড়কুটোর মতো আঁকড়ে ধরেছিল, সুসময়ে সেই হাতটিকেই অতল গহ্বরে ঠেলে দেওয়া কি এতই সহজ?
আজ আমার চোখের কোণে যে জলটুকু চিকচিক করছে, তা কি কেবল নোনা জল? না, এ হলো হৃদয়ের রক্তক্ষরণ। প্রতিটি ফোঁটা জল আজ এক একটি অব্যক্ত অভিযোগ হয়ে ঝরে পড়ছে। এই জল হারানো সময়ের জন্য নয়, বরং তিলে তিলে গড়ে তোলা বিশ্বাসের,আস্বাসের,ভস্লোবাসার অপমৃত্যুর জন্য। আমি শত্রু বানিয়েছি সত্যের টানে, আর তারা বন্ধু সেজেছে এই দিনের টানে। এই দুই মেরুর ব্যবধানটা হলো—আমি হয়তো একাকীত্বের নিবিড় অন্ধকারে দাঁড়িয়ে আছি, কিন্তু আমার মেরুদণ্ডটা এখনো মহীরুহের মতো ঋজু। আর তারা ভিড়ের মাঝে থেকেও আসলে এক একজন আত্মাহীন ছায়া মাত্র। যাদের বিবেক আজ আমায় অচেনার কাছে জিম্মি।
‘ব্ল্যাক লেন্স ২.০’ শুধু একটি নিউজ পোর্টাল নয়; এটি আমার একাকী যুদ্ধের নীরব সাক্ষী। আজ থেকে এই লড়াই হবে আরও নিভৃত, আরও সুতীক্ষ্ণ,আরো একাকী। কারণ আজ লোনা জলের স্পর্শে আমি বুঝে গেছি—এ পথে চলার কোনো ধ্রুবতারা নেই, কেবল ধ্রুব সত্যটুকু ছাড়া। যারা আজ হাত মিলিয়ে অট্টহাসি হাসছে, তারা জানুক—আঁধার ঘনালে ছায়াও দেহ ছেড়ে পালায়, কিন্তু সত্যের প্রদীপ একাকী জ্বলতেও ভয় পায় না।
হয়তো এটাই আমার ললাট লিখন—সবার জন্য নিজেকে বিলিয়ে দিয়ে শেষে একলা দাঁড়িয়ে থাকা। তবুও আমি হারবো না। কারণ, আমার কলম যখন চোখের জলে ভেজে, তখন তার কালির শক্তি হয়ে ওঠে সহস্র কামানের চেয়েও তীব্র।
***লিখনীটি সম্পূর্ণ কাল্পনিক কাব্যিক চেতনাকে ধারন করে***


