নিজস্ব প্রতিবেদক, ব্ল্যাক লেন্স ২.০ | আখাউড়া
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আখাউড়া সীমান্তে মাদকবিরোধী অভিযানে মাঝেমধ্যে চুনোপুঁটি ধরা পড়লেও আড়ালেই থেকে যাচ্ছে মাদকের মূল হোতারা। সম্প্রতি উপজেলার উত্তর ইউনিয়ন থেকে ১৯০০ পিস ইয়াবাসহ রাব্বি নামক এক মাদক কারবারি ধরা পড়ার পর এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে। তবে স্থানীয়দের দাবি, রাব্বির মতো ছোট ছোট বাহক বা ‘ডেলিভারিম্যান’ ধরা পড়লেও এই ব্যবসার গডফাদাররা এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে।
অনুসন্ধানে বেরিয়ে আসা চাঞ্চল্যকর তথ্য:
গোপন সূত্র এবং স্থানীয়দের কাছ থেকে প্রাপ্ত তথ্যে বেশ কিছু প্রভাবশালী মাদক কারবারির নাম উঠে এসেছে, যারা সীমান্ত এলাকা ব্যবহার করে কোটি কোটি টাকার মাদকের সাম্রাজ্য গড়ে তুলেছে। অনুসন্ধানে জানা যায়, দক্ষিণ মিনারকোট ও হারকুট এলাকায় মাদকের এই সিন্ডিকেট নিয়ন্ত্রণ করছে কতিপয় প্রভাবশালী ব্যক্তি।


স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এই সিন্ডিকেটের অন্যতম হোতা হিসেবে কালো মিয়া ওরফে আইয়ুব আলী (পিতা- বুদ্ধুদ আলী) এবং মামুন (পিতা- কুদ্দুস মিয়া) এর নাম উঠে এসেছে। অভিযোগ রয়েছে, তারা দীর্ঘদিন ধরে সীমান্ত এলাকা দিয়ে ইয়াবা ও অন্যান্য মাদকের বড় বড় চালান নিয়ে আসছে। এছাড়া আবু কালাম মিয়া স্থানীয় মাদকের ডিলার এই সিন্ডিকেটের সাথে ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
আঙুল ফুলে কলাগাছ:
স্থানীয়রা ক্ষোভের সাথে জানান, মাত্র কয়েক বছরের ব্যবধানে এই সিন্ডিকেটের সদস্যরা ‘শূন্য থেকে হিরো’ বনে গেছেন। জিরো থেকে আজ তারা কোটি কোটি টাকার মালিক। তাদের বিলাসবহুল জীবনযাপন ও রাতারাতি সম্পদ বৃদ্ধির উৎস নিয়ে জনমনে নানা প্রশ্ন উঠলেও ভয়ে কেউ মুখ খোলার সাহস পায় না।
সীমান্তের চিত্র ও স্থানীয়দের হাহাকার:
আখাউড়ার হারকুট, মিনারকোট ও তুলাইশিমুল সীমান্ত এলাকাগুলো এখন মাদকের নিরাপদ রুট হিসেবে পরিচিত। সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমেও স্থানীয় সচেতন নাগরিকদের হাহাকার চোখে পড়ার মতো। এক ক্ষুব্ধ গ্রামবাসী জানান,
”মাদক ব্যবসায়ীরা এলাকার ভারসাম্য নষ্ট করে দিচ্ছে। রক্ষক যখন ভক্ষক হয়, তখন আমরা কোথায় যাবো? প্রশাসনের নাকের ডগায় এসব চললেও রাঘববোয়ালরা সবসময় ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যায়।”
প্রশাসনের প্রতি দাবি:
আখাউড়ার বর্ডার এলাকার সচেতন মহল মনে করেন, শুধু রাব্বির মতো ছোট কারবারিদের ধরে মাদক নির্মূল সম্ভব নয়। মাদকের এই শেকড় উপড়ে ফেলতে হলে কালো মিয়া, মামুন, শরিফ ও আনিছের মতো মূল হোতাদের আইনের আওতায় আনা জরুরি। বর্ডার এলাকায় গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে এই অঞ্চলকে মাদকমুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন এলাকাবাসী।
এই বিষয়ে প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের হস্তক্ষেপ কামনা করছে স্থানীয় সচেতন সমাজ।

