কুটি ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক ইসলাম ভুঁইয়া।ডিপ্লোমা ইঞ্জিনিয়ার ও সাবেক আওয়ামী দাতা সদস্য ফারুক ইসলাম ভুঁইয়া

জনসেবা নাকি অডিট ফাইল গায়ব করার ‘এক্সিট রুট’?


কোর কমিটি ইনভেস্টিগেশন টিম (HQ) | বিশেষ ফরেনসিক রিপোর্ট
তারিখ: ৬ জানুয়ারি, ২০২৬ | সময়: ভোর ০৯:০০ টা
কসবা, চট্টগ্রাম ডিভিশন
কসবা রাজনীতিতে ‘জনতুষ্টি’ বা পপুলিজম নতুন কিছু নয়। কিন্তু কসবার কুটি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান ফারুক ইসলাম ভূঁইয়া যা করেছেন, তাকে স্থানীয় সরকার বিশেষজ্ঞরা আখ্যা দিচ্ছেন ‘গাণিতিক ধৃষ্টতা’ হিসেবে। টানা ৪ বছরের হোল্ডিং ট্যাক্স মওকুফের ঘোষণা দিয়ে তিনি নিজেকে ‘আধুনিক হাতেম তাই‘ প্রমাণ করতে চাইছেন বটে, কিন্তু ব্ল্যাক লেন্সের ফরেনসিক আতশ কাঁচ বলছে ভিন্ন কথা। এটি কি শুধুই বদান্যতা, নাকি অডিট আপত্তি এড়াতে এবং পুরনো ক্যাশ বুকের গরমিল ঢাকতে নেওয়া এক নিপুণ ‘ফাইন্যান্সিয়াল ম্যানুভার’?
১. ‘রবিনহুড সিনড্রোম’ বনাম আইনের শাসন
স্থানীয় সরকার (ইউনিয়ন পরিষদ) আইন, ২০০৯ অনুযায়ী, রাজস্ব আদায় একটি ইউনিয়ন পরিষদের বাধ্যতামূলক কাজ, ঐচ্ছিক নয়। চেয়ারম্যান ফারুক ইসলাম ভূঁইয়ার এই ‘একক মওকুফ সিদ্ধান্ত’ প্রশাসনিক এখতিয়ার বহির্ভূত বলে মনে করছেন আইনজ্ঞরা।
* আইনি প্রশ্ন: জেলা প্রশাসকের লিখিত অনুমোদন ছাড়া ৪ বছরের রাজস্ব মওকুফ কি ‘ক্ষমতার অপব্যবহার’ (Abuse of Power)-এর পর্যায়ে পড়ে না?
* বাস্তবতা: বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি কোনো দয়া নয়, বরং রাষ্ট্রের পাওনা টাকা পকেটে রেখে বাহবা কুড়ানোর একটি ‘বেআইনি শর্টকাট’।
২. বাজেটের ‘ব্ল্যাক হোল’ ও ফিসকাল ক্যানিবালিজম (Fiscal Cannibalism)
উপজেলা বাজেট নথিপত্র (বাজেট ২০২৪-২৫) ব্যবচ্ছেদ করলে দেখা যায়, কুটি ইউনিয়নের নিজস্ব আয়ের কলামটি আশঙ্কাজনক।
* ফরেনসিক অডিট ইনসাইট: হোল্ডিং ট্যাক্স যখন শূন্য, তখন পরিষদের সচিবের বেতন, গ্রাম পুলিশ বা দৈনন্দিন আপ্যায়ন ব্যয় আসছে কোথা থেকে?
* অস্বচ্ছতার ইঙ্গিত: প্রবল ধারণা করা হচ্ছে, সরকারি থোক বরাদ্দ (Block Grants) বা উন্নয়ন খাতের টাকা ‘ডাইভারশন’ করে রাজস্ব খাতের ব্যয় মেটানো হচ্ছে। অডিট পরিভাষায় একে বলা হয় ‘ফিসকাল ক্যানিবালিজম‘—যেখানে উন্নয়নের টাকা দিয়ে প্রশাসনিক পেট চালানো হয়।
৩. ব্ল্যাক লেন্স ফ্যাক্ট-চেক: উন্নয়নের নামে ‘ভোজবাজি’?
ফারুক ইসলাম ভূঁইয়ার ‘ট্যাক্স মওকুফ‘-এর মহানুভবতার আড়ালে লুকিয়ে থাকা আসল ‘খনি’গুলো বের করে এনেছে আমাদের ইনভেস্টিগেশন টিম। নিচে সাম্প্রতিক ৩টি বিতর্কিত প্রকল্পের ফরেনসিক বিশ্লেষণ দেওয়া হলো:

তিন বিতর্কিত প্রকল্প।



৪. অডিট আতঙ্ক: ‘শূন্য’ দেখলেই কি হিসাব শেষ?
একজন অভিজ্ঞ চার্টার্ড অ্যাকাউন্ট্যান্টের মতে, “যখনই কেউ বকেয়া আদায়ে অনীহা দেখায় বা পাইকারি হারে মওকুফ করে, তখন বুঝতে হবে পেছনের লেজার বুকে বড় কোনো গরমিল আছে”।
* কৌশল: ট্যাক্স কালেকশন ‘নিল’ (Nil) দেখালে অডিট করার মতো কোনো ভাউচারই থাকে না। ফারুক ভূঁইয়া কি তবে এই ‘সেফ এক্সিট’ স্ট্র্যাটেজিই বেছে নিলেন?
* সহজ আয়ের পথ: বাড়ি বাড়ি গিয়ে ১০০ টাকা ট্যাক্স তোলার চেয়ে, একটি ভুয়া প্রকল্পের ফাইলে সই করে ১ লাখ টাকা ‘কমিশন’ বের করা অনেক বেশি আরামদায়ক।
ব্ল্যাক লেন্স কনক্লুশন (Satirical Twist):
কুটি ইউনিয়নে আসলে কোনো জাদুকর নেই, আছেন একজন দক্ষ ‘ফাইন্যান্সিয়াল ইলিউশনিস্ট’। তিনি এক হাতে ট্যাক্স মওকুফের ললিপপ ধরিয়ে দিয়েছেন, আর অন্য হাতে প্রকল্পের টাকার বস্তা গায়েব করছেন। কুটি ইউনিয়নের জনগণ হাততালি দিচ্ছে ঠিকই, কিন্তু তারা জানে না—বিনা পয়সায় চিজ কেবল ইঁদুর ধরার ফাঁদেই পাওয়া যায়!

কুটি ইউপি চেয়ারম্যান ফারুক ইসলাম ভুঁইয়া।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *