নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্ল্যাক লেন্স ২.০ | কসবা, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
তারিখ: ৬ জানুয়ারি, ২০২৬
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা-আখাউড়া (ব্রাহ্মণবাড়িয়া-৪) নির্বাচনী এলাকায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের রাজনৈতিক প্রচারণার একটি ফটোকার্ড নিয়ে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে নতুন করে বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে। আওয়ামী লীগ বর্তমানে রাজনৈতিকভাবে নিষিদ্ধ থাকা সত্ত্বেও কুটি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ই. মো: ফারুক ইসলাম ভূঁইয়ার নামে প্রচারিত এই ডিজিটাল পোস্টারটি জনমনে নানা প্রশ্নের উদ্রেক করছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: অনুসন্ধানে জানা গেছে, সম্প্রতি ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া ফটোকার্ডটিতে আওয়ামী লীগের সাবেক নির্বাচনী প্রতীক ‘নৌকা’ এবং সাবেক প্রধানমন্ত্রী জুলাই গণহত্যার প্রধান শেখ হাসিনা ও সজীব ওয়াজেদ জয়ের ছবির পাশাপাশি আনিসুল হকের ছবি সংবলিত প্রচারণা দেখা যাচ্ছে। নিচে ‘শুভেচ্ছান্তে’ হিসেবে কুটি ইউনিয়ন চেয়ারম্যান ই. মো: ফারুক ইসলাম ভূঁইয়ার ছবি ও নাম যুক্ত রয়েছে। মূলত এটি ২০২৪ সালের ৫ই জানুয়ারির বিতর্কিত জাতীয় নির্বাচনের প্রাক্কালে তৈরি করা হয়েছিল।
ফারুক ভূঁইয়ার সম্পৃক্ততা: স্থানীয় সূত্র ও অনলাইন অ্যাক্টিভিস্টদের তথ্যমতে, ফারুক ইসলাম ভূঁইয়া ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের সময় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হকের ঘনিষ্ঠ ও আস্থাভাজন হিসেবে পরিচিত ছিলেন। ২০২৪ সালের নির্বাচনের সময় তিনি আইনমন্ত্রীর নির্বাচনী প্রচারণার অন্যতম অর্থদাতা এবং প্রভাবশালী সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করেছেন। তৎকালীন সময়ে তিনি নিজের ফেসবুক প্রোফাইল থেকে এবং কায়িক প্রচারণার মাধ্যমে আনিসুল হকের পক্ষে শক্ত অবস্থান নিয়েছিলেন।
বর্তমান পরিস্থিতি ও বিভ্রান্তি: ২০২৫ সালের মে মাসে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের নির্দেশে আওয়ামী লীগের সকল কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার পর বর্তমানে এই ধরণের প্রচারণামূলক ছবি বা ফটোকার্ড পুনরায় প্রচার হওয়াকে উস্কানিমূলক হিসেবে দেখছেন স্থানীয় সচেতন মহল। এই ফটোকার্ডটিতে কোনো সুনির্দিষ্ট তারিখ উল্লেখ না থাকায় সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হচ্ছেন। অনেকে মনে করছেন, নিষিদ্ধ হওয়ার পরেও কি গোপনে কার্যক্রম চালাচ্ছে আওয়ামী লীগ? নাকি এটি পুরাতন রাজনৈতিক সখ্যতার রেশ ধরে তৈরি কোনো পরিকল্পিত প্রচার?
সংশ্লিষ্টদের বক্তব্য: এ বিষয়ে কুটি ইউনিয়নের সাধারণ মানুষ বলছেন, “ফ্যাসিবাদ পতনের পরও যারা তাদের হয়ে প্রচারণা চালিয়েছেন এবং জনগণের অর্থ লুটপাটে সহায়তা করেছেন, তাদের এই ধরণের ছবি এখনো ইন্টারনেটে ভেসে বেড়ানো কাম্য নয়। এটি বর্তমান স্থিতিশীল পরিবেশকে ঘোলাটে করার চেষ্টা হতে পারে।”
উল্লেখ্য, ৫ আগস্টের ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের পর থেকে অনেক জন প্রতিনিধি আত্মগোপনে থাকলেও সাবেক আইনমন্ত্রীর আস্থাভাজন ফারুক ইসলাম ভূঁইয়ার মতো ব্যক্তিদের পুরাতন রাজনৈতিক কার্যক্রমের ডিজিটাল কন্টেন্টগুলো এখনো অপসারণ না করায় সাধারণ মানুষের মধ্যে ক্ষোভ ও বিভ্রান্তি বাড়ছে।
তথ্যসূত্র: ওয়াচডগ সোশ্যাল মিডিয়া মনিটরিং ও ব্ল্যাক লেন্স ২.০ ইনভেস্টিগেশন টিম।


