নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্ল্যাক লেন্স ২.০
ব্রাহ্মণপাড়া, কুমিল্লা | ৪ জানুয়ারি, ২০২৬
ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার মাধবপুর এলাকায় সম্প্রতি এমন কিছু ঘটনা ঘটেছে যা জনমনে গভীর উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে। দৃশ্যত সাধারণ ব্যবসা ও মৎস্য আড়তের আড়ালে একটি চক্র এলাকায় ত্রাসের রাজত্ব কায়েম করছে বলে স্থানীয়দের অভিযোগ। অনুসন্ধানে উঠে এসেছে মাদক ব্যবসা, শারীরিক লাঞ্ছনা এবং সবশেষে ‘সাইবার বুলিং’-এর এক ভয়ংকর সংমিশ্রণ।
ঘটনার প্রেক্ষাপট: অভিযোগের তীর জিলানী খানের দিকে
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, মাধবপুর গ্রামের মোঃ জিলানী খান (৩২)-এর গতিবিধি নিয়ে এলাকাবাসীর মধ্যে দীর্ঘদিনের সন্দেহ রয়েছে। সম্প্রতি একটি অপ্রীতিকর ঘটনায় জিলানী খানকে স্থানীয়রা হাতেনাতে ধরে ফেলে বলে দাবি করা হয়। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এবং সামাজিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সেখানে উপস্থিত হয়েছিলেন সাবেক ইউপি মেম্বার মিঠু মিয়া এবং সংবাদ সংগ্রহের জন্য গিয়েছিলেন সাংবাদিক দ্বীন ইসলাম।
আক্রমণাত্মক পাল্টা কৌশল ও ‘মামলা’ বিতর্ক
অভিযোগ উঠেছে, পেশাগত দায়িত্ব পালন ও সত্য তুলে ধরায় ক্ষিপ্ত হয়ে জিলানী খান তার অনুসারীদের নিয়ে সাংবাদিক ও সাবেক মেম্বারের ওপর চড়াও হন। শুধু শারীরিক লাঞ্ছনাই নয়, বরং পরবর্তীতে কৌশলগতভাবে উল্টো তাদের বিরুদ্ধেই ‘চাঁদাবাজি’র অভিযোগ এনে মামলা দায়ের করা হয়েছে। স্থানীয় সচেতন মহলের মতে, এটি মূলত সত্য ধামাচাপা দেওয়ার একটি পুরনো আইনি কৌশল।
ডিজিটাল সন্ত্রাস: পরিচয় চুরির নেপথ্যে কে?
তদন্তে একটি চাঞ্চল্যকর তথ্য বেরিয়ে এসেছে। সাবেক মেম্বার মিঠু মিয়ার নাম ও ছবি ব্যবহার করে একটি ভুয়া ফেসবুক আইডি খুলে সামাজিকভাবে তাকে হেয় করার চেষ্টা চালানো হচ্ছে। ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন লঙ্ঘনের এই পর্যায়টি ইঙ্গিত দেয় যে, এই চক্রটি কেবল মাঠ পর্যায়ে নয়, বরং সাইবার স্পেসেও দক্ষ এবং প্রভাবশালী।
প্রশাসনের ভূমিকা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন
বারবার অভিযোগ করার পরেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর রহস্যজনক নীরবতা নিয়ে প্রশ্ন তুলছেন স্থানীয়রা। জিলানী খান প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছেন—এমন দাবি থাকা সত্ত্বেও পুলিশের পক্ষ থেকে দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না পাওয়ায় জনমনে এক ধরণের নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এলাকাবাসী প্রশ্ন তুলেছেন, একজন সাধারণ ব্যবসায়ী কীভাবে আইনের চোখকে ফাঁকি দিয়ে এমন বেপরোয়া আচরণ করার সাহস পান?


